ইস্টবেঙ্গল- ২(এদুয়ার্দো, কাতসুমি) আইজল এফসি-২(উইলিয়ামস ২)

কলকাতা: ২০১৭-১৮ আইলিগের নতুন চ্যাম্পিয়ন তৈরি হওয়ার আগে পর্যন্ত তারাই আই লিগ চ্যাম্পিয়ন, দেখিয়ে দিল আইজল এফসি। আর ইস্টবেঙ্গল দেখাল, এই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট না পেলেও আই লিগ জেতার যাবতীয় মালমশলা রয়েছে তাঁদের দলে।

অল্প কথায় এটাই ইস্টবেঙ্গল বনাম আইজল এফসি ম্যাচের রিপোর্ট।

কিন্তু কথা বাড়ালে বলতে হয় অনেক কিছুই। অনেক কিছু জড়িয়ে ছিল ম্যাচটার সঙ্গে। কোচ, খেলোয়াড় নিয়ে গতবারের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন আইজল দলের পাঁচজন এবার ইস্টবেঙ্গলে। তাই তাদের কাছে ম্যাচের গুরুত্ব ছিল আলাদা। অন্যদিকে সামনে ডার্বি। আগের ম্যাচে পয়েন্ট খুইয়ে চাপে রয়েছে মোহনবাগান। আইজলকে হারিয়ে অ্যাডভান্টেজ কুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগও ছিল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। সেই মতোই খেলছিলেন আমনা-কাতসুমি-প্লাজারা। মোহনবাগান থেকে এসে প্রথম ম্যাচেই ‘হিরো অফ দ্য ম্যাচ’ হলেন কাতসুমি। ভাগ্যের সহায়তায় একটা গোলও পেলেন। কিন্তু সন্তুষ্টি এল না। কারণ ৩ পয়েন্ট এল না যে!

প্রথমার্ধে তুল্যমূল্য লড়াই হচ্ছিল। বারবার নজর কাড়লেন প্লাজা। আইজল গোলরক্ষকের সেভ ছাড়াও, তাঁর একটা শট বারেও লাগল। দ্বিতীয়ার্ধে পালটে গেল লালহলুদ। আক্রমণের ঝড় তুললেন আমনারা। আর সেই ঝড়েই একটা কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মোহনবাগান-ফেরত এদুয়ার্দো। তারপরেও চলছিল আক্রমণ, বেসামাল লাগছিল তরুণ আইজলকে। এর মধ্যেই রফিকের শট কাতসুমির পায়ে লেগে দিক বদলে গোলে ঢুকল। ২-০-য় এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল।

কিন্তু আইজল খেলা থেকে হারায়নি। বরং তরুণ পাহাড়ি ছেলেরা খেলার গতি শ্লথ করে দিলেন। আর অনেক বেশি শক্তিশালী দল হয়েও কিছুটা আত্মসন্তুষ্টিতে চলে গেলেন খালিদের ছেলেরা। এই আইজল দলটার অনেক ভালো দিক থাকলেও দুর্বলতা রয়েছে স্ট্রাইকিং জোনে। তাই গোটা ম্যাচে সেভাবে পরীক্ষা হয়নি ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের। যখনই পরীক্ষাটা হল, তখনই ফেল। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে সেটপিস থেকে চমৎকার গোল করলেন উইলিয়াম। খেলা ওপেন হয়ে গেল। আর চূড়ান্ত ক্ল্যাইম্যাক্সে পৌঁছল ম্যাচের শেষ সেকেন্ডে। যখন কর্নার থেকে বল পেয়ে ডিফেন্সের জটলার মধ্যে থেকে বল জালে জড়ালেন সেই উইলিয়ামস। ৭১ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলে এগিয়েও ৩ পয়েন্ট না পাওয়াটা কোনো দলের রক্ষণের পক্ষেই ভালো বিজ্ঞাপন নয়। কিন্তু আইজলের হার-না-মানা মনোভাবের প্রশংসা করতেই হবে।

অন্যদিকে যেটা বলার, ৩ পয়েন্ট না পেলেও ভালো ফুটবল খেলেছে লালহলুদ। খালিদ যদি রক্ষণটা সাজিয়ে নিতে পারেন, তাহলে এই দলটাই আই লিগ জয়ের প্রধান দাবিদার হবে। কারণ তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষ মোহনবাগানের ডিফেন্সের রোগ সারানোটা অনেক বেশি কঠিন। ওভাররেটেড কিংশুক দেবনাথের ওপর বাগান-কর্তারা কীকরে এতটা ভরসা করলেন, কে জানে! অবশ্য বিদেশি কিনোয়াকি আর দিয়েগোর খেলা দেখা এখনও বাকি। ডার্বির লড়াই কিন্তু দুই প্রধানের ডিফেন্সের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here