’৬৬-এর পর এই প্রথম নক-আউট স্তরে ইংল্যান্ডের কাছে হারল জার্মানি

0
হারল জার্মানি।
জয়ের পরে ইংল্যান্ডের উল্লাস। ছবি UEFA EURO 2020 Twitter থেকে নেওয়া।

ইংল্যান্ড (২) (স্টার্লিং, কেন) জার্মানি (০)

খবরঅনলাইন ডেস্ক: পুরোনো ইতিহাস মুছে ফেলে নতুন ইতিহাস রচনা করল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬-এর পর এই প্রথম কোনো বড়ো টুর্নামেন্টে নক-আউট পর্যায়ে জার্মানিকে পরাস্ত করল ইংল্যান্ড।  

Shyamsundar

আরও ইতিহাস আছে। যে উইম্বলের মাঠে গত ৭টা ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে অপরাজিত থেকেছে জার্মানি, যে উইম্বলের মাঠে ১৯৬৬-র বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারার পর জার্মানি নকআউট পর্যায়ের ৪টে ম্যাচেই ইংল্যান্ডকে পরাস্ত করেছে, সেই উইম্বেলেতে মধুর প্রতিশোধ ইংল্যান্ডের।

মঙ্গলবার লন্ডনের উইম্বলে স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ বারের ইউরোর ‘রাউন্ড অব ১৬-য়’ জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।

এ বারের ইউরোয় ইংল্যান্ড গ্রুপ লিগের ৩টা ম্যাচ-সহ এখনও পর্যন্ত সব কটা ম্যাচই ঘরের মাঠে খেলল এবং অপরাজেয় থাকল। ঘরের মাঠে এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার সুযোগ ২৫ বছরে কখনও পায়নি ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের সামনে সেই সুযোগকে কাজে লাগাল ইংল্যান্ড।

প্রথম গোল করার পর রহিম স্টার্লিং। ছবি UEFA EURO 2020 Twitter থেকে নেওয়া।

গোলশূন্য প্রথমার্ধ               

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই হ্যারি ম্যাগুইরেকে ফাউল করে জার্মানির থমাস মুয়েলার ইংল্যান্ডের হাতে ফ্রি-কিক সুযোগ তুলে দেন। তবে সেই ফ্রি-কিক কাজে লাগাতে পারেননি লিউক শ’। ম্যাচের ৪ মিনিটে জার্মানির লিওন গোরেৎসকা প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে শট নেন। কিন্তু তা সহজেই বাঁচিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট জার্মানিরই আধিপত্য থাকে। ইংল্যান্ড সে ভাবে আক্রমণে উঠে আসতে পারেনি । শেষ পর্যন্ত ১৪ মিনিটে ডেক্ল্যান রাইসের শট থেকে মাথা ছোঁয়ান ম্যাগুইরে। কিন্তু সেই হেডে তেমন জোর ছিল না। ১৬ মিনিটে রহিম স্টার্লিংয়ের দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার।

খেলা সমানে সমানে চলতে থাকে। দু’ পক্ষই ফ্রি-কিক পায়, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ২৭ মিনিটে ইংল্যান্ডের কির‍্যান ট্রিপিয়ারের কাছ থেকে ক্রস পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন ম্যাগুইরে। ৩২ মিনিটে কাই হাভার্ৎসের কাছ থেকে পাস পেয়ে জার্মানির টিমো ভেরনার অনেকটা দৌড়ে এসে গোলে শট করেন, কিন্তু পিকফোর্ড সতর্ক ছিলেন। ইংল্যান্ডের কোনো বিপদ ঘটেনি। বিরতির ঠিক আগে অধিনায়ক হ্যারি কেনকে তাঁর প্রথম ইউরো গোল থেকে বঞ্চিত করেন মাটস্‌ হুমেলস। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

হ্যারি কেন হেড দিয়ে গোল করছেন। ছবি UEFA EURO 2020 Twitter থেকে নেওয়া।

ইংল্যান্ডের ২ গোল

দ্বিতীয়ার্ধের আবার গোল করার সুযোগ পায় জার্মানি। ৪৮ মিনিটে হাভার্ৎসের শট দুর্দান্ত ভাবে বাঁচিয়ে দেন পিকফোর্ড। এর ৫ মিনি্ট পরেই লক্ষ্যভ্রস্ট হন রবিন গোসেনস। এর পর জার্মানি পর পর দু’টো কর্নার পায়, কিন্তু কাজে আসেনি।

এর পরই ইংল্যান্ড আক্রমণ শানাতে থাকে। ৬৩ মিনিটে স্টার্লিং সোজাসুজি একটা ক্রস নয়ারের হাতে তুলে দেন।

খেলা গড়িয়ে চলে। কোনো পক্ষই গোলের মুখ দেখতে পায় না। ইতিমধ্যে দু’ পক্ষই পরিবর্ত খেলোয়াড় নামায়। ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকার জায়গায় নামে গ্রিয়ালিশ, আর জার্মানির টিমো ভেরনারের জায়গায় ন্যাবরি।

শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে গোল করে ইংল্যান্ড। এটা ছিল স্টার্লিং, কেন, গ্রিয়ালিশ ও শ’-এর দলবদ্ধ প্রচেষ্টা। শেষ পর্যন্ত জার্মানির গোলের কাছে এসে গ্রিয়ালিশ একটা ক্রস বাড়ান স্টার্লিংকে। প্রতিপক্ষের গোলের কোণ ঘেঁসে বল জড়িয়ে যায় জালে। নয়ার গোল বাঁচানোর কোনো সুযোগ পাননি।

দুর্ভাগ্য জার্মানির। ৮১ মিনিটে দারুণ গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন মুয়েলার। এগিয়ে আসা পিকফোর্ড পরাস্ত করতে গিয়ে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য মিস করলেন মুয়েলার।  

একটা মজার পরিসংখ্যান। যে ১২টা ম্যাচে স্টার্লিং গোল করেছে, সেই সব ম্যাচেই ইংল্যান্ড জিতেছে। স্টার্লিংযের এই গোলও যে সেই ইতিহাস বজায় রাখল। ৮৬ মিনিটে আবার গোল ইংল্যান্ডের। গ্রিয়ালিশের শটে হেড দিয়ে জার্মানির গোলে পাঠালেন অধিনায়ক কেন। এই টুর্নামেন্টে কেনের প্রথম গোল।

৯০ মিনিটে আবার লক্ষ্য মিস। এ বার অপরাধী জার্মানির গোরেৎসকা। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত আরও ৪ মিনিট। কিন্তু ফল অপরিবর্তিত থাকল। ইংল্যান্ড জিতল ২-০ গোলে। এই প্রথম কোনো বড়ো টুর্নামেন্টে রাউন্ড অব ১৬-এ হেরে গেল জার্মানি।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন