মেসির জোড়া গোল, চূড়ান্ত দাপট দেখিয়ে বোলিবিয়াকে ওড়াল আর্জেন্তিনা

0

আর্জেন্তিনা ৪ (গোমেজ, মেসি ২, মার্তিনেজ) বোলিবিয়া ১ (সাবেদ্রা)

খবরঅনলাইন ডেস্ক আয়োজক দেশ ব্রাজিল যে দাপটটা দেখিয়েছিল, সেটা কিছুতেই দেখা যাচ্ছিল না তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্তিনার কাছে। অবশেষে নিজেদের পুরনো ছন্দে দেখা গেল তাদের। বোলিবিয়াকে চার গোলের মালা পরাল তারা। এরই মধ্যে জোড়া গোল করে নজর কাড়লেন লিওনেল মেসি।

তবে বোলিবিয়া চার গোল খেয়েছে, এই পরিসংখ্যানটা বললে আর্জেন্তিনার দাপটের ব্যাপারে বেশি কিছু বোঝাই যাবে না। আসলে গোটা ম্যাচে অন্তত ১৩টা গোল করতে পারত আর্জেন্তিনা। শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের অভাবে আরও ন’টা গোলের সুযোগ হেলায় হারাল তারা। আবার আক্রমণকে শক্তিশালী করতে গিয়ে ডিফেন্স কিছুটা নড়বড়ে এবং আত্মতুষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলেই একটা গোলও খেয়ে ফেলল তারা।

স্থানীয় সময় সোমবার রাতে ম্যাচের শুরুতেই মেসি ম্যাজিক। আঙ্খেল কোরিয়া পাস বাড়ান মেসিকে। বল পেয়ে ফুটবলের রাজপুত্র তা তুলে দেন সতীর্থ আলেখান্দ্রো গোমেজের উদ্দেশে। বল পেয়ে সময় নষ্ট করেননি গোমেজ। ভলি মেরে ৬ মিনিটের মাথায় এগিয়ে দিলেন আর্জেন্তিনাকে।

৩৩ মিনিটে মস্ত বড়ো ভুল করে ফেলেন বোলিবিয়ার আদ্রিয়ান খুসিনো। নিজেদের বক্সে গোমেজের পায় মারেন তিনি। পেনাল্টি পেয়ে যায় আর্জেন্তিনা। এ বার আর সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি মেসি। ৩৩ মিনিটের মাথায় ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্তাইনরা।

ব্যবধান আরও বাড়ে ৪২ মিনিটে। বিরতিতে যাওয়ার আগে ফের মেসি ম্যাজিক। এ বার মেসিকে পাস বাড়ান সের্খিয়ো আগুয়েরো। বল তুলে দেন বোলিবিয়ার রক্ষণের ওপর দিয়ে। সেই বল ধরার চেষ্টা না করে ভলি মেরে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেন মেসি। জালে জড়িয়ে যায় বল।

আত্মতুষ্টির জন্য গোল হজম

আক্রমণ বিভাগে আর্জেন্তিনা এতটাই দাপট দেখাচ্ছিল যে রক্ষণে আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ে তারা। আর এই কারণেই একটি গোলও হজম করতে হয় তাদের। ৬০ মিনিটের মাথায় একটা গোল শোধ করে বোলিবিয়া। গোল করেন এরউইন সাবেদ্রা। তাঁকে পাস বাড়িয়েছিলেন জুসিনো। বিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেওয়ার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন তিনি দলের গোলে অবদান রেখে।

তবে এই গোলের জেরে আর্জেন্তিনা দমে যাওয়া তো দূর, আরও ব্যাপক ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বোলিবিয়ার উদ্দেশে। ৬৪ মিনিটের মাথায় আগুয়েরোকে তুলে নিয়ে লাউতারো মার্তিনেজকে নামান প্রশিক্ষক লিয়োনেল স্কালোনি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে আক্রমণ ভাগের ফুটবলারদের দেখে নেওয়ার চেষ্টা।

প্রশিক্ষককে নিরাশ করেননি মার্তিনেজ। নামার এক মিনিটের মধ্যে স্কোরবোর্ডে নাম তুললেন তিনি। ৬ গজের বক্সের মধ্যে জটলার মধ্যে থেকে বল পেয়ে যান মার্তিনেজ। আরও একটা গোল পেয়ে যেতেই পারতেন তিনি। কিন্তু বোলিবিয়ার গোলরক্ষকের সুবাদে সেটা আর হয়নি।

এ বারের প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচে চিলের কাছে আটকে গিয়েছিল আর্জেন্তিনা। ১-১ গোলে ড্র হয় সেই ম্যাচ। পরের ম্যাচেই শক্তিশালী উরুগুয়েকে হারিয়ে দেন মেসিরা। জয় আসে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধেও। তবে বোলিবিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের সেরা দাপট দেখাল আর্জেন্তিনা। ভক্তরা চান এই কোপার ফাইনাল জেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল এবং আর্জেন্তিনার মধ্যেই হয়।

আরও পড়তে পারেন মহা অঘটন! সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ইউরো থেকে বিদায় নিল ফ্রান্স

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন