ডেনমার্ক।
দ্বিতীয় গোল করার পরে উল্লাস ডোলবার্গের।

ডেনমার্ক ৪ (কাসপার ডোলবার্গ ২, ম্যাহলে, ব্রেথওয়েট) ওয়েলস (০)    

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ২৬ জুন, এই তারিখটা ডেনমার্কের ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। আজ থেকে ঠিক ২৯ বছর আগে এই দিনে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ডেনমার্ক। ২০২১-এর এই দিনে সেই বিজয়ের ২৯তম বার্ষিকী পালন করল তারা ওয়েলসকে ৪-০ গোলে হারিয়ে। আর এই হারানোর পথে একটা স্মরণীয় ঘটনাও ঘটিয়ে ফেলল ডেনমার্ক।

ইউরোয় আজ পর্যন্ত কোনো দিন নিজেদের পর পর দু’টো ম্যাচে কোনো দল প্রতিপক্ষকে চার গোল দিতে পারেনি, যেটা শনিবার ডেনমার্ক করল। এ দিন তারা ওয়েলসকে হারাল ৪-০ গোলে। এবং সোমবার গ্রুপ লিগের শেষ খেলায় রাশিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ডেনমার্ক।

২৯ বছর পরে এই প্রথম ইউরোর নকআউট পর্যায়ে জয় পেল ডেনমার্ক। এ বারেও যদি তারা ১৯৯২-এর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে তা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর গতবারের (২০১৬) ইউরো সেমিফাইনালিস্ট ওয়েলস যে এ বার ‘রাউন্ড অব ১৬’ থেকেই বিদায় নেবে তা বোধহয় ভাবা যায়নি।

অসুস্থ এরিকসেনের জন্য ডেনমার্কের প্রতি আবেগ   

এ বারের ইউরোয় ‘রাউন্ড অব ১৬’-র প্রথম ম্যাচে ডেনমার্ক তাদের পরিচিত মাঠ কোপেনহাগেনের পারকেন স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে এসে খেলল আমস্টারডামে। ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলের প্রথম ম্যাচে খ্রিস্টিয়ান এরিকসেনের অসুস্থ হওয়া পড়ার ঘটনাটা এখনও জনমনে ডেনমার্কের প্রতি একটা আবেগ জাগিয়ে রেখেছে। তার প্রমাণ এ দিনও পাওয়া গেল আমস্টারডামের জোহান ক্রুয়েফ এরেনায়।

সেখানে বিপুল জনসমর্থনের মধ্যে নিজেদের পারদর্শিতা দেখিয়ে ডেনমার্ক জয় পেল ৪ গোলে, যার মধ্যে জোড়া গোল কাসপার ডোলবার্গের। আর একটি করে গোল করলেন জোয়াকিম ম্যাহলে ও মার্টিন ব্রেথওয়েট।

প্রথমার্ধে ডেনমার্ক ১-০ এগিয়ে

প্রথম গোল করার পরে ডোলবার্গ।

খেলাটা কিন্তু খারাপ শুরু করেনি ওয়েলস। খেলা শুরুর প্রথম কয়েক মিনিট মাঝমাঠে খেলা সীমাবদ্ধ থাকলেও ওয়েলসে অধিনায়ক গ্যারেথ বেল মাঝেমাঝেই ঢুকে পড়ছিলেন ডেনমার্কের বক্সে এবং প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে প্রথম শট নেন বেলই। কিন্তু তা পোস্ট ঘেঁষে চলে যায়। ১৪ মিনিটে আবার সুযোগ পেয়েছিলেন বেল, কিন্তু গোল আসেনি।

প্রথমার্ধের ১৯ মিনিটে ডেনমার্ক কার্যত প্রথম আক্রমণে উঠে আসে এবং কর্নার পায়। সেই কর্নার কাজে আসেনি। এর ৮ মিনিট পরেই ডেনমার্কের গোল। বাঁ দিক থেকে বল পৌঁছে গিয়েছিল ডোলবার্গের কাছে। একটু জায়গা করে নিয়ে সেই বল থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ডোলবার্গ। এটাই ছিল প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে প্রথম শট ডেনমার্কের।  

এর পর প্রথমার্ধের বাকি সময়টুকু ড্যানিশদেরই আধিপত্য ছিল। এই অর্ধের শেষে ম্যাহলে প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন, কিন্তু ব্যবধান আর বাড়েনি। প্রথমার্ধে ডেনমার্ক এগিয়ে থাকে ১-০ গোলে। প্রথমার্ধে ওয়েলস ৭টি শট নিয়েছিল, কিন্তু সবগুলোই ডেনমার্কের গোল করার আগে।

ডোলবার্গের দ্বিতীয় গোল

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ৩ মিনিটের মধ্যেই ডেনমার্কের আবার গোল। এ বারেও গোলদাতা ডোলবার্গ। আক্রমণে উঠে এসে শট নিয়েছিলেন ডেনমার্কের খেলোয়াড়, কিন্তু তা ভালো করে ক্লিয়ার করতে পারেনি ওয়েলসের রক্ষণভাগ। বল চলে যায় ডোলবার্গের কাছে। এবং এ বারেও তিনি গোল করতে কোনো ভুলচুক করেননি।

স্বচ্ছন্দেই খেলা চালিয়ে যেতে থাকে ডেনমার্ক। অধিকাংশ সময়েই বলের দখল তাদেরই ছিল। ওয়েলসকে খুব একটা ঝামেলা করতে দেয়নি তারা। ৮৬ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করে ডেনমার্ক। কর্নার থেকে ওয়েলসের দূরের পোস্টের কাছে বল আসে। সেই বলে ধরে কর্নেলিয়াস গোল করার চেষ্টা করেন কিন্তু ওয়েলসের রক্ষণ ভাগ বাঁচিয়ে দেয়। তবে সেই বল চলে আসে ব্রেথওয়েটের কাছে। ব্রেথওয়েট পোস্টে মারেন। তা রিবাউন্ড করে চলে আসে অ্যান্ডারসনের কাছে। কিন্তু অ্যান্ডারসন লক্ষ্যভ্রস্ট হন।

৩-০ হওয়ার ৬ মিনিট পরেই ৪-০

তৃতীয় গোলের নায়ক ম্যাহলে।

তবে ২ মিনিট পরেই গোল। ডেনমার্কের ব্যবধান বেড়ে হয় ৩-০। জেনসেন বল দেন জোয়াকিম ম্যাহলেকে। সেই বলে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ম্যাহলে। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ লগ্নে ম্যাহলেকে ফাউল করে লালকার্ড দেখেন ওয়েলসের হ্যারি উইলসন। ম্যাচের ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় ১০ জনে খেলতে হল ওয়েলসকে।

অতিরিক্ত সময়ের ৪ মিনিটে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ায় ডেনমার্ক। কর্নেলিয়াসের কাছ থেকে ক্রস পেয়ে ওয়েলসের রক্ষণভাগের শেষ প্রহরীর প্রায় কাঁধে উঠে বিরুদ্ধ পক্ষের জালে বল জড়িয়ে দেন ব্রেথওয়েট। লাইন্সম্যান অফসাইড ডাকেন। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিজ-এর পরীক্ষার (VAR check) পর গোল দেওয়া হয়। ডেনমার্ক জেতে ৪-০ গোলে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ডেনমার্ককে মুখোমুখি হতে হবে নেদারল্যান্ডস বনাম চেক প্রজাতন্ত্রের বিজয়ীর সঙ্গে, খেলা হবে বাকুতে।            

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন