চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছর পর কোপা ট্রফি ঘরে তুলল আর্জেন্তিনা

0
কোপা ট্রফি ঘরে তুলল আর্জেন্তিনা।
কোপা ট্রফি ঘরে তুলল আর্জেন্তিনা। ছবি Copa America Twitter থেকে নেওয়া।

আর্জেন্তিনা ১ (আনখেল দি মারিয়া) ব্রাজিল ০

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আক্ষরিক অর্থেই সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি। সেই কোলাকুলিতে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করল আর্জেন্তিনাই। এই নিয়ে কোপা আমেরিকায় (গোড়ায় ছিল সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ) ১৫ বার চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্তিনা। এ ব্যাপারে তারা উরুগুয়েকে ছুঁয়ে ফেলল। উরুগুয়েও ১৫ বার কোপা ট্রফি ঘরে তুলেছে।    

Shyamsundar

আর এ বার নিয়ে মোট ১০৩ বার মুখোমুখি হল আর্জেন্তিনা ও ব্রাজিল। দু’টি দেশই ৩৯ বার করে জিতল।  

মারাকানা স্টেডিয়ামে ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে (স্থানীয় সময় রাত ৯টায়) অনুষ্ঠিত খেলায় আনখেল দি মারিয়ার গোলে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারাল আর্জেন্তিনা

২৮ বছরের খরা কাটল। কোপা আমেরিকা ট্রফি গেল আর্জেন্তিনায়। ১৯৯৩-এর পরে আর চ্যাম্পিয়ন হয়নি আর্জেন্তিনা। এর পর ২০১৯ পর্যন্ত ১০ বার কোপা আমেরিকার খেলা হয়েছে। তার মধ্যে চার বার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্তিনা – ২০০৪, ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬। কোনো বারই তারা ট্রফি জিততে পারেনি। এর মধ্যে দু’ বার হারে ব্রাজিলের কাছে, দু’ বার হারে পেরুর কাছে।

দুর্ভাগ্য কাটল মেসিরও

মেসিকে নিয়ে উল্লাস।ছবি Copa America Twitter থেকে নেওয়া।

আর মেসির ভাগ্যটাও খুলল। এত বড়ো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন খেলোয়াড় মেসি, কিন্তু দেশের হয়ে কোনো দিনই কোনো ট্রফি আনতে পারেননি। তিন বার কোপার ফাইনালে খেলেছেন, এক বার বিশ্বকাপের ফাইনালে, ২০১৪ সালে। ভাগ্যদেবতা কখনও মুখ তুলে চায়নি। তাঁর জীবনে ভাগ্যের খরাও কাটল।

এ বারের কোপা আমেরিকা অভিযানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন লিওনেল মেসি। নিজে গোল করেছেন, গোল করিয়েছেন। এই অভিযানে এমন ভাব দেখিয়েছেন যে তিনি যেন দেশের হয়ে তাঁর প্রথম ট্রফিটা জিততে চান। আর সেটাই হল।     

দি মারিয়ার গোল

বেশ মারকুটে ভঙ্গিতেই খেলা শুরু করে ব্রাজিল। এবং ৩ মিনিটে হলুদ কার্ডও দেখে ব্রাজিলের ফ্রেড। গোড়ার দিকে ব্রাজিল বেশ চাপে রেখেছিল আর্জেন্তিনাকে। ৭ মিনিটে নেইমার আক্রমণে উঠে আসেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।

শেষ পর্যন্ত খেলাটাকে মাঝমাঠে সীমাবদ্ধ রাখতে সমর্থ হয় আর্জেন্তিনা। ইতিমধ্যে মেসির টাচ দেখা যায়। এবং ধীরে ধীরে প্রতি-আক্রমণে উঠে আসে তারা।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোল করার প্রকৃত সুযোগ পান নেইমার। প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। কিন্তু আর্জেন্তিনার ডিফেন্ডাররা এমন ভাবে ঘিরে ধরেন তাঁকে যে তিনি ঠিক ভাবে হাফ-ভলিটা নিতে পারেননি।

জয়ের নায়ক দি মারিয়া। ছবি Copa America Twitter থেকে নেওয়া।

ও দিকে আর্জেন্তিনার আনখেল দি মারিয়া ডান দিক থেকে বার বার ব্রাজিলের রক্ষণে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের প্রতিরোধ কিছুতেই ভাঙতে পারছিলেন না। তাঁর এই অবিরাম চেষ্টার ফল পেয়ে যান ম্যাচের ২১ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে নেওয়া একটা লম্বা শট ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি ব্রাজিলের রেনান লোদি। বল চলে যায় দি মারিয়ার কাছে। তক্কে তক্কে ছিলেন তিনি। ব্রাজিলের গোলরক্ষক এডারসনের মাথা টপকে বল জালে জড়িয়ে দেন দি মারিয়া।

এর পর যেন আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন দি মারিয়া। কিন্তু ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা সদাই সতর্ক থাকায় তাঁর চেষ্টা কাজে আসেনি।

ব্রাজিলের সব চেষ্টা ব্যর্থ

গোল শোধের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে ব্রাজিল। ৪২ মিনিটে এভারটন আর্জেন্তিনার গোল লক্ষ্য করে শট নেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয় না। ৪৪ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় ব্রাজিল। নেইমারের কর্নার কিক ক্লিয়ার করে দেন আর্জেন্তিনার ডিফেন্ডাররা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিল। নেইমার সঙ্গী করেন ফারমিনোকে। ৫২ মিনিটে ব্রাজিলের রিচারলিসনের গোল বাতিল হয় লাইন্সম্যান অফসাইড ডাকায়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে আর্জেন্তিনা। ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত গোল বাঁচান আর্জেন্তিনার গোলরক্ষক মার্তিনেজ। বক্সের ডান দিকে থাকা রিচারলিসনকে সুন্দর পাস বাড়ান নেইমার। কিন্তু রিচারলিসনের শট সেভ করেন মার্তিনেজ।

ব্রাজিলের টানা আক্রমণের ফাঁকেই মাঝেমাঝেই ঝলসে উঠছিলেন মেসি। ৬৫ মিনিটে মেসিকে বক্সে ফেলে দেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার। আর্জেন্তিনার পেনাল্টির আবেদন কানে তোলেননি রেফারি।

দু’ পক্ষই বড়ো বেশি শরীরী খেলা প্রয়োগ করতে থাকে। মাঠে হলুদ কার্ডের বন্যা বয়ে যায়। ফলে পরিবর্ত খেলোয়াড়দের নামাতে হয় দু’ পক্ষকেই। খেলা নির্ধারিত সময়ের পর আরও পাঁচ মিনিট গড়ায়। কিন্তু ব্রাজিল আর গোল শোধ করতে পারেনি।            

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন