benzema-ucl
করিম বেঞ্জেমা

রেয়াল মাদ্রিদ – ২       বায়ার্ন মিউনিখ – ২

(দুই পর্ব মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী রেয়াল মাদ্রিদ)

ওয়েবডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার ঘরের মাঠে বায়ার্নের সঙ্গে ড্র করেও দু’লেগ মিলিয়ে জয় রোনাল্ডোদের। প্রথম লেগে জয়ের সুবাদে এদিন ঘরের মাঠে এগিয়ে শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত রেয়ালকে ভালোই টক্কর দিয়ে গেল জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। যার ফল ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই, বায়ার্নকে এগিয়ে দেন প্রথম লেগের গোলদাতা কিমিচ। পিছিয়ে পড়ে অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি রেয়ালকে। আট মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরায় তাঁরা। মার্সেলোর ক্রস থেকে গোল করেন দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার করিম বেঞ্জেমা। গোল হজম করেও অবশ্য পিছিয়ে থাকেনি বাভারিয়ান জায়েন্টরা। রেয়াল বক্সে বিপদজনক হয়ে ওঠেন মুলার, লিওন্ডোস্কিরা।

bayern-ucl

যত সময় যায় আক্রমণ প্রতি-আক্রমণে সুযোগ পায় দু’দলই। এ দিন গোটা ম্যাচ পরিশ্রম করলেন রেয়ালের তারকা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। সুযোগ পান বায়ার্নের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হামেস রডরিগেজও। লিওন্ডোস্কির শট বাঁচান রেয়াল গোলকিপার কেইলর নাভাস। প্রতিহত হয়ে সেই বল চলে এলে গোলে ঢোকাতে ব্যর্থ হন রেয়ালের প্রাক্তনী হামেস। তবে রেফারিং সমস্যা কিন্তু এদিনও অব্যাহত। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রেয়াল বক্সে মার্সেলোর হাতে বল লাগলে সেই নিয়ে কোনো কর্ণপাত করেননি রেফারি কুনেইত কাকির। যার ফলে বিরতিতে কিছুটা ক্ষোভ বায়ার্ন শিবিরে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য শুরুতেই গোল রেয়ালের। তবে কিছুটা ভাগ্যের জোরে। বায়ার্ন খেলোয়াড় করেন্টিন তলেসো এবং গোলকিপার আলরিচের মধ্যে ব্যাকপাসকে কেন্দ্র করে, ভুল বোঝাবুঝিতে পাওয়া সুযোগের সঠিক ব্যবহার করে ফের গোল বেঞ্জেমার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে করে ফেললেন ৫৫তম গোল। ফলে ঘরে মাঠে প্রথমবারের জন্য এগিয়ে যায় রেয়াল। পিছিয়ে পড়ে  আক্রমণে ঝাঁজ বাড়াতে থাকে বায়ার্নও। আলাবার শট বাঁচান গোলকিপার নাভাস। তবে প্রতি আক্রমণে দিনের সহজতম সুযোগটি হাতছাড়া করেন সি আর সেভেন। মার্সেলোর দেওয়া বল দশ গজের মধ্যে ফাঁকা পেয়েও বাইরে মারেন তিনি। প্রথম লেগের মতো দ্বিতীয় লেগেও ব্যক্তিগত গোলের খাতা খুলতে পারলেন না রোনাল্ডো।

realmadrid-ucl

আক্রমণে চাপ রাখার ফলে অবশেষে গোল পেয়ে যায় বায়ার্ন। প্রথমার্ধে সুযোগ হাতছাড়া করলেও দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য গোল করতে ভুল করেননি হামেস। নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে গোল করে বায়ার্নের হয়ে সমতা ফেরান এই কলম্বিয়ান। সমতা ফিরিয়ে আক্রমণে ঝাঁজ বাড়াতে থাকে বায়ার্ন। কারণ আর একটি মাত্র গোল পেলেই ফাইনালের দরজা খুলে যেত তাদের জন্য। ক্রমাগত আক্রমণ শানালেও রেয়াল বক্সে পাহাড় হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার  নাভাস। হামমেলস, মুলাররা সুযোগ পেলেও শেষমেশ তা কার্যকর হয়নি।

ম্যাচ শেষে রেয়াল কোচ জিনেদিন জিদান জানান, “ছেলেরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। বায়ার্ন আমাদের যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।  তবে আমরা ফের ফাইনালে। এখন একটাই লক্ষ্য ইউরোপ সেরার খেতাব।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here