super cup

সানি চক্রবর্তী: কৌলিন্য, আভিজাত্যের বন্ধন কাটিয়ে বাংলার হয়ে সন্তোষে খেলাটা আপাতত হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধুই পার্টটাইম জব। কোচ হোক বা ফুটবলার প্রায় সকলেই কোনো না কোনো ক্লাবে যুক্ত, তার মাঝেই সময় করে বাংলার হয়ে কাজ করছেন। গোটা বিষয়টার জন্য যদিও তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কোনো উপায় নেই। কারণ, বাংলা ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা (আইএফএ) তাদের ঘাড়ে বাড়তি দায়িত্বটা চাপিয়ে দিয়েছে। বাকি রাজ্যগুলির অবস্থা এতটা খারাপ না হলেও বাংলার সন্তোষ অভিযান নিয়ে ঘোরতর সংশয় থেকে যাচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতে। আসলে দ্বিতীয় ডিভিশনের আই লিগের বিভিন্ন দলের চুক্তির জেরেই অর্থ রোজগারের সুযোগ পান পেশাদার ফুটবলাররা। কোচেরাও এই দিনকয়েকের দায়িত্ব ছাড়া কোনো কাজ না থাকায় আপাতত বিভিন্ন অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত। চিফ কোচ আপাতত ইস্টবেঙ্গলের সহকারী কোচের দায়িত্বে, আর বাংলার সহকারী কোচ মহমেডান স্পোর্টিংয়েও একই ভূমিকাতে।

আই লিগে খেললে এমনিতেই স্থান নেই সন্তোষের দলে। তাই ভরসা বলতে বাদবাকিরা। বাংলার প্রাথমিক পর্বের দলনির্বাচনের দিন পর্যন্ত চলেছে ট্রায়াল প্রক্রিয়া। বেগুসরাইতে খেলতে গিয়ে হয়েছে দলের কম্বিনেশন সাজানোর কাজ। তার মাঝেই প্রাথমিক যোগ্যতাঅর্জন পর্বে দুটো ম্যাচে জিতেই মূলপর্বে গিয়েছে বাংলা। যে কাজের প্রশংসা করলেও বলতেই হয় সেই দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ড।

মূলপর্বে স্বাভাবিক কারণেই তুলনামূলক শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের সামনে পড়তে হবে। তবে দুঃখের ব্যাপার, ঘরের মাঠে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই নামতে হবে বাংলা দলকে। কারণটা, প্রায় একই সময়ে চলবে সন্তোষের মূলপর্ব ও আই লিগের দ্বিতীয় ডিভিশনের খেলা। আইএফএ কর্তারা দাবি করছেন, দুটো প্রতিযোগিতার ম্যাচ একই দিনে পড়বে না। এআইএফএফ সেইমতোই হয়তো সূচি বানাবে। যুক্তিটা মেনে নিলেও ব্যাপারটা দাঁড়াবে জোড়াতাপ্পি দেওয়ার মতো। যে ক্লাবে কোচ বা ফুটবলাররা কাজ করছেন, নিয়মানুযায়ী সন্তোষের ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে ছাড় পাবেন তারা। সেক্ষেত্রে কার্যত ফের প্রস্তুতি ছাড়াই মূলপর্বে খেলতে নামবে বাংলা দল।

আগে বাংলার জার্সি চাপিয়ে কিছু ফুটবলারের কাছে মঞ্চটা ছিল নিজেদের জাতীয় স্তরে নিজেদের মেলে ধরার। কিন্তু এবারে সেই সুযোগ কতটা মিলবে সেটা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ, প্রস্তুতি ছাড়া কতটা ভালো ফুটবল খেলবে ফুটবলাররা সেটা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বাংলার হয়ে প্রাথমিক পর্বে খেলা ৭-৮ জন রয়েছেন সাদা-কালো শিবিরে। তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া ভালো কিছু করতে পারলে, সেক্ষেত্রে বাড়তি প্রশংসা করতে হবে ফুটবলারদের।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন