ইউরো ২০২০ আপডেট: শেষ মুহূর্তের গোলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষ আটে ইউক্রেন

    আরও পড়ুন

    খবরঅনলাইন ডেস্ক: ইউরো ২০২০-এর প্রত্যেকটি ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পাবেন এই অংশে। ম্যাচের ফলাফলের জন্য দেখতে থাকুন খবর অনলাইন।

    রাউন্ড অব ১৬, ৮ম ম্যাচ: সুইডেন (১) ইউক্রেন (২)

    চলতি ইউরোয় আরও এক অঘটন। তুলনামূলক শক্তিশালী সুইডেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ইউক্রেন।

    Loading videos...

    দুই দল কিছুটা ধীর গতিতে শুরু করেছিল ম্যাচ। প্রথম দিকে ছিল বিপক্ষকে মেপে নেওয়ার চেষ্টা। ২৭ মিনিটে গোলের খাতা খোলে ইউক্রেন। জিনচেঙ্কোর গোলে এগিয়ে যায় ইউক্রেন। বিরতীর আগেই গোল শোধ করে সুইডেন। ফোর্সবার্গের গোলে সমতা ফেরায় তারা।

    - Advertisement -

    দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্য খারাপ ছিল ফোসবার্গের। পর পর দু’বার তাঁর দুটো দারুণ শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। প্রথমে ৫৬ মিনিটে এবং তারপর ৬৯ মিনিটে যেভাবে তাঁর শটটা গোলপোস্টে লেগে ফিরে এল সেটা দেখা যায় না।

    ১-১ অবস্থায় থাকার ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৮ মিনিটে বড় ধাক্কা খেল সুইডেন। ট্যাকল করতে গিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখলেন মার্কাস ড্যানিয়েলসন। বাকি সময়টা সুইডেনকে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়েই খেলতে হয়। অতিরিক্ত সময়ও কার্যত অমীমাংসিত ভাবেই শেষ হচ্ছিল। কিন্তু ১২০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পর, স্টপেজ টাইমে ইউক্রেনের হয় জয়সূচক গোল করেন আর্তেন ডভবেক। জিনসেঙ্কোর রিলিজ থেকে অসাধারণ একটা হেড দেন তিনি। এটাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

    রাউন্ড অব ১৬, ৭ম ম্যাচ: ইংল্যান্ড (২) জার্মানি (০)

    ইতিহাস রচনা করল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬-র বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এই প্রথম নক-আউট স্তরে ইংল্যান্ড হারাল জার্মানিকে।

    মঙ্গলবার লন্ডনের উইম্বলে স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ বারের ইউরোর ‘রাউন্ড অব ১৬-য়’ জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।

    ম্যাচের শুরু থেকেই প্রায় সমানে সমানে খেলা চলতে থাকে। দুই পক্ষই গোল করার অল্পবিস্তর সুযোগ পায়। কিন্তু অব্যর্থ গোলের সুযোগ কেউই পায়নি। গোলশূন্য অবস্থায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ২০ মিনিট যেন জ্বলে ওঠে ইংল্যান্ড। ৭৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের প্রথম গোল আসে। স্টার্লিং, কেন, গ্রিয়ালিশ ও শ’-এর দলবদ্ধ প্রচেষ্টার ফল। অবশেষে গ্রিয়ালিশের ক্রস থেকে গোল করেন স্টার্লিং।

    ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় গোল আসে ৮৬ মিনিটে। গ্রিয়ালিশের শটে হেড দিয়ে জার্মানির গোলে পাঠান অধিনায়ক হ্যারি কেন।      

    রাউন্ড অব ১৬, ৬ষ্ঠ ম্যাচ: ফ্রান্স ৩ (৪) সুইৎজারল্যান্ড ৩ (৫)

    চলতি ইউরোর সেরা অঘটনটি ঘটিয়ে দিল সুইৎজারল্যান্ড। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে পেনাল্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল তারা। সোমবার রাতের ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এক গোলে পিছিয়ে থেকে এক সময়ে এগিয়েও গিয়েছিল ৩-১ গোলে। এখান থেকেই ম্যাচে ফেরে সুইসরা। দুটো গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনেন সেফেরোভিচ এবং মারিও। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ছিল ৩-৩। ১২০ মিনিটের শেষেও স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে।

    এর পর পেনাল্টি শুট আউটে ঘটে যায় মহা অঘটন। ৫-৪ গোলে ম্যাচ জেতে সুইজারল্যান্ড।

    রাউন্ড অব ১৬, ৫ম ম্যাচ: স্পেন (৫) ক্রোয়েশিয়া (৩)

    এমন আকর্ষণীয় আক্রমণাত্মক ফুটবল আন্তর্জাতিক মঞ্চে খুব কম দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে হার মানল স্পেন। সোমবার রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে স্পেন ৫-৩ গোলে হারাল ক্রোয়েশিয়াকে।

    কোপেনহাগেনের পারকেন স্টেডিয়ামে আয়োজিত স্পেন বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ গোলে অমীমাংসিত থাকে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা।

    খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। বেশি সময় বলের দখল তাদেরই থাকে। ক্রোয়েশিয়াকে বেশ ঘাম ঝরাতে হয় বলের দখল পেতে। ১৮ মিনিটের মাথায় প্রথম ক্রোয়েশিয়া স্পেনের রক্ষণভাগে ঢোকার সুযোগ পায় এবং ২০ মিনিটেই তার পুরস্কার পেয়ে যায়। পেদ্রির একটা ব্যাক পাস ধরতে ব্যর্থ হন স্পেনের গোলকিপার উনাই সাইমন। আত্মঘাতী গোলে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায়।

    এর পর ম্যাচের ৩৮, ৫৭ এবং ৭৭ মিনিটে গোল করে স্পেন ৩-১ গোলে এগিয়ে যায়। গোলগুলি করেন পাবলো সারাবিয়া, সেজার আজপিলিকুয়েটা এবং ফেরান টোরেস

    এ ভাবে যে ম্যাচে ফিরে আসা যায় তা বোধহয় দু’ দেশেরই সমর্থকরা ভাবতে পারেননি। নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর ৫ মিনিট বাকি। গোল পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। স্প্যানিশ গোলমুখের জটলা থেকে মিসলাভ ওরসিচ গোল করেন। এতেও থামেনি ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৯২ মিনিটে পাসালিচের দুর্দান্ত হেডে পরাস্ত হন উনাই সাইমন। ফল ৩-৩। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

    অতিরিক্ত সময়ে স্পেন আহত সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার উপর। ম্যাচের ১০০ মিনিটে মোরাতা এবং ১০৩ মিনিটে ওয়ারজাবাই গোল করে স্পেনকে ৫-৩ গোলে জিতিয়ে দেন।              

    রাউন্ড অব ১৬, ৪র্থ ম্যাচ: বেলজিয়াম (১) পর্তুগাল (০)

    বেলজিয়ামের কাছে ১ গোলে হেরে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা চলতি টুর্নামেন্টের শেষ ১৬ থেকেই বিদায় নিল। ম্যাচের ৪২ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন এগিয়ে দেন থরগান হাজার্ড। তিনি তারকা ইডেন হাজার্ডের ভাই। লুকাকুর থেকে বল যায় ডায়াসের কাছে। সেখান থেকে পা ঘুরে ডি ব্রুইন। ডি ব্রুইনের ডান পায়ের ফ্লিক প্রতিহত হয় পর্তুগালের রক্ষণে। কিন্তু, বল সেই বেলজিয়ামের দখলেই থাকে।

    বাঁ দিকে মুনিয়ারের পায়ে আসে বল। সেখান থেকে তিনি বাড়ান হাজার্ডের দিকে। অবশেষে তাঁর ডান পায়ের লম্বা শট বিপক্ষের জালে জড়িয়ে যায়। এই জায়গায় পর্তুগালের গোলরক্ষক লুই প্যাট্রিসিয়োর অবশ্য করার কিছুই ছিল না।

    এর পর ম্যাচে আর কোনো গোল হয়নি। নিষ্প্রভ ছিলেন রোনাল্ডো। কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম।

    রাউন্ড অব ১৬, ৩য় ম্যাচ: চেক রিপাবলিক (২) নেদারল্যান্ডস (০)

    এ বারের ইউরোয় লিগের প্রতিটি খেলায় জেতা নেদারল্যান্ডসকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল চেক রিপাবলিক।

    প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হলেও পরিষ্কার আধিপত্য ছিল ডাচদের। বার বার গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে তারা। ৮, ১৩, ১৮ মিনিটে। চেকরা প্রথম সুযোগ পায় ২২ মিনিটে। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি। তার পর সমানে সমানেই খেলা চলতে থাকে।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে দুর্দান্ত গোল বাঁচান চেক গোলকিপার ভ্যাকলিক। এটাই বোধহয় টুর্নামেণ্টের ‘বেস্ট সেভ’। এক গুচ্ছ চেক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেদারল্যান্ডসের মালেন গোল লক্ষ্য করে যে শট নেন, তা দুর্দান্ত ভাবে বাঁচিয়ে দেন ভ্যাকলিক। নইলে এটা অবধারিত গোল ছিল।

    কিন্তু দুর্ভাগ্য নেদারল্যান্ডসের। পরের মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় ডে লিকট্‌কে। ম্যাচের বাকি ৪২ মিনিট ১০ জনে খেলে নেদারল্যান্ডস। এবং তারই সুযোগে দু’টি গোল করে ফেলে চেক – ৬৯ মিনিটে হোলস এবং ৭৯ মিনিটে শিক।

    রাউন্ড অব ১৬, ২য় ম্যাচ: ইতালি (২) অস্ট্রিয়া (১)

    ২-১ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছোল ইতালি।

    ম্যাচের নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকে ফলাফল। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই অতিরিক্ত সময়ে দুই পরিবর্ত খেলোয়াড় ফেডেরিকো চিসা এবং মাত্তেও পেসিনার গোলে ইতালি জয়ের মুখ দেখে।

    খেলার ৯৫ মিনিটে দুর্দান্ত শটে অস্ট্রিয়ার গোলকিপার বাখমানকে পরাস্ত করেন চিসা। ইতালির দ্বিতীয় গোল আসে খেলার ১০৫ মিনিটে পেসিনার পা থেকে।

    অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে একটা গোল শোধ করে অস্ট্রিয়া। অস্ট্রিয়ার হয়ে গোল করেন কালাইৎসিক।

    রাউন্ড অব ১৬, ১ম ম্যাচ: ডেনমার্ক (৪) ওয়েলস (০)

    রাউন্ড অব ১৬-এর প্রথম খেলায় শনিবার ডেনমার্ক ৩-০ গোলে ওয়েলসকে হারিয়ে এ বারের ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল।

    ডেনমার্কের প্রথম গোল আসে প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটে। প্রতিপক্ষের গোলে এটাই ছিল প্রথম শট। আর সেই শট থেকে গোল পেলেন ডোলবার্গ।

    দ্বিতীয় গোলও এল ডোলবার্গের পা থেকে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮ মিনিটে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ২ মিনিট আগে আবার গোল করে ডেনমার্কে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন জোয়াকিম ম্যালে।

    অতিরিক্ত সময়ের চার মিনিটে ডেনমার্কের ব্রেথওয়েটের গোল প্রথমে অফসাইড ডেকে রেফারি নাকচ করে দেন। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিজ-এর পরীক্ষার (VAR check) পর দেখা যায় এটি গোল ছিল। ডেনমার্ক ৪-০ গোলে জেতে।

    হাঙ্গেরির স্বপ্নভঙ্গ

    গ্রুপ ‘এফ’ তথা চলতি ইউরোয় যাকে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ বলা হচ্ছে, সেই গ্রুপ থেকে নক আউট পর্বে চলে গেল ফ্রান্স, জার্মান এবং পর্তুগাল। এই গ্রুপে তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে থাকল ফ্রান্স। অন্যদিকে জার্মানি এবং পর্তুগাল দুই দলেরই পয়েন্ট ৪। তবে গোল পার্থক্যের কারণে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল জার্মানি। দুরন্ত লড়েও স্বপ্নভঙ্গ হল হাঙ্গেরির।

    ৩৬তম ম্যাচ: হাঙ্গেরি (২) জার্মানি (২)

    বুধবার মহানাটকীয় রাত উপহার দিল ইউরো (Euro Cup 2020)। দুর্দান্ত লড়াই করেও জার্মানদের হারাতে পারল না হাঙ্গেরি (Hungary)। অমীমাংসিত ভাবে শেষ হল জার্মানি (Germany) বনাম হাঙ্গেরি ম্যাচ।

    ১১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করেই হাঙ্গেরিকে প্রথমে এগিয়ে দেন অ্যাডাম সেলয়। ম্যাচের ৬৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল আন্ডারডগরাই। কিন্তু ৬৬ মিনিটে গোলকিপারের ভুলে গোল হজম করতে হয় তাঁদের। কার্যত ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দিয়ে জার্মানদের সমতায় ফেরান কাই হ্যাভার্টজ (Kai Havertz)।

    তবে এর কিছুক্ষণ পরেই আরও এক অঘটন ঘটে যায় জার্মানদের জন্য। দু’মিনিটের মধ্যেই ফের এগিয়ে যায় হাঙ্গেরি। এবারে গোল করেন সাফার। একটা সময় মনে হচ্ছিল, ইউরোর সবচেয়ে বড়ো অঘটন বুঝি ঘটেই গেল। জার্মানরা বুঝি ছিটকেই গেল। ঠিক তখনই গোরেটজকার দুর্দান্ত গোলে ফের সমতা ফেরায় জার্মানরা। ম্যাচ শেষ হয় ২-২ গোলে। ড্র’য়ের ফলে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল জার্মানি। শেষ ষোলোয় জার্মানদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ২৯ জুন মঙ্গলবার, রাত সাড়ে ন’টায় এই ম্যাচ।

    ৩৫ তম ম্যাচ: ফ্রান্স (২) পর্তুগাল (২)

    পর্তুগালকে ইউরোর নক আউট পর্বে তুলে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোই। তাঁর জোড়া গোলে ভর করে ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এর ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আটকে দিল বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। গোটা ম্যাচে চারটে গোল হল। এর মধ্যে তিনটেই ছিল পেনাল্টি। ম্যাচের ৩০ মিনিটে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনাল্ডো।

    বিরতির ঠিক আগে করিম বেনজিমা পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ফ্রান্সের হয়ে। এমবাপে পেনাল্টি আদায় করে নেন।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন বেনজিমা। এর পরে আবার রোনাল্ডো ম্যাজিক। তিনি নিজেই পেনাল্টি আদায় করেন। পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান মহানায়ক।

    গ্রুপ ই থেকে শেষ ১৬-য় গেল সুইডেন ও স্পেন

    এ বারের ইউরোর গ্রুপ ই-তে বুধবার সুইডেন ৩-২ গোলে পোল্যান্ডকে হারিয়ে রাউন্ড অব ১৬’য় গেল। ৩টি খেলা থেকে তাদের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। সুইডেনের সঙ্গে শেষ ১৬-য় গেল স্পেন। তারা স্লোভাকিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ৩টি খেলা থেকে সংগ্রহ করল ৫ পয়েন্ট। এই গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্লোভাকিয়া। তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। ৬টি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের মধ্যে ৪টি শেষ ১৬-য় যাবে। স্লোভাকিয়ার শেষ ১৬-য় যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, কারণ গোলপার্থক্যের হিসাবে তারা সম্ভবত পিছিয়ে থাকবে। তবে চূড়ান্ত ছবিটা পরিষ্কার হবে বুধবার মধ্যরাতে (ভারতীয় সময়) গ্রুপ ‘এফ’-এর খেলা শেষ হওয়ার পর।

    ৩৪তম ম্যাচ: স্পেন (৫) স্লোভাকিয়া (০)

    গ্রুপ ই-তে স্পেন তাদের আগের দু’টি ম্যাচে নিজেদের সে ভাবে মেলে ধরতে পারেনি। কিন্তু বুধবার যেন তারা ভেলকি দেখাল। প্রতিপক্ষ স্লোভাকিয়াকে গুঁড়িয়ে দিল ৫-০ গোলে। এ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও পর্যন্ত এটাই হল জয়ের সব চেয়ে বড়ো ব্যবধান।

    তবে স্পেনের পাঁচটি গোলের মধ্যে নিজেদের ৩টি গোল, বাকি দু’টি আত্মঘাতী। এ বারের ইউরোতে আত্মঘাতী গোলের রমরমা যেন বড়ো বেশি।

    বুধবার স্পেনের সেভিলে লা কারতুজা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধের ১১ মিনিটে পেনাল্টি পায় স্পেন। কিন্তু মোরাতা পেনাল্টি মিস করেন। ৩০ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। কিন্তু সেটা ছিল স্লোভাকিয়ার অধিনায়ক দুবরাভকাসের আত্মঘাতী গোল। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আমেরিক লাপোরতে নিজের খেলোয়াড় জীবনে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে স্পেনকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন।          

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে স্পেনের আবার গোল। এ বার গোলদাতা পাবলো সারাবিয়া। ৬৭ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে স্পেনের ব্যবধান বেড়ে হয় ৪-০। ৪ মিনিট পরেই আবার গোল। স্লোভাকিয়ার জুরাজ কুচকা নিজেদের গোলে বল ঢুকিয়ে দেন।

    ৫-০ গোলে জিতে ‘রাউন্ড অব ১৬’য় ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হল স্পেন। ২৮ জুন কোপেনহাগেনে এই দুই দলের খেলা।       

    ৩৩তম ম্যাচ: সুইডেন (৩) পোল্যান্ড (২)

    গোটা ম্যাচটা আধিপত্য রেখে গেল পোল্যান্ড। বলে দখল ছিল অনেক বেশি, শট ছিল অনেক বেশি, এমনকি গোল লক্ষ্য করে শটও তাদের বেশি – অথচ হেরে গেল তারা। শুধু হারাই নয়, গ্রুপ ই-তে একদম শেষ স্থান পেয়ে ইউরো থেকে বিদায় নিল পোল্যান্ড।

    ম্যাচের ৮২ সেকেন্ডে প্রথম গোল সুইডেনের। এমিল ফোর্সবার্গ ইউরোর ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলদাতা হিসাবে নাম লিখে রাখলেন। প্রথমার্ধে সুইডেন ১-০ গোলে এগিয়ে গেল। কিন্তু এই ফলটাই ২-১ হতে পারত যদি দু’ দু’ বার পোল্যান্ডের রবার্ট লেওয়ানডাওস্কির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে না আসত।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে ফোর্সবার্গ তথা সুইডেনের দ্বিতীয় গোল। ২ মিনিট পরেই ব্যবধান কমালেন লেওয়ানডাওস্কি। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর দুর্দান্ত বাঁক নেওয়া শট নিজেদের জালে জড়াতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন সুইডেনের গোলকিপার।

    ৮৪ মিনিটে লেওয়ানডাওস্কির দ্বিতীয় গোল, ফল ২-২। টান টান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ৪ মিনিটে ক্লেসনের গোলে কপাল ফিরল সুইডেনের। জিতল ৩-২ গোলে।

    ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া পরের রাউন্ডে, চেকের ভাগ্য ঝুলে

    গত বারের বিশ্বকাপ রানার্স ক্রোয়েশিয়া এ বার ইউরো অভিযান খুব একটা ভালো ভাবে শুরু করেনি। কিন্তু শেষ ম্যাচে এসে দুর্দান্ত খেললেন লুকা মদরিচরা। সে কারণে সরাসরি প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেন তাঁরা। অন্যদিকে কষ্টার্জিত জয় পেলেও কাজের কাজটি করে ফেলেছে ইংল্যান্ডও।

    ৩২তম ম্যাচ ক্রোয়েশিয়া (৩) স্কটল্যান্ড (১)

    ১-৩ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দিল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ১৭ মিনিটে নিকোলা ভ্লাসিচের গোলে ক্রোটরা এগিয়ে গেলেও ৪২ মিনিটে সমতা ফেরান কাল্লুম মেকগ্রেগর। রাউন্ড অব সিক্সটিনে যেতে বড়ো ব্যবধানে জিততেউ হতো ক্রোয়েশিয়াকে। দ্বিতীয়ার্ধে এল কাঙ্ক্ষিত জোড়া গোল। ৬২ মিনিটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ফের এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ লুকা মদরিচ। ৭৭ মিনিটে ইভান পেরিসিচ ব্যবধান বাড়ান।

    এই জয়ের পর ক্রোয়েশিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের পয়েন্ট দাঁড়ায় চার। গোলপার্থক্যও সমান-সমান। নিজেদের মধ্যে ম্যাচও ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের চেয়ে একটি গোল বেশি করায় আজই শেষ ১৬-তে চলে গেল ক্রোয়েশিয়া।

    ৩১তম ম্যাচ: ইংল্যান্ড (১) চেক প্রজাতন্ত্র (০)

    ম্যাচে বল দখলের আধিপত্যে এগিয়ে ছিল গ্যারেথ সাউথগেটের ইংল্যান্ড। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা ফের হতাশই করল। প্রথমার্ধে ম্যাচের ২ মিনিটে রাহিম স্টার্লিংয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ১২ মিনিটেই জ্যাক গ্রিলিশের ক্রস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন স্টার্লিং। প্রথমার্ধে হ্যারি কেনও যেভাবে তেড়েফুঁড়ে খেলছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে ততটা দেখা গেল না। ৮৬ মিনিটে হেন্ডারসন বল জালে জড়ালেও অফ সাউডের ফাঁদে পড়ে তা বাতিল হয়।

    শেষ ১৬-এ ক্রোয়েশিয়া যেতে পারে কি না, সেটা জানার জন্য আরও ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

    গ্রুপ ‘বি’ থেকে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম, ডেনমার্ক

    কিছুদিন আগে পর্যন্তও যা কার্যত অসম্ভব লাগছিল, সেটাই হল। গ্রুপ বি থেকে বেলজিয়ামের সঙ্গে শেষ ষোলোয় উঠল ডেনমার্কও। সোমবার কোপেনহাগেনে রাশিয়াকে কার্যত ঝলসে দেয় ডেনমার্ক। অন্যদিকে, চিরাচরিত ভাবেই ১০০ শতাংশ সাফল্যের হার রেখে পরের রাউন্ডে উঠল বেলজিয়াম।

    ৩০তম ম্যাচ বেলজিয়াম (২) ফিনল্যান্ড (০)

    প্রত্যাশা মতোই ফিনল্যান্ডকে হারিয়ে দিল বেলজিয়াম। তবে প্রথম বার বিশ্বমানের টুর্নামেন্টে খেলতে নামা ফিনল্যান্ডকে এ দিন অসম্ভব প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দেখিয়েছে। গোটা ম্যাচে বেলজিয়ামের দাপট থাকলেও কিছুতেই গোলের খাতা খুলতে দেয়নি তারা বেলজিয়ামকে। ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ গোলশূন্য ছিল। কিন্তু তার পরেই ইউরোয় যে রোগ ঢুকেছে সেটাই হল। আত্মঘাতী গোল করে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন লুকাস হ্রাদেকি। এর ৭ মিনিট পর রোমেলু লুকাকুর গোলে ব্যবধান বাড়ায় বেলজিয়াম।

    ২৯তম ম্যাচ ডেনমার্ক (৪) রাশিয়া (১)

    সোমবার রাতের সেরা ম্যাচটি ছিল কোপেনহাগেনে। যেখানে ড্যানিশ ফুতবলের নবজাগরণ হল। রাশিয়াকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলোয় চলে গেল ডেনমার্ক।

    ম্যাচের ৩৮ মিনিটে মিক্কেল দামসগার্ডের গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক। ৫৯ মিনিটে ইউসুফ পোলসেন ব্যবধান বাড়ান। ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন রাশিয়ার আর্টেম জুবা। এরপরই কয়েক মিনিটের জন্য টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা জেগেছিল রাশিয়ার। যদিও আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের ৭৯ মিনিটে করা গোল সেই আশা চুরমার করে দেয়। ৮২ মিনিটে রাশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন জোয়াকিম ম্যাশহলে।

    ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বমানের কোনো টুর্নামেন্টে বিপক্ষকে চার গোল দিল ডেনমার্ক।  প্রথম ম্যাচে অসুস্থ হয়ে পড়া ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের অভাব সত্ত্বেও তারা যে জায়গায় পৌঁছাল, তা নিঃসন্দেহে ডেনমার্কের কাছে গৌরবের।

    গ্রুপ ‘সি’ থেকে উঠল নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া

    এ বারের ইউরোর গ্রুপ সি থেকে ‘রাউন্ড অব ১৬’য় নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে গেল অস্ট্রিয়া। নেদারল্যান্ডস আগেই গিয়েছিল। সোমবার গ্রুপ সি-র দু’টি ম্যাচ একই সময়ে খেলা হয়। নেদারল্যান্ডস ৩-০ গোলে হারায় নর্থ ম্যাসেডোনিয়াকে এবং অস্ট্রিয়া ১-০ গোলে হারায় ইউক্রেনকে। নেদারল্যান্ডস ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের খেলা শেষ করল। অস্ট্রিয়ার সংগ্রহে ৬ পয়েন্ট। গ্রুপ লিগের খেলায় শুধুমাত্র নর্থ ম্যাসেডোনিয়াকে হারিয়ে ইউক্রেন সংগ্রহ করেছে ৩ পয়েন্ট। ইউক্রেনের এখনও শেষ ১৬-য় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইউরোর ৬টি গ্রুপ থেকে ১২টি দল শেষ ১৬-য় যাওয়ার পর বাকি ৪টি দল বাছা হবে ৬টি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল থেকে।

    ২৮তম ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (৩) নর্থ ম্যাসেডোনিয়া (০)

    সোমবার আমস্টারডামের জোহান ক্রুয়েফ এরেনায় আয়োজিত গ্রুপ সি-র আরেকটি ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ৩-০ গোলে হারাল নর্থ ম্যাসেডোনিয়াকে। তবে সমানে সমানে হল এই ম্যাচ। ম্যাচের ফল ৩-৩ বা নর্থ ম্যাসেডোনিয়া জিতলেও বিস্ময়ের কিছু থাকত না।

    প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার ট্রিকোভস্কি বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নেদারল্যান্ডসের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন। কিন্তু তা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। ২১ মিনিটে আবার সুযোগ পেয়েছিলেন ট্রিকোভস্কি। এ বার তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের প্রথম গোল আসে ২৪ মিনিটে। প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করে মেমফিস ডিপে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন।

    দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ৬ মিনিট পরেই নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় গোল। ডিপের বাঁ পায়ের স্কোয়ার পৌঁছে যায় নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার বক্সে তাঁর অধিনায়ক উইজন্যালদামের কাছে। তিনি বাকি কাজটা করতে কোনো ভুল করেননি।

    ৭ মিনিট পরে উইজন্যালদামের দ্বিতীয় গোলে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধের ৭২ মিনিটে আরও একটি গোল থেকে বঞ্চিত হয় নর্থ ম্যাসেডোনিয়া। চুরলিনভের গোল অফসাইডের দরুন বাতিল হয়।                    

    ২৭তম ম্যাচ: অস্ট্রিয়া (১) ইউক্রেন (০)

    সোমবার বুখারেস্টের আরেনা নাৎসিওনালায় আয়োজিত গ্রুপ সি-র ম্যাচে অস্ট্রিয়া ১-০ গোলে হারায় ইউক্রেনকে।

    প্রথমার্ধের ২১ মিনিটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কর্নার পায় অস্ট্রিয়া। ডাভিড আলাবার কর্নার কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ক্রিস্টোফ বাউমগার্টনার।

    হোফেনহাইমের মিডফিল্ডার বাউমগার্টনারের গোলের সৌজন্যে জয়ী অস্ট্রিয়া ২৬ জুন ওয়েম্বলেতে ‘রাউন্ড অব ১৬’য় গ্রুপ এ-র শীর্ষ স্থানাধিকারী ইতালির বিরুদ্ধে খেলবে। ১৯৮২-এর বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো বড়ো টুর্নামেন্টে ইতালি-অস্ট্রিয়া মুখোমুখি হবে।   

    গ্রুপ এ থেকে ‘রাউন্ড অব ১৬’য় আপাতত ইতালি ও ওয়েলস

    এ বারের ইউরোর গ্রুপ এ থেকে ‘রাউন্ড অব ১৬’য় ইতালির সঙ্গে চলে গেল ওয়েলস। ইতালি আগেই গিয়েছিল। রবিবার গ্রুপ এ-র দু’টি ম্যাচ একই সময়ে খেলা হয়। সুইৎজারল্যান্ড ৩-১ গোলে হারায় তুরস্ককে, ইতালির কাছে ০-১ গোলে হারে ওয়েলস। কিন্তু গোল-পার্থক্যের বিচারে ওয়েলস গেল শেষ ১৬-য়। তবে সুইৎজারল্যান্ডের এখনও শেষ ১৬-য় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইউরোর ৬টি গ্রুপ থেকে ১২টি দল শেষ ১৬-য় যাওয়ার পর বাকি ৪টি দল বাছা হবে ৬টি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল থেকে।  

    ২৬তম ম্যাচ: সুইৎজারল্যান্ড (৩) তুরস্ক (১)

    গ্রুপ এ-র ম্যাচে আক্রমণাত্মক খেলা প্রদর্শন করে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারানোর পরেও ‘রাউন্ড অব ১৬’য় যাওয়া নিয়ে ঝুলে রইল সুইৎজারল্যান্ডের ভাগ্য।

    প্রথমার্ধের ৬ ও ২৬ মিনিটে যথাক্রমে হ্যারিস সেফেরোভিচ ও জারদান শাকিরির গোলে ২-০-য় এগিয়ে যায় সুইৎজারল্যান্ড। তুরস্কের মুলদুর প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে বেশ কিছু শট নেন। কিন্তু তাঁর আশায় জল ঢেলে দেন সুইস গোলকিপার ইয়ান সোমার।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে তুরস্ক একটি গোল শোধ করে। কাভেছি সুইস বক্সের একেবারে কাছে রক্ষণের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলকিপারের মাথা টপকে জালে বল জড়িয়ে দেন। ৬ মিনিট পরেই শাকিরির দ্বিতীয় গোলে জয়ের ব্যবধান বাড়ে সুইৎজারল্যান্ডের।       

    ২৫তম ম্যাচ: ইতালি (১) ওয়েলস (০)

    ৩টে খেলা থেকে ৯ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষ স্থান দখল করে গ্রুপ এ-র খেলা শেষ করল ইতালি। রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ওয়েলসকে তারা ১-০ গোলে হারাল। অবশ্য এই গ্রুপ থেকে ওয়েলসও শেষ ১৬-য় গেল।

    ইতালি আগেই ‘রাউন্ড অব ১৬’য় চলে গিয়েছিল। তাই এ দিন তারা যাচাই করে নিল তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ কতটা শক্তিশালী। এ দিন ইতালির ম্যানেজার রোবার্তো মানচিনি প্রথম দলের ৮ জন খেলোয়াড়কে বসিয়ে তুলনায় নতুনদের খেলান। তাঁর পরীক্ষা যে ব্যর্থ হয়নি, এ দিনের জয়েই তার প্রমাণ।

    ইতালির জয়সূচক গোলটি আসে প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে। ফ্রি কিক থেকে ওয়েলসের বক্সে নিচু বল ফেলেন ভেরাত্তি। দৌড়ে এসে সেই বলে পা লাগিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে ওয়েলসের জালে বল ঢুকিয়ে দেন পেসিনা।

    ৫৫ মিনিটে ওয়েলসের আমপাডু লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যান। ১০ জনে লড়ে যায় ওয়েলস। ইতালিকে আর গোল করতে না দিয়ে ‘রাউন্ড অব ১৬’য় জায়গা করে নেয় তারাও।

    ২৪তম ম্যাচ: স্পেন (১) পোল্যান্ড (১)

    শনিবার ইউরোর গ্রুপ ই-র ম্যাচে স্পেন ও পোল্যান্ডের ম্যাচ ১-১ গোলে অমীমাংসিত হল।

    প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে আলভারো মোরাতার গোলে স্পেন এগিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে রবার্ট লেওয়ানডাওস্কি পোল্যান্ডের হয়ে গোল শোধ করেন।

    ৩ মিনিট পরেই পেনাল্টি পায় স্পেন। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন খেরার্ড মোরেনো। গোল করতে পারলে এই গ্রুপে স্পেন অনেক সুবিধাজনক জায়গায় চলে যেত।      

    গ্রুপের প্রত্যেকটি দলের ২টি করে খেলা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোন দু’টো দল ‘রাউন্ড অব ১৬’য় যাবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। সুইডেন, স্লোভাকিয়া, স্পেন ও পোল্যান্ডের সংগ্রহে রয়েছে যথাক্রমে ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট। এই গ্রুপে খেলা বাকি সুইডেন বনাম পোল্যান্ড এবং স্লোভাকিয়া বনাম স্পেন।       

    ২৩তম ম্যাচ: জার্মানি (৪) পর্তুগাল (২)

    শনিবার ইউরোর গ্রুপ এফ-এর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানি ৪-২ গোলে হারিয়ে দিল পর্তুগালকে। মিউনিখের আলিয়ানৎস আরেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এই পরাজয়ের সম্পূর্ণ দায় পর্তুগালের। কারণ জার্মানির ৪টি গোলের মধ্যে ২টিই পর্তুগালের আত্মঘাতী।

    ম্যাচে প্রথম গোল এল কিন্তু সেই সিআরসেভেনের পা থেকে। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে ক্রিস্টিয়ানোর রোনাল্ডোর গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তার পরই বিপর্যয় নেমে আসে। ৩৫ মিনিটে জার্মানির চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পর্তুগালের ডিয়াস নিজেদের গোলেই বল ঢুকিয়ে দেন। ৩ মিনিট পরেই আবার আত্মঘাতী গোল পর্তুগালের। এ বার নিজেদের গোলে বল ঢোকান গুয়েরেইরো। বিরতির সময় জার্মানি এগিয়ে যায় ২-১ গোলে। কিন্তু ৩টি গোলই পর্তুগালের অবদান।

    জার্মানি কিন্তু আক্রমণ থেকে কখনোই পিছিয়ে থাকেনি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। এবং ম্যাচের ৫১ মিনিটে তার ফল পেয়ে যায়। গোসেনসের ক্রস থেকে সহজেই পর্তুগালের জালে বল জড়ান হাভার্ৎস। ১০ মিনিট পরেই আবার গোল পেয়ে যায় জার্মানি, এ বার গোলদাতা গোসেনস নিজেই।

    ৬৭ মিনিটে জার্মানির জয়ের ব্যবধান কমায় পর্তুগাল। ডিয়োগো জোটা গোল করেন। এই গোলের পিছনেও কিন্তু অবদান সিআরসেভেনেরই।     

    ২২তম ম্যাচ: হাঙ্গেরি (১) ফ্রান্স (১)

    শনিবার বুদাপেস্টের পুসকাস এরেনায় আয়োজিত ইউরো কাপের গ্রুপ এফ-এর ম্যাচে হাঙ্গেরির সঙ্গে ১-১ ড্র করে পয়েন্ট নষ্ট করল ফ্রান্স।

    প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে বসল হাঙ্গেরি। প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করলেন অ্যাটিলা ফিওলা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ৬৬ মিনিটে গোল শোধ করে ফ্রান্স। এই গোলও এল প্রতি-আক্রমণ থেকে। আন্তোয়েন গ্রিজমানের শট বাঁচাতে পারেননি হাঙ্গেরির গোলকিপার।

    আপাতত গ্রুপ এফ-এ ২টি ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করল ফ্রান্স। সমসংখ্যক খেলায় হাঙ্গেরির সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। আজ রাতেই পর্তুগাল খেলবে জার্মানির বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে পর্তুগাল ১টা খেলে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। জার্মানি রয়েছে সব চেয়ে দুর্দশায়। প্রথম খেলায় তারা পরাজিত হয়েছে ফ্রান্সের কাছে।         

    ২১তম ম্যাচ ইংল্যান্ড (০) স্কটল্যান্ড (০)

    দুই দশক পর বিশ্বমানের টুর্নামেন্টে খেলতে এসে প্রথম ম্যাচে হারলেও শুক্রবার রাতে চমক দিল স্কটল্যান্ড। হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়ে গ্রুপ ডি-র লড়াই জমিয়ে দিল অ্যান্ড্রু রবার্টসনের নেতৃত্বাধীন দল।

    ১৮৭২ সালে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল ফুটবলের লড়াইয়ে। এই ম্যাচটিই প্রথম আন্তর্জাতিক দ্বৈরথ বলে স্বীকৃত। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রাচীনতম দ্বৈরথ শেষে শেষ হাসি কিন্তু স্কটল্যান্ডই হাসল। নিজেরা গোল না করতে পারলেও ইংল্যান্ডকেও গোল করার কোনো সুযোগই দেয়নি স্কটল্যান্ড।

    তবে দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোয় যাওয়ার পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে ফেলেছে ইংল্যান্ড।

    ২০তম ম্যাচ: চেক রিপাবলিক (১) ক্রোয়েশিয়া (১)

    শুক্রবার গ্লাসগোর হ্যাম্পডেন পার্কে আয়োজিত ইউরোর গ্রুপ ডি-র খেলায় চেক রিপাবলিক ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকল।  

    প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় চেক রিপাবলিক। পেনাল্টি থেকে গোল করেন প্যাট্রিক শিক। এই নিয়ে এই টুর্নামেন্টে শিকের ৩টে গোল হল।

    তবে গোল খাওয়ার পরে তেড়েফুঁড়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া এবং তার ফলও পেয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই গোল শোধ করে তারা। ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে চেকের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন আইভ্যান পেরিসিচ।

    ২টি ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে চেক রিপাবলিক শেষ ১৬-য় যাওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে রইল। অন্য দিকে ২টি ম্যাচ থেকে ক্রোয়েশিয়ার সংগ্রহে রইল মাত্র ১ পয়েন্ট।      

    ১৯তম ম্যাচ: সুইডেন (১) স্লোভাকিয়া (০)

    শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রেস্তোভস্কি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ইউরো কাপের গ্রুপ ই-র ম্যাচে সুইডেন ১-০ গোলে হারাল স্লোভাকিয়াকে। সুইডেনের হয়ে জয়সুচক গোলটি করেন এমিল ফোর্সবার্গ।

    খুব একঘেয়ে খেলা হল প্রথমার্ধে। গোল করার তেমন কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি কোনো দলই। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেন কিছুটা আক্রমণাত্মক হয় এবং তার ফলও পায়। ৭৭ মিনিটে সুইডেনের এমিল ফোর্সবার্গ যে পেনাল্টি শট নেন তা স্লোভাকিয়ার জালে জড়িয়ে যায়। স্লোভাকিয়া কিন্তু তার নেতিবাচক মনোভাব থেকে বেরোতে পারেনি।

    এই জয়ের পর ২টি খেলায় ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শেষ ১৬’র পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল সুইডেন। স্লোভাকিয়ার সংগ্রহে থাকল ২টি খেলে ৩ পয়েন্ট। গ্রুপের আর দুই দল স্পেন ও পোল্যান্ড। ১টি করে খেলা খেলে তাদের সংগ্রহ যথাক্রমে ১ ও ০ পয়েন্ট।

    ১৮তম ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (২) অস্ট্রিয়া (০)

    ইউরোয় আমস্টারডামে কমলা ঝড় অব্যাহত। দাপট দেখিয়ে অস্ট্রিয়াকে ২ গোলে হারিয়ে ইউরোর নক-আউট পর্বে চলে গেল নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ সি-র ম্যাচে জোড়া গোল করলেন ডেঞ্জেল ডামফ্রিস। ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬৭ মিনিটের মাথায় দুরন্ত গোল ডামফ্রিসের। এবারের ইউরোয় তাঁর তৃতীয় গোল।

    এই নিয়ে টানা ৯টি ম্যাচে দুটি বা তার বেশি গোল করল নেদারল্যান্ডস। ১৯৩৫ সালের পর এমন নজির আর দেখাতে পারেনি ডাচরা।

    ১৭তম ম্যাচ: বেলজিয়াম (২) ডেনমার্ক (১)

    ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের কৃতিত্ব অর্জন করল ডেনমার্ক। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। এক গোলে পিছিয়ে থেকে দু’ গোল দিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল বেলজিয়াম।

    বৃহস্পতিবার কোপেনহাগেনের পারকেন স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রুপ বি-র ম্যাচে ৯৯ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে বসে ডেনমার্ক। মিডফিল্ডার পিয়ারে এমিল হবইয়ার্গ অরক্ষিত সতীর্থ ইউসুফ পলসেনকে বল পাশ করেন। পলসেনের ডান পায়ের শট বেলজিয়ামের জালে জড়িয়ে যায়।

    প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের খেলা বেশ দুর্বল ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের রূপ বদলায়। ৫৪ মিনিটে প্রতি-আক্রমণে উঠে আসে বেলজিয়াম। বল পাশ করেন কেভিন দ্য ব্রুনেকে। ব্রুনে স্কোয়ার পাশ দেন থর্গান হাৎসার্ডকে। হাৎসার্ড গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন। ম্যাচের ৭০ মিনিটে বেলজিয়াম জয়সূচক গোলটি পায় কেভিন দ্য ব্রুনের কৃতিত্বে।

    গ্রুপ বি-তে বেলজিয়াম ২টো ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে থাকল। দু’টো ম্যাচে হেরেই ডেনমার্ক রইল একেবারে নীচে। আর ২টো করে খেলে ১টা করে জিতেছে রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড। এ দিন ম্যাচের ১০ মিনিট ম্যাচ অল্পক্ষণ বন্ধ রেখে ডেনমার্কের এরিকসেনের সুস্থতা কামনা করা হয়।           

    ১৬তম ম্যাচ: ইউক্রেন (২) নর্থ ম্যাসেডোনিয়া (১)

    বৃহস্পতিবার ইউরো ২০২০-এর গ্রুপ সি-র ম্যাচে ইউক্রেন ২-১ গোলে হারাল নর্থ ম্যাসেডোনিয়াকে। এই জয়ের ফলে নকআউট পর্যায়ে যাওয়ার আশা রইল ইউক্রেনের কিন্তু নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার ভাগ্য সরু সুতোর উপরে ঝুলে রইল।

    ২৯ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে ইউক্রেনকে এগিয়ে দেন আন্দ্রি জারমোলেঙ্কো। ৫ মিনিট পরেই ইউক্রেন তাদের গোলের সংখ্যা বাড়ায়। এই গোলের পিছনেও দলের অধিনায়ক জারমোলেঙ্কোর কৃতিত্ব অনেকটাই। ইয়ারমোলেঙ্কো বল পাশ করেন অরক্ষিত সতীর্থ রোমান ইয়ারেমচুককে। ইয়ারেমচুক পেনাল্টি বক্স পর্যন্ত দৌড়ে গিয়ে নিচু শটে নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার গোলকিপার দিমিত্রিইয়েভস্কিকে পরাজিত করেন। ৫৭ মিনিটে এজগিয়ান অ্যালিওস্কি নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার হয়ে গোল শোধ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। তবে ইউক্রেন আরও গোলে জিততে পারত যদি রুসলান ম্যালিনোভিস্কির পেনাল্টি শট নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার গোলকিপার বাঁচিয়ে না দিতেন।

    ১৫তম ম্যাচ: ইতালি (৩) সুইৎজারল্যান্ড (০)

    ফিরছে ইতালির স্বর্ণযুগ? ইউরোর প্রথম দু’ম্যাচে যে দাপটের সঙ্গে তারা খেলল তাতে এমনটাই বিশ্বাস করতে হয়। বুধবার রাতে রোমে সুইৎজারল্যান্ডকেও তিন গোলের মালা পরালো তারা। এর মধ্যে দু’গোল করলেন ম্যানুয়েল লোকাতেল্লি।

    ২৬ মিনিটে ইতালি ১-০ এগিয়ে দেন লোকাতেল্লি। দ্বিতীয়ার্ধেও খেলা শুরু হওয়ার সাত মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যায় ইতালি। নেপথ্যে সেই লোকাতেল্লি। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ-পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুরন্ত শটে ৩-০ করেন ইমমোবিলে। নিজেদের ঐতিহ্যশালী চরিত্রের বাইরে বেরিয়ে যে অতিআক্রমণাত্মক ফুটবল ইতালি খেলছে, তা নজর কাড়ছে সবার।

    ১৪শ ম্যাচ: ওয়েলস (২) তুরস্ক (০)

    প্রথম খেলায় সুইৎজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ ড্র করার পর গ্রুপ এ-তে ওয়েলস তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে পরাজিত করল।

    বুধবার আজারবাইজানের বাকুতে আয়োজিত ইউরো কাপের এই ম্যাচটি ছিল তুরস্করও দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে তারা ইতালির কাছে ০-৩ গোলে পরাজিত হয়েছিল।

