ডিফেন্সের অপদার্থতায় এগিয়ে থেকেও, জেতা ম্যাচে লজ্জার হার মোহনবাগানের

0
798
bfcmiku

মোহনবাগান – ২         বেঙ্গালুরু এফসি – ৪

ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার মাঠে সুপার কাপের সেমিফাইনালে লজ্জাজনক হার মোহনবাগানের। এগিয়ে থেকেও কী ভাবে ম্যাচ হারতে হয়, এ দিন তারই প্রমাণ দিল গঙ্গাপাড়ের ক্লাবটি। এ দিন অবশ্য শুরুটা খারাপ করেনি মোহনবাগান। আগ্রাসী মনোভাব নিয়েই আক্রমণ শানায় তারা। সৌজন্যে শেখ ফইয়াজ, ডিকারা। তবে প্রতি আক্রমণে সুযোগ পায় বেঙ্গালুরুও। স্কোরলাইন দেখে অবশ্য বিশ্বাস না হওয়ারই কথা, কিন্তু প্রথমার্ধে মোহনবাগানের খেলা টোটাল ফুটবলের থেকে খুব একটা কম নয়। নিখিল কদম এ দিন শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলেন। তাঁর শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মোহনবাগানের ক্রমাগত আক্রমণে বেঙ্গালুরুকে দেখে বোঝাই যাচ্ছিল না, আইএসএলের ফাইনালিস্ট তারা। এ দিন প্রথমার্ধে প্রায় নিষ্প্রভ ছিলেন দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রি। যার ফল মাথা গরম করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। তবে ক্রমাগত আক্রমণের ফল অবশেষে পেয়ে যায় মোহনবাগান। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার মিনিট তিনেক আগে, সবুজ মেরুনকে এগিয়ে দেন সেই ডিকা। কেনো তিনি আইলিগের শীর্ষ গোলদাতা ফের বোঝালেন। বিরতিতে এগিয়ে থেকেই শেষ করে মেরিনার্সরা।

mbdika
প্রথমার্ধে যতটা ভালো লেগেছে মোহনবাগানকে, দ্বিতীয়ার্ধে সেইরকমই বিশ্রী পারফর্মেন্স। গোলের জন্য শুরু থেকেই আক্রমণ বেঙ্গালুরুর। নিশু কুমারের শট বাঁচিয়ে দেন, মোহনবাগান গোলকিপার শিল্টন পাল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতি আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে সুবর্ণ সুযোগ পায় মোহনবাগান। তবে নিখিলকে ইচ্ছাকৃত ফেলে দেওয়ার জন্য, নিশু কুমারকে লাল কার্ড দেখাতে ভোলেননি রেফারি তেজাস নাগভেঙ্কার। বাংলায় অবশ্য একটা কথা প্রচলিত আছে, ” শাপে বর “। এ দিনই তারই প্রমাণ পেয়ে গেল বেঙ্গালুরু। দশজন হয়ে যাওয়া বেঙ্গালুরুর কাছে নাকানি চোবানি খেলো মোহনবাগান। যার ফল ৬২ মিনিটে নিজের একক দক্ষতায়, বেঙ্গালুরুর হয়ে সমতা ফেরান দলের প্রাণভোমরা মিকু। সমতা ফিরিয়ে অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি সুনীলদের। মিনিট তিনেকের মধ্যে ফের গোল করে যান সেই মিকু। মোহনবাগান রক্ষণের ভুলে ম্যাচে প্রথমবারের জন্য বেঙ্গালুরুকে এগিয়ে দেন, আইএসএলের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিকু। এর পর অবশ্য ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁদের। প্রতি আক্রমণে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে মোহনবাগানও। সৌজন্যে আক্রম। শেষদিকে ব্যবধান ফের বাড়ায় বেঙ্গালুরু। পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন মিকু। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে বিশ্বমানের গোলে মোহনবাগান কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন সুনীল ছেত্রি। অতিরিক্ত সময়ে ডিকার সান্ত্বনা গোলে, ব্যবধান কমিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান।

bfcsupercup

ম্যাচ শেষে মোহনবাগান কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী জানান, ” দ্বিতীয়ার্ধের পারফরমেন্সটাই ম্যাচের ফারাক গড়ে দিলো। ছেলেরা নিজেরদের সেরাটা দিয়েছে। এই হার সহজে ভোলার নয়”।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here