mamata-and-mohun-bagan
শৈবাল বিশ্বাস

মোহনবাগানের রাজনীতি নিয়ে অত্যন্ত বিব্রত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তাঁর একান্ত ইচ্ছায় ক্লাবের সভাপতি হতে উদ্যোগী হচ্ছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত মন্ত্রী সহ সভাপতির দায়িত্ব সামলালেও সরাসরি ক্লাব রাজনীতিতে ছিলেন না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এবার সক্রিয় হচ্ছেন। সুব্রতবাবুকে বেছে নেওয়ার কারণ ক্লাবের যুযুধান সব গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যালেন্স করে একমাত্র তিনিই চলতে পারবেন। ক্লাবে অরূপ বিশ্বাস,বাবুন ব্যানার্জিরাও আছেন,কিন্তু মোহনবাগানের মতো ঐতিহ্য ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানে যে তাদের কোনও প্রভাব নেই তা মমতা ভালো করেই জানেন। ধীরেন দের রাজত্বের বিরুদ্ধে মোহনবাগানে যখন মেম্বার্স  ফোরাম গঠিত হয়েছিল তখন সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন সুব্রতবাবু। ক্ষমতায় তখন দোর্দণ্ডপ্রতাপ বামফ্রন্ট। ধীরেন দে গোষ্ঠী প্রভাব খাটিয়ে জ্যোতিবাবুকে সুব্রতবাবুর বিরুদ্ধে উসকেছিলেন। কোনও লাভ হয়নি। মোহনবাগানের লাইফ মেম্বার জ্যোতিবাবু সব খোঁজ রাখতেন। সুব্রত মুখোপাধ্যায় কলকাঠি নেড়ে ভায়রাভাই টুটু বসুকে সচিব করলেন।বাকিটা ইতিহাস। আসলে টুটুবাবু ছিলেন মধ্যপন্থী। তিনি বাগবাজারের সেনবাড়ি আর রক্ষণশীলতা আর ষাট পয়সার গ্যালারির সমর্থকদের উগ্র চাহিদার সফল সমীকরণ করতে পারতেন। সুব্রতবাবুই সবাইকে বোঝালেন ক্লাব বাঁচবে চিমাকে আনলে আর তার জন্য চাই টাকা। ক্লাবে বিদেশি আনার মত উদারতা আর আর্থিক অবস্থা একমাত্র স্বপন সাধন বোসেরই আছে।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের এই অবদান মমতা জানতেন।জন্ম মোহনবাগানি মমতার কাছে ক্লাবের খবর পৌঁছে দিতেন পাড়ার এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। সেই স্মৃতি মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী ভাবছেন এবারও হয়তো সুব্রতবাবুই সবকিছু ঠিক করে দেবেন।

আরও পড়ুন: মোহনবাগানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে, কর্মসমিতির চোদ্দ সদস্যের পদত্যাগ

এবারের গন্ডগোলের সূত্রপাত কল্যাণ চৌবের সংস্থাকে প্লেয়ার নির্বাচনের ভার দেওয়া নিয়ে। কোটি কোটি টাকা পকেট থেকে খরচ করা সম্ভব নয় জানিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন ক্লাবের দীর্ঘদিনের সভাপতি। তখনই সম্পাদক অঞ্জন মিত্রর গোষ্ঠী পরিষ্কার জানিয়ে দেয় এবার পেশাদার কাউকে দিয়ে ক্লাবের সবকিছু নির্ধারণ করা হবে। ফুটবল সচিব, অর্থসচিব, সহ সচিব এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড অখুশি হন। শুরু হয় গন্ডগোল। কার্যনির্বাহী সমিতির বৈঠকে সচিব জানতে চান কার সিদ্ধান্তে চোট পাওয়া সনি নর্দিকে নেওয়া হল?আগুনে ঘি পড়ে। সচিব বলে দেন তিনি অসুস্থ তাই বিদেশি প্লেয়ারের সিদ্ধান্ত নেবেন অসিত চ্যাটার্জি। কিছুদিনের মধ্যেই পদত্যাগ করেন সহ সচিব ও অর্থ সচিব। বাকিটা ইতিহাস।

এই বিরোধ মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে মেটান সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here