derby-final

ইস্টবেঙ্গল – ২ (অ্যাকোস্তা, লালরেনডিকা)                  মোহনবাগান – ২ (পিন্টু মাহাত, হেনরি)

ওয়েবডেস্ক: মরশুমের প্রথম ডার্বির ফল অমীমাংসিত। প্রথমার্ধ যদি মোহনবাগানের হয় তাহলে দ্বিতীয়ার্ধ ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে খাতায়-কলমে কিছুটা এগিয়েছিল সবুজ-মেরুন বাহিনী। যার কারণ তাদের স্ট্রাইকিং লাইনআপ। হেনরি-ডিকা জুটি অবশ্য নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার রেখে প্রথম থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকেন। কিন্তু এই দু’জনের মাঝেও চুপিসারে নিজের দায়িত্ন পালন করে গেলন এই মরশুমে নজরকাড়া পিন্টু মাহাত।

যার ফল দলগত সংহতিকে সামনে রেখে ম্যাচের কুড়ি মিনিটের মধ্যেই লিড মোহনবাগানের। হাফ চান্সে ঘুরেই গোল বঙ্গতনয় পিন্টুর। এই সময় ইস্টবেঙ্গলকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। যার কারণ ক্রমাগত আক্রমণে চাপ সবুজ-মেরুনের। ফলে মিনিট দশেকের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ায় তারা। সৌজন্যে হেনরি। দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করলেন অরিজিত বাগুই। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ পকেটে পুরে নিয়েছে মোহনবাগান ঠিক সেই সময় কিছুটা ছন্দপতন। বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্তার হেডার নিজের আয়ত্তে ঠিক মতো রাখতে পারলেন না মোহন-কিপার শিল্টন। সেই বল অ্যাকোস্তার বুকে লেগে প্রতিহত হয়ে গোল ঢুকলে বিরতিতে ব্যবধান কমিয়ে ড্রেসিংরুমে যায় লালহলুদ।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ফেরার লক্ষে শুরু থেকেই মুহুমুহু আক্রমণ মশালবাহিনীর। এই সময় মোহনবাগানকে দেখলে মনে হবে খেলা তারা ভুলে গেছে। যার কারণ মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার লোকের অভাব। নিজেদের চাপকে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রেখে পনেরো মিনিটের মধ্যে ম্যাচে ফেরত লালহলুদের। লালরিনডিকার কর্নার থেকে গোল রালতের। সৌজন্যে সেই শিলটন। বলের সুইং বুঝতে না পেরে ঠিকমতো বলের কাছে পৌঁছতে পারলেন না তিনি।  তাই বল বের করে দেওয়ার বদলে নামিয়ে দেন ডিকার পায়ে। মাঝমাঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মোহন-কোচ শঙ্করলাল মাঠে মেহতাবকে নামালেও চোটের জন্য তাঁকে তুলে নিতে হয়। তাঁর হাত ভেঙে গিয়েছে। তার মধ্যেই আমনার পা থেকে একটি বল তুলে নিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান শিলটন। আরেকটি ক্ষেত্রেও বারের ওপর পাঠিয়ে দেন। তবু দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল যে খেলাটা খেলেছে, তাতে আমনার আরও গতি থাকলে গোল পেয়ে যেতেও পারত তারা। অন্যদিকে তেমনই একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ডিকা। এদিন ম্যাচের উত্তেজনার মাঝে দু’দলের সদস্য গ্যালারিতে কিছুটা হাতাহাতির জেরে নাক ফেটেছে এক মোহনবাগান সমর্থকের।

ইস্টবেঙ্গলের দুই স্টপারের বোঝাপড়ার অভাবের সুযোগ নিয়ে মোহনবাগান দুটি চমৎকার গোল করলেও এদিন খারাপ খেলেননি বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্তা। কলকাতা মাঠে ডার্বিতে অভিষেক ঘটিয়েই নিজের নামের পাশে গোল লিখে রাখলেন, সেটাও তো কম কথা নয়। যতই তা শিলটনের দোষে হোক না কেন। তাঁর গোলের পরই তো ম্যাচে ফিরল লালহলুদ।

ফলে ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে যে মেরুতে দাঁড়িয়ে ছিল দু’প্রধান, ম্যাচের শেষেও সেই একই জায়গায়। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে একই পয়েন্ট। এবং একই গোলপার্থক্য। তবে বেশি গোল করার সুবাদে শীর্ষে মোহনবাগান।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন