বিশ্বমানের গোল করে নজর কাড়লেন নেরোকার বসনিয়ান স্ট্রাইকার নেডো তুর্কোভিচ

ইস্টবেঙ্গল-১(কাতসুমি)   নেরোকা এফসি-১(নেডো)

ইম্ফল: খেলা শেষে পয়েন্ট নষ্টের তুমুল বিরক্তি প্রকাশ করতে করতে মাঠ ছাড়লেন কাতসুমি। পিঠে হাত বুলিয়ে তাঁকে শান্ত করছিলেন খালিদ। জাপানির বিরক্তির আরও বড়ো কারণ এই ম্যাচের ১২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোলটা তিনিই করেছেন। উল্টোদিকে হতাশায় মাঠ থেকে বেরোতেই চাইছিলেন না এদিনের নায়ক নেরোকার স্ট্রাইকার মেডো তুর্কোভিচ। হাতাশা, ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট তুলতে না পারার। বসনিয়া ও হার্জগাভিনার এই দীর্ঘকায় ফুটবলার ম্যাচের ৮৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে যে বিশ্বমানের গোলটা করলেন, সেটা এবারের আই লিগের সেরা গোলগুলোর মধ্যে যে প্রথম দিকেই থাকবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

মনিপুরের দলের ছেলেরা বেশিক্ষণ পায়ে বল রাখলেও প্রথমার্ধে প্রাধান্য ছিল ইস্টবেঙ্গলেরই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের রং বদল। নেরোকার কোচ বিরতিতে কী ভোকাল টনিক দিলেন কে জানে, দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে ঝড় তুলে দিলে নেরোকা। বিপরীতে বড়ো দলের কোচ খালিদ ৮-৯ জন মিলে ডিফেন্স করার স্ট্র্যাটেজিতে চলে গেলেন। এদিকে নেরোকা তখন ডিফেন্সে ৪ জন থেকে কমিয়ে তিন জন করে দিয়েছে। মিডফিল্ডে লোক বাড়িয়েছে। খালিদের অবশ্য সমস্যা ছিল। প্লাজা প্রথমার্ধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় মাঠে নামাতে হয়েছিল চার্লসকে। দুজনের কেউই অবশ্য কাজে আসেননি। তারওপর কাতসুমি চোট নিয়ে ৯০ মিনিট মাঠে থাকলেন বটে। কিন্তু গোলটা ছাড়া কিছুই করেননি। প্রায় দৌড়লেনই না। আনফিট নামি ফুটবলারদের খেলানোর ফল সঞ্জয় সেন এখনও পেয়ে চলেছেন। খালিদ এদিন পেলেন।

তা বলে অবশ্য নেরোকার বিরুদ্ধে ১ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় অতটা ডিফেন্সিভ খেলার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দুটো তথ্য থেকে এদিনের ম্যাচের চেহারাটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। হিরো অফ দ্য ম্যাচ হলেন স্টপার এদু। আর গোটা দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে প্লে অ্যাক্টিং করে সময় চুরির প্রতিযোগিতায় নামলেন লালাহলুদ ফুটবলাররা। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ৭ মিনিট সময় সংযুক্ত হল। তাতেও শেষ রক্ষা হল না অবশ্য। নেরোকার যাবতীয় আক্রমণ ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ভিড়ে আটকে যাচ্ছিল। তাই দূর থেকে শট করে গোল করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। সেই কাজটাই করলেন নেডো।

আর একটা কথা না বললে ম্যাচ রিপোর্ট সম্পূর্ণ হবে না। চূড়ান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবলের মধ্যেও দুবার অত্যন্ত সহজ সুযোগ পেয়ে গেছিলেন আল আমনা। দুবারই তাঁর সামনে গোলকিপার ছাড়া কেউ ছিলেন না। একবার বাইরে মারলেন। একবার গোলরক্ষক ললিত থাপার গায়ে। ওই গোলগুলো হলেই অবশ্য খালিদের জঘন্য স্ট্র্যাটেজি নিয়ে চর্চা হত না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here