বেঙ্গালুরু এফসি ২ (সুনীল ছেত্রী, ক্লাইটন সিলভা) ওড়িশা এফসি (স্টিভেন টেলর)

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এ বারের আইএসএল-এ (ISL 2020-21) ওড়িশা এফসির (Odisha FC) পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো নয়। লিগ টেবিলে তাদের স্থান একেবারে নীচের দিকে, ইস্টবেঙ্গলের ঠিক ওপরে। সেই ওড়িশার সঙ্গে খেলার ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ড্র রেখে বেঙ্গালুরু এফসি (Bengaluru FC) তাদের সমর্থকদের হতাশ করে ফেলছিল।

শেষ পর্যন্ত ক্লাইটন সিলভার গোলের সুবাদে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটে। এবং এই জয়ের ফলে সুনীল ছেত্রীর দল টেবিলে তিন নম্বর জায়গায় উঠে এল। প্রায় ধরে ফেলল মুম্বই আর এটিকে মোহনবাগানকে।

ব্যাম্বোলিমের জিএমসি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ দিনের খেলায় প্রথমার্ধেই গোল করে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। তার পর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ওড়িশা গোল করে খেলায় সমতা আনে। শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটের মাথায় গোল করে ২-১ গোলে জয় পায় বেঙ্গালুরু।

ওড়িশার বিপক্ষে অফসাইড

ম্যাচের ২ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল বেঙ্গালুরু। হরমনজ্যোত খাবরার কাছ থেকে বল পেয়ে ক্রিস্টিয়ান ওপসেথ ওড়িশার গোলের বাইরে বল পাঠান।

এর পর ওড়িশার চাপ বাড়ে। ৯ মিনিটে ওড়িশার পক্ষে ফল ১-০ হতে পারত। দিয়েগো মরিসিওর কাছ থেকে বল পেয়ে ম্যানুয়েল ওনু বেঙ্গালুরুর গোল লক্ষ্য করে যে শট নেন তা গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সাঁধুকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। কিন্তু লাইন্সম্যান ওনুকে অফসাইড ডাকেন। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, অফসাইড ডাকার মতো অপরাধ ওনু করেননি।

এর পর বেঙ্গালুরু একটু তেড়েফুঁড়ে ওঠে। তাদের প্রায় সব প্লেয়ার ওড়িশা রক্ষণকে পরীক্ষা করতে নামেন। ২২ মিনিট তারা লাগাতার আক্রমণ চালাতে থাকে ওড়িশার রক্ষণ ভাগে।

বেঙ্গালুরু ১-০

বেঙ্গালুরুর পক্ষে শেষ পর্যন্ত গোল আসে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে। হরমনজ্যোত আর সুনীলের জোড়ি যে ভাবে কেরল ব্লাস্টার্স-এর বিরুদ্ধে গোল পেয়েছিল, সে ভাবেই গোল হল বেঙ্গালুরুর পক্ষে।

মাঝমাঠ থেকে দিমাস দেলগাডো ডান দিকে কোনাকুনি শট করেন হরমনজ্যোতকে লক্ষ্য করে। হরমনজ্যোত সেই বল ধরে সোজা পাঠিয়ে দেন ওড়িশার বক্সে থাকা সুনীলের দিকে। সুনীল দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

ওড়িশার গোল শোধ

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বেঙ্গালুরুর খেলায় একটু ছন্নছাড়া ভাব এসে যায়। এই সময় ওড়িশা আক্রমণে উঠে আসে। ৬২ মিনিটে প্রায় গোল শোধ করে ফেলেছিল ওড়িশা। কিন্তু তাদের গোল করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান গুরপ্রীত সিং সাঁধু। শুভম ষড়ঙ্গী ক্রস বাড়িয়ে দেন গৌতম বোরাকে। স্টিভেন টেলরের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করতে করতে তাঁরা বেঙ্গালুরু গোলমুখে চলে আসেন। শেষ পর্যন্ত গোল লক্ষ্য করে গৌতমের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচিয়ে দেন গুরপ্রীত।

অবশেষে ওড়িশা ম্যাচে সমতা ফেরায় ম্যাচের ৭১ মিনিটে। জেরির ফ্রিকিক থেকে বল বেঙ্গালুরুর জালে পাঠিয়ে দেন টেলর।

এগিয়ে গেল বেঙ্গালুরু

ঠিক যখন মনে হচ্ছিল ওড়িশা ম্যাচে দারুণ ভাবে ফিরে আসছে ঠিক তখনই তারা গোল খেয়ে বসে।  মাত্র আট মিনিট পরেই জয়সূচক গোলটি করে বেঙ্গালুরু।

একটা লম্বা শটে হেড দিয়ে ডান দিকে থাকা বদলি খেলোয়াড় দেশর্ন ব্রাউনকে বল পাঠিয়ে দেন উদন্ত সিং। ব্রাউন পাস বাড়িয়ে দেন ক্লাইটন সিলভাকে। ব্রাজিলিয়ান সিলভা বেঙ্গালুরুকে এগিয়ে দিতে কোনো ভুলচুক করেননি।                    

৬টা ম্যাচ খেলে বেঙ্গালুরুর সংগ্রহ হল ১২ পয়েন্ট, সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে ওড়িশার সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন: তৃপ্ত আবাস বলছেন রয় কৃষ্ণই সেরা

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন