জবি জাস্টিন, সৌজন্য: এক্সট্রাটাইম

ইস্টবেঙ্গল-৩(জবি ২, বিদ্যাধর সিং ১)     লাজং-১(রাকেশ)

ওয়েবডেস্ক: এটা ঘটনা যে লাজং দলে কোনো বিদেশি নেই। সবাই অনামি স্থানীয় তরুণ। যদি রক্ষণে দু’জন মাঝারি মানের বিদেশি এবং একজন ভালো বিদেশি স্ট্রাইকার থাকত, তাহলেই হয়তো এদিনের খেলার ফল অন্যরকম হতে পারত। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় দুরন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হারার যন্ত্রণা নিয়ে ঘরের মাঠ ছাড়তে হত না ম্যামুয়েল, লিংডো, মহেশ, রাকেশদের।

কিন্তু প্রতিপক্ষ সম্পর্কে, পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েই তো দলের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করেন কোচ। সঙ্গে হিসেবে রাখতে হয় নিজের দলের ওজন। সেই দিক থেকে লালহলুদের স্প্যানিশ কোচ এদিন চূড়ান্ত সফল। বলতে গেলে, সারা ম্যাচ ডিফেন্স করতে করতেই কখন যেন তিন-তিনটে গোল দিয়ে দিল কোয়েস ইস্টবেঙ্গল। বড়ো দলের যেটা লক্ষণ।

ম্যাচের শুরুর দিকে স্যামুয়েলের একটা দুরন্ত ফ্রিকিক পোস্ট লাগল। সাদা চোখে মনে হচ্ছিল যেন যে কোনো সময় গোল দিয়ে দেবে শিলং-এর দলটি। কিন্তু আসলে তাঁদের সব দৌড় থেমে যাচ্ছিল অ্যাটাকিং থার্ডে এসে। থামিয়ে দিচ্ছিল অ্যাকোস্তা, বোরহা, চুল্লোভা, মনোজের তেল খাওয়া মেশিনের মতো চমৎকার রক্ষণ। বস্তুত, ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ এদিন গোটা ম্যাচে প্রায় কোনো ভুল করল না। করলেই বিপদ ছিল। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল গোলের পজিটিভ সুযোগ পেয়েছিল গোটা চারেক, তার মধ্যে তিনটে থেকেই গোল হল। বড়ো দল না হলে এমনটা হয় না। মাঝমাঠ প্রথমার্ধটায় কিছুটা নড়বড়ে ছিল বটে। কিন্তু আই লিগের সবে শুরু, তাছাড়া এখনও বিদেশি সই করানোর সুযোগ রয়েছে লালহলুদের। সে সব নিশ্চয় ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তার আগেই শুরুর অগ্নিপরীক্ষায় ফুল মার্কস পেয়ে পাস অ্যালেজান্দ্রো। পাহাড়ে দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তাঁর ছেলেরা। গত কয়েক বছরে যেখানে গিয়ে বারবার রথের চাকা বসে গেছে কলকাতার দলগুলোর।

অভিজ্ঞ অ্যালেজান্দ্রো জানতেন, পাহাড়ি মাঠে বেশি দৌড়তে গেলেই শেষের দিকে দমে ঘাটতি পড়ে যাবে। তাই ডিফেন্সকে তৈরি রেখে, জোর দিয়েছিলেন সেটপিস আর গোলমুখি সেন্টারে। উচ্চতায় খাটো লাজং ফুটবলারদের দুর্বলতা ছিল ওখানেই। সেভাবেই ১১ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জবি। ৪১ মিনিটে গোলমুখি সেন্টারে এনরিকের সঙ্গে বোঝাপড়ায় আরও একটা চমৎকার গোল দিলেন তিনি। ৭১ মিনিটে কর্নার থেকে লাজং ব্যবধান কমালেও ২ মিনিটের মধ্যেই ফাঁকা ডিফেন্সকে কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন জবি পরিবর্তে নামা বিদ্যাধর সিং।

আগের ম্যাচে এনরিকে, এই ম্যাচে জবি-বিদ্যাধর। এমন সব সুযোগ সন্ধানী স্ট্রাইকার যদি দলে থাকে তাহলে কোচের স্ট্র্যাটেজির তৈরির চিন্তাও অনেকটা কমে যায় বৈকি। সব মিলিয়ে এবারের আই লিগে অ্যাডভান্টেজ ইস্টবেঙ্গল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here