east bengal parimal dey

সমীর গোস্বামী: না, পিকে নন, ইস্টবেঙ্গলে ছেলে পিদে। সাতের দশকে তাঁকে এই নামেই চিনত গড়ের মাঠ। বল পায়ে রেখে মাপা ওয়ালিং পাসে খেলতেন। ইস্টবেঙ্গলের এই ফরোয়ার্ড ক্লাবের হয়ে এমন কিছু গোল করেছিলেন যা নিজে চোখে দেখা দর্শক কখনোই ভুলতে পারেননি।

পুরো নাম পরিমল দে। কিন্তু সবাই তাঁকে ডাকতেন বা চিনতেন পিদে নামেই। চুনি গোস্বামীর পর তিনিই তখন গড়ের মাঠের ড্রিবল হিরো। পায়ের কাজ এবং পাসিং গেমে ছিলেন উস্তাদ। ফুটবল স্কিলে মাঠের দর্শককে মুগ্ধ করে দিতেন। বাস্তবে মনে হতো, ছন্দের জাদুগর। সে সময় এমনও বলতে শোনা যেত, পিদে এক কথায় গড়ের মাঠের ফুটবলের শিল্পী। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ৭৯টি গোল করেছিলেন তিনি।

ফরোয়ার্ডের এই খেলোয়াড় সেই সময় ছিলেন ময়দানের আইডল। পিদে মাঠে থাকা মানেই ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে ফিরবেই। ঠিক মতো জায়গায় দাঁড়ানো এবং বল ধরে বিরুদ্ধ দলের খেলোয়াড়দের ধোঁকা দিয়ে চমৎকার ড্রিবল করে গোল করায় তিনি সকলের বাহবা আদায় করে নিতেন। সাতের দশকে ইস্টবেঙ্গলের ভক্তরা তাঁদের মনের অনেকখানি অংশই দিয়ে ফেলেছিলেন এই পিদে-কে। শুধু কি ফুটবলের ছন্দে মাঠ মাতানোর জন্য?

আসলে পিদের ফুটবল শৈলী তো ছিল-ই, পাশাপাশি দর্শককে আকৃষ্ট করত তাঁর আরও একটি বৈশিষ্ট্য। তা হল তাঁর শারীরিক গঠন এবং সৌন্দর্য। দেখতে ছিলেন চলচ্চিত্রের নায়কের মতোই। তার উপর খেলার স্টাইলটাও ছিল নায়কের মতো। ‘ভিলেন’ (বিরুদ্ধ দলের খেলোয়াড়) ফাউল করার শত চেষ্টা করেও সার্থক হতে পারতেন না। ফুটবল শিক্ষায় পরিণত মাঠে পিকে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে পারতেন অনাবিল ভাবেই।

এ হেন ব্যতিক্রমী এক ফুটবলারের নাম তেমন একটা কারও মুখে শোনা যায় না!

(ক্রমশ: www.khaboronline.com)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন