ronaldo juventus fiat
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপে প্রি কোয়ার্টার রাউন্ডে ছিটকে গেলে কী হবে, এই মুহূর্তে সংবাদের শিরোনামে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রেয়াল মাদ্রিদের মায়া কাটিয়ে এ বার ইতালির পথে যাত্রা করেছেন তিনি। স্প্যানিশ লিগের বদলে এখন তাঁকে দেখা যাবে ইতালