Willis Plaza striker

ইস্টবেঙ্গল-২(আমনা, প্লাজা)   মহামেডান- ২(জিতেন, ডিকা)

কলকাতা: নাটকীয়তায় ভরা মিনিডার্বির সাক্ষী হয়ে রইল কল্যাণী। যতগুলো নাটকীয় বিষয় মনে পড়ছে জানিয়ে দেওয়া যাক।

১) তীব্র গরম ও আর্দ্রতার জেরে প্রথমার্ধের খেলা কিছুক্ষণ এগোনোর পর থেকেই সময় নষ্ট শুরু করলেন ফুটবলাররা। পেশিতে টান ধরতে থাকল একের পর এক ফুটবলারের। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে প্রথমার্ধে ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় এবং দ্বিতীয়ার্ধে ৮ মিনিট অতিরিক্ত সময় খেলা চালাতে হল। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময় চলাকালীন রেফারির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে বেশ কিছুটা সময় নষ্ট করেন মহামেডান কর্মকর্তারা। দাবি ছিল মিচেলকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার।

২) তিন তিনবার পোস্টে বল লাগল ইস্টবেঙ্গলের। এক ম্যাচে একই দলের তিনবার পোস্টে বল লাগার ঘটনা মনে করতে পারছেন না প্রাক্তন ফুটবলাররাও।

৩) গতবার অবধি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার ছিলেন জিতেন মুর্মু। এবারও তাঁর লালহলুদ জার্সি পরারই কথা ছিল। কিন্তু চুক্তি নিয়ে টালবাহানায় লিগ শুরুর মাত্র ৭দিন আগে তিনি মহামেডানে যোগ দেন। গোটা লিগটাই ভালো খেলছেন। কিন্তু এদিন নিজে একটি গোল করে, আরেকটি গোল ডিকাকে দিয়ে করিয়ে হয়তো প্রতিশোধই নিলেন পুরোনো ক্লাবের ওপর। এদিন ম্যাচের সেরা তিনিই।

৪) লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডিকাকে মোহনবাগান ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিতর্ক বাড়ছিল। শুক্রবার হুমকি দিয়েছিলেন নিজের গোলের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১১ করবেন এদিন। বড়ো ম্যাচে গোল করা তাঁর পুরোনো অভ্যাস। করলেন।

৫) এবং উইলিস প্লাজা। গোটা লিগে তাঁর পারফরম্যান্সে বিরক্ত ক্লাবকর্তা থেকে সমর্থকরা। আই লিগে তাঁর বদলি খোঁজার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে লালহলুদে। এদিনও প্রথম থেকে বেশ খারাপই খেলছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নড়াচাড়া বাড়িয়ে দিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৭ মিনিটে কেভিন লোবোর পাস থেকে দুরন্ত শটে ম্যাচে সমতা ফেরালেন। লিগ শীর্ষে রেখেদিলেন তাঁর দলকে(মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল, সাত ম্যাচের শেষে দুই দলের পয়েন্ট ১৯ হলেও, গোল পার্থক্যে এগিয়ে লালহলুদ)। কিন্তু এই গোলেই আই লিগে তাঁর লালহলুদ জার্সি গায়ে দেওয়া পাকা হয়ে গেল কি না, তা সময়ই বলবে।

খেলা সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু বলার থাকল না। দুরন্ত খেললেন আল আমনা। যেমন খেলেন। ম্যাচে ৩ মিনিটে তাঁর চমৎকার ভলি থেকেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। প্রায় গোটা ম্যাচটাই তাঁদের প্রাধান্য ছিল। মহামেডানের দুটি গোলই কাউন্টার অ্যাটাকে। একটি প্রথমার্ধে, একটি দ্বিতীয়ার্ধে। দুটি গোলেই কিছু না কিছু দুর্বলতা দেখাল লালহলুদের রক্ষণ। সামনে টালিগঞ্জ অগ্রগামী এবং মোহনবাগান। এবং টানা আটবার লিগ জয়ের হাতছানি। প্লাজার গোলের পর মাটিতে মাথা ছুঁইয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানালেন কোচ খালিদ জামিল। ২৪ তারিখও যদি তাঁকে খুশি হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়, তাহলে কিন্তু ডিফেন্স নিয়ে সময় দিতে হবে।

কিছু পাওয়ার ছিল না মহামেডানের। কিন্তু খেলোয়াড়দের পাওয়ার ছিল। তাই দীপেন্দু দুয়ারি, শেখ ফৈয়াজরা চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। কোচ বিশ্বজিত তাঁদের ওপেন ফুটবল খেলতে শিখিয়েছেন। তাই এক ম্যাচে বাকি থাকতেই লিগে ২৫টি গোল হয়ে গেল সাদাকালো ব্রিগেডের। কিন্তু দুর্বল ডিফেন্সের জন্য খেতেও হয়েছে ১২টি গোল। তাই লিগের বেশিরভাগ ম্যাচে মনমাতানো ফুটবল খেলেও অন্ধকারেই থেকে গেল মহামেডান স্পোর্টিং।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here