    প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে ওয়েলসের প্রথম গোলটি আসে। গ্যারেথ বেল একেবারে নিখুঁত লবে বল পাঠান অ্যারন র‍্যামসের কাছে। র‍্যামসে সেই বল বুক দিয়ে নামিয়ে ঘুরে গিয়ে প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে শট নেন। সেই শট ঢুকে যায় তুরস্কের জালে।

    দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে ওয়েলসের দ্বিতীয় গোলটি আসত যদি না গ্যারেথ বেল পেনাল্টি মিস করতেন। তবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ লগ্নে গোল করে কোনোর রবার্টস ওয়েলসের জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন।   

    ১৩শ ম্যাচ: রাশিয়া (১) ফিনল্যান্ড (০)

    জয়ের রাস্তায় ফিরল রাশিয়া। এ বারের ইউরো কাপে রাশিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ০-৩ গোলে হেরে যায়। বুধবার রাশিয়া তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলল ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রেস্তোভস্কি স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রুপ বি-র ওই ম্যাচে রাশিয়া ১-০ গোলে ফিনল্যান্ডকে পরাজিত করে।     

    এ দিন এই ম্যাচ ফিনল্যান্ডেরও দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল। প্রথম ম্যাচে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছিল ডেনমার্ককে।

    প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ফিনল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন রাশিয়ার আলেক্সেই মিরানচুক। সেই গোলের আগে ও পরে দু’ পক্ষই গোল করার বেশ কিছু সুযোগ পায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়া যেমন তাদের জয়ের মার্জিন বাড়াতে পারেনি, তেমনই ফিনল্যান্ডও ম্যাচে সমতা ফেরাতে পারেনি।

    নির্ধারিত সময়ের পরে ৮ মিনিট অতিরিক্ত সময় খেলা চলে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটাও বোধহয় একটা রেকর্ড বিশেষ।     

    ১২শ ম্যাচ ফ্রান্স (১) জার্মানি (০)

    ২০১৮-এর বিশ্বকাপ থেকেই বিশ্বমঞ্চে দুর্দশা শুরু হয়েছে জার্মানির। সেটা যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না। মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হেরে গেল জার্মান যোদ্ধারা। ২০১৬-এর ইউরোর পর ফের একবার তাদের হার ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে পঞ্চম মিনিটে, তাও জার্মানির তরফেই।  পল পোগবা বাঁ-প্রান্তে বল বাড়িয়েছিল লুকাস হার্নান্দেসকে। বায়ার্ন মিউনিখের এই ডিফেন্ডার জার্মানির পেনাল্টি বক্সের মধ্যে সেন্টার করে এমবাপের উদ্দেশে। বল বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে নিজের গোলেই ঢুকিয়ে দেয় আড়াই বছর পরে জার্মানির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটানো ম্যাট হুমেলস। এর পর আরও কোনো দল গোলের কোনো সুযোগ পায়নি।

    ১১শ ম্যাচ: পর্তুগাল (৩) হাঙ্গেরি (০)

    মান রাখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, নিজের এবং দেশের। মঙ্গলবার ইউরো কাপের ম্যাচে তারকাখচিত পর্তুগালকে ৮৪ মিনিট আটকে রাখল হাঙ্গেরি। নির্ধারিত সময়ের বাকি ৬ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে তিনটে গোল করে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে জয় পেল পর্তুগাল।

    মঙ্গলবার বুদাপেস্টের পুসকাস এরেনায় আয়োজিত ইউরো কাপের গ্রুপ এফ-এর ম্যাচে রোনাল্ডো আবার প্রমাণ দিলেন, তিনি সত্যিই অন্যতম বিশ্বসেরা ফুটবলার। পর্তুগালের ৩টে গোলের মধ্যে দু’টিই এল রোনাল্ডোর পা থেকে।

    ম্যাচের ৮৪ মিনিটে পর্তুগালের হয়ে প্রথম গোল করেন রাফায়েল গুয়েরেইরো। ৩ মিনিট পরে রোনাল্ডোর গোল, পেনাল্টি থেকে। তার পর অতিরিক্ত সময়ের ২ মিনিটে আবার গোল রোনাল্ডোর। আজকের গোলের পর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হলেন সর্বাধিক গোলদাতা।

    ১০ম ম্যাচ: স্পেন (০) সুইডেন (০)

    গোলশূন্য ভাবেই স্পেনকে আটকে দিল সুইডেন। ঘরের মাঠে শুরু থেকে বেশ দুর্দান্তই খেলছিলেন স্প্যানিয়ার্ডরা। কিন্তু গোলের দরজা কোনো দলই খুলতে পারেননি। দুই দলকেই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হল। তবে গোলের খাতা না খুলতে পারলেও গোটা ম্যাচে এ দিন দাপট ছিল স্প্যানিশদের।

    ৯ম ম্যাচ: স্লোভাকিয়া (২) পোল্যান্ড (১)

    পোল্যান্ডের ভাগ্যের চাকা ঘুরল না। এই শতকে বিশ্বকাপ হোক বা ইউরো, প্রথম ম্যাচটা কখনোই ভালো হয় না তাদের। এর আগে ছ’ বারের মধ্যে পাঁচ বারই হেরেছে তারা। এ বারেও তার ব্যত্যয় হল না। সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রেস্তোভস্কি স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রুপ ই-এর ম্যাচে স্লোভাকিয়ার কাছে তারা ১-২ গোলে হেরে গেল। তবে ৬২ মিনিটে পোল্যান্ডের ক্রিচোউইয়াক লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়ায় ম্যাচের বাকি সময়টা তাদের ১০ জনে খেলতে হয়।

    কোনো বড়ো টুর্নামেন্টে স্লোভাকিয়ার এটা তৃতীয় আবির্ভাব। এর আগে ২০১০-এর বিশ্বকাপে এবং ২০১৬-এর ইউরো কাপে নকআউট পর্যায়ে উঠেছিল। স্লোভাকিয়া ১৮ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, পোল্যান্ডের গোলকিপার জেসনির আত্মঘাতী গোলের সুবাদে। পোল্যান্ডের গোল লক্ষ্য করে দুর্দান্ত শট নেন স্লোভাকিয়ার রবার্ট ম্যাক। হয়তো গোলটা ম্যাকের নামেই লেখা হত, যদি না মাঝখান থেকে পোল্যান্ডের গোলকিপার ঢুকে পড়তেন।

    ৪৬ মিনিটে পোল্যান্ডের ক্যারল লিনেটি গোল করে খেলায় সমতা আনেন। শেষ পর্যন্ত স্লোভাকিয়ার জয়সূচক আসে ম্যাচের ৬৯ মিনিটে। মিলান স্ক্রিনিয়ারের নিচু শট গোলপোস্টের ডান দিক দিয়ে ঢুকে যায়। পোল্যান্ডের গোলকিপারের কিছু করার ছিল না।        

    ৮ম ম্যাচ: চেক রিপাবলিক (২) স্কটল্যান্ড (০)

    খেলার ৫২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে যে গোল করলেন চেক রিপাবলিকের প্যাট্রিক শিক, তা নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। সবাইকে তাক লাগিয়ে ৪৬ মিটার দূর থেকে দুর্দান্ত শট নিয়ে নিখুঁত ভাবে ঢুকিয়ে দিলেন স্কটল্যান্ডের জালে। এই গোল নিয়ে গত ১১টা ম্যাচে ৭টা গোল করলেন প্যাট্রিক। তার মধ্যে এ দিনের ম্যাচেই দু’টো।

    ২০২০-এর ইউরো কাপে সোমবার গ্রুপ ডি-র ম্যাচে চেক রিপাবলিকের সূচনা ভালোই হল। তারা ২-০ গোলে হারাল স্কটল্যান্ডে। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে হেড করে প্রথম গোল করেন প্যাট্রিক।

    এ দিনের ম্যাচে ফেভারিট টিম কিন্তু ছিল স্কটল্যান্ড। কিন্তু চেক রিপাবলিকের কাছে তাদের পরাজয় দল নিয়ে নতুন করে ভাবাবে। আগামী শুক্রবার তাদের খেলা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

    ৭ম ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (৩) ইউক্রেইন (২)

    হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে শেষ হাসি হাসলেন নেদারল্যান্ডসের কোচ ফ্রাঙ্ক দি বোইয়ার। কারণ তাঁর দল ৩-২ গোলে ইউক্রেনকে পরাস্ত করেছে। সেই সঙ্গে তিনটে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও নিজেদের ঝুলিতে পুরে নিয়েছে।

    দীর্ঘদিন পর কোনো বড়ো টুর্নামেন্টে কামব্যাক করছে ওলন্দাজরা। ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে প্রথমার্ধে অবশ্য কোনো গোল করতে পারেনি তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সত্যিই এই ম্যাচের রং বদলে গেল। তবে শুধুমাত্র নেদারল্যান্ডস একাই নয়, দারুণ ফুটবল উপহার দিল ইউক্রেইনও।

    ম্যাচের ৫২ মিনিটে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন জর্জিনিও উইজনালডাম। এরপর মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। গোলদাতা ওয়েগহোর্স্ট। তাঁর অসাধারণ হাফ-ভলিটা সত্যিই দেখার মতো ছিল। এর পর ইউক্রেইন প্রবল ভাবে ম্যাচে ফিরে আসে।

    ৭৫ মিনিটে ইউক্রেইনের আন্দ্রি জারমোলেঙ্কো গোলের ব্যবধান কমান। এর চার মিনিটের ইউক্রেইনের হয়ে সমতা ফেরান রোমান ইয়ারেমচুক। তবে ৮৫ মিনিটে ইউক্রেইনের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন ডেনজেল ডামফ্রাইস। তিনি নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে এগিয়ে দেন। এর পর আর কোনো দল কোনো গোল করতে পারেনি।

    ৬ষ্ঠ ম্যাচ: অস্ট্রিয়া (৩) নর্থ ম্যাসেডোনিয়া (১)

    ৩১ বছরের মধ্যে এই প্রথম ফুটবলের কোনো বড়ো টুর্নামেন্টে জয় পেল অস্ট্রিয়া। আর ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও তাদের প্রথম জয়। গ্রুপ সি-র প্রথম ম্যাচে ১৮ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। স্তেফান লাইনারের সুন্দর ভলি নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার গোল চিনতে ভুল করেনি। কিন্ত ১০ মিনিটে গোরান পান্ডেভের গোলে ম্যাচে সমতা আনে নর্থ ম্যাসেডোনিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দু’টি গোল করে অস্ট্রিয়া – ৭৮ মিনিটে গ্রেগোরিৎশ এবং খেলা শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে আর নাউতোভিৎশ।

    ৫ম ম্যাচ: ইংল্যান্ড (১) ক্রোয়েশিয়া (০)

    ২০২০-এর ইউরো কাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করল ইংল্যান্ড। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রুপ ডি-র প্রথম ম্যাচে তারা ১-০ গোলে হারাল ক্রোয়েশিয়াকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন রহিম স্টারলিং। এই প্রথম ইউরো কাপের প্রথম ম্যাচে জয় পেল ইংল্যান্ড।

    ৪র্থ ম্যাচ: বেলজিয়াম (৩) রাশিয়া (০)

    ২০২০ ইউরো কাপে তাদের প্রথম ম্যাচে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সহজ জয় পেল বেলজিয়াম। ম্যাচ শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা গোল করে এগিয়ে যায়। শুরুটা কিন্তু খুব ছন্নছাড়া লাগছিল বেলজিয়ামকে। কিন্তু ১০ মিনিটের মাথায় রাশিয়ার বক্সে বল পেয়ে রোমেলু লুকাকু গোল করতে ভুলচুক করেননি। দ্বিতীয় গোল আসে ৩৪ মিনিটে। রাশিয়ার গোল লক্ষ্য করে শট করেছিলেন থোরগান হাৎসার্ড। রাশিয়ার গোলকিপার সেই শট কোনো রকমে বাঁচালেও তা চলে আসে থমাস মিউনিরের কাছে। তিনি অত্যন্ত সহজেই বল ঠেলে দেন রাশিয়ার জালে। চূড়ান্ত গোলটি আসে ম্যাচ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের ২ মিনিট আগে। এ বারেও গোল করার কৃতিত্ব রোমেলু লুকাকুর।

    ৩য় ম্যাচ: ডেনমার্ক (০) ফিনল্যান্ড (১)

    মাঠে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাঁদের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারল না ডেনমার্ক। হেরে গেল প্রথমবার ইউরো খেলতে নামা ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

    এ দিন, খেলতে খেলতে মাঠেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। টিভিতে যা ছবি দেখা গিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছিল এরিকসেনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। মাঠেই তাঁকে সিপিআর দেওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হলে জানা যায় যে তাঁর অবস্থার স্থিতিশীল। তিনি সুস্থতার পথে।

    এরিকসেনের শারীরিক অবস্থার খবর পাওয়ার যাওয়ার পর ফের শুরু হয় ম্যাচ। এবং দ্বিতিয়ার্ধের শুরুতেই চমকপ্রদ ভাবে গোল করে দেন ফিনল্যান্ডের জোয়েল পোহজালপানো। এর পর পেনাল্টির মধ্যে দিয়ে ডেনমার্ক ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেলেও সেই সুযোগ হাতছাড়া করে তারা।

    ২য় ম্যাচ: ওয়েলস (১) বনাম সুইৎজারল্যান্ড (১)

    ইউরো কাপের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হল অমীমাংসিত ভাবে। গত বিশ্বকাপে প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ওঠা সুইৎজারল্যান্ড আটকে গেল ওয়েলসের বিরুদ্ধে। আজারবাইজানের রাজধানীতে বাকুতে আয়োজিত এই ম্যাচটি প্রথমার্ধে গোলশূন্য ছিল। তবে দ্বিতিয়ার্ধে প্রথমে খাতা খোলে সুইৎজারল্যান্ড। ৪৯ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর গোলে এগিয়ে যায় সুইৎজারল্যান্ড। তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি বিশ্বকাপাররা। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ওয়েলসের হয়ে গোল শোধ করেন কিফার মুর।

    ১ম ম্যাচ: ইতালি (৩) বনাম তুরস্ক (০)

    তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইউরো কাপের যাত্রা শুরু করল ইতালি। শুক্রবার রোমে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধটি গোলশূন্য ভাবে শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দাপট দেখায় ইতালি। ম্যাচের ৫৩ মিনিটের আত্মঘাতী গোলের সুবাদে এগিয়ে যায় ইতালি। ইতালির দোমেনিকো বেরার্ডি গোলের দিকে একটা জোরাল শট নেন। কিন্তু তুরস্কের ডিফেন্ডার ডেমিরালের গায়ে প্রতিহত হয়ে সোজা গোলে ঢুকে যায়। ৬৬ মিনিটে চিরো ইমমোবিলের হাত ধরে দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলে রবার্তো মানচিনির দল। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আসে আরও একটা গোল। এ বার তুরস্কের জালে বল জড়িয়ে দেন ইনসাইন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর