ইস্টবেঙ্গল ২ (স্টেইনম্যান ২) চেন্নাই ২ (ছাংতে, রহিম আলি)

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সপ্তম ম্যাচে এসেও জয়ের মুখ দেখল না ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু টুর্নামেন্টে এই প্রথম বার তাদের দেখে মনে হল জিততে পারে। গোটা ম্যাচেই নজর কাড়লেন জার্মানিজাত স্টাইনমান। ম্যাচে দু’টো গোল করা ছাড়াও ইস্টবেঙ্গলের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। ফলে, তিনিই ম্যাচের নায়ক নির্বাচিত হলেন।

প্রথমার্ধেই চেন্নাইয়িনের গোল

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই প্রথম কর্নার ইস্টবেঙ্গলের অনুকূলে। প্রতিহত চেন্নাইয়িন রক্ষণে। পরের মিনিটেই বক্সের বাইরে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে। কিন্তু কোনো বিপদ হয়নি। একটু বেশি জোরে শট নেন পিল্কিংটন।

ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলই কিন্তু এগিয়ে ছিল আক্রমণের দিক থেকে। দশম মিনিটে দ্বিতীয় কর্নার পায় ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইয়িনের ডিফেন্সে সেটা প্রতিহত হয়ে যায়। কিন্তু এর তিন মিনিটের মাথায় বিশাল বড়ো ধাক্কা খায় লালহলুদ।

প্রতি-আক্রমণ থেকে ছাংতের গোলে ১৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় চেন্নাইয়িন।

আচমকা গোল খেয়ে মাথায় যেন বাজ পড়ে ইস্টবেঙ্গলের। অসম্ভব ছন্নছাড়া হয়ে যায় গোটা দলটা, ঠিক যেমন আগের ম্যাচগুলোতেই দেখা যাচ্ছিল। যদিও এই পরিস্থিতিতে ঠিক উলটোটাই করা উচিত গোল খাওয়া দলের। আরও দ্বিগুণ ভাবে ঝাঁপানো উচিত ছিল তাদের।

ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে চাপ বজায় রেখে ২১ মিনিটে একটি ফ্রি-কিক আদায় করে নেয় চেন্নাইয়িন। কিন্তু ক্রিভেলারোর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।

ইস্টবেঙ্গলের কাছে ম্যাচের প্রথম সুযোগ আছে কুলিং ব্রেকের ঠিক আগে। স্টাইনমানের বাড়ানো বল ধরে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মাঘোমা। ঠিক সময়ে গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন চেন্নাইয়িন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।

৩৩ এবং ৩৪ মিনিটের পর পর দু’ বার কর্নার পায় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সমতা ফেরানোর মতো কোনো সুযোগই তৈরি হয়নি।

৩৬তম মিনিটে অবধারিত একটা গোল মিস করেন মহম্মদ রফিক। আরও একবার চেন্নাইয়িন ডিফেন্স চিরে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন স্টেইনম্যান। গোলরক্ষককে পরাস্ত করেও ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন রফিক। এটার পর অবশ্য প্রথমার্ধে আর কোনো চমকপ্রদ কিছু ঘটনা ঘটেনি। ১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতি যায় চেন্নাইয়িন।

জমজমাট দ্বিতীয়ার্ধ

জোড়া পরিবর্তন করে দ্বিতীয়ার্ধে নামে ইস্টবেঙ্গল। শেহনাজের পরিবর্তে মাঠে আসেন জেজে। সুরচন্দ্রর পরিবর্তে এলেন রোহেন সিংকে মাঠে নামান রবি ফাউলার। এই অর্ধের শুরু থেকে কিছুটা বাড়তি তাগিদ দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে।

বার বার আক্রমণ করতে থাকে লালহলুদ। আর ঠিক এ ভাবে ৫৯ মিনিটে সমতা ফেরায় তারা। জাইরুর কর্নার থেকে স্টাইনমানের হেড জড়িয়ে চেন্নাইয়িনের জালে। সমতা ফিরে আসায় ইস্টবেঙ্গল শিবিরে স্বস্তি তো আসেই, কিন্তু সেটা বেশিক্ষণের জন্য ছিল না।

৬৪তম মিনিটে রহিম আলির গোলে ফের এগিয়ে যায় চেন্নাইয়িন। আবার যেন মাথায় বাজ পড়ে লালহলুদের। এর ঠিক পরের মিনিটেই সিলভেস্টারের শট কর্নারের বিনিময়ে দুরন্ত সেভ করেন দেবজিত।

কিন্তু ইস্টবেঙ্গল এ বার পালটা আক্রমণ শানাতে থাকছিল। আর ঠিক এর মধ্যে দিয়েই ৬৯ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল, সেই স্টাইনমানের মধ্যে দিয়ে।

জাইরুর কর্নার চেন্নাইয়িন রক্ষণে প্রতিহত হলে ফিরতি বলে ফক্সের হেড বিশাল কাইথ রক্ষা করলে তা জমা পড়ে স্টাইনমানের আস্তানায়। জোরালো শটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলেন হামবুর্গের মিডফিল্ডার।

গোল করার ব্যাপারে ইস্টবেঙ্গল এ দিন পারদর্শিতা দেখালেও, রক্ষণে দুর্বল লাগছিল লালহলুদকে। সেই রক্ষণের চূড়ান্ত গাফিলতিতে ৭৯ মিনিটে ফের গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল চেন্নাইয়িন। সিলভেস্টারের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দু’ দলই এর পর একের পর এক কর্নার পেয়ে যায় কিন্তু কাজের কাজ কেউ করতে পারেনি। শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা ডিফেন্স নির্ভর হয়ে গিয়েছিল দুই দলই। দুই কোচই চাইছিলেন একটা পয়েন্টেই সন্তুষ্ট থাকতে। আর তাই অমীমাংসিত ভাবেই শেষ হল খেলা।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

দুশোর আগেই শেষ অস্ট্রেলিয়া, ওপেনিংয়ে নজর কাড়ছেন শুভমন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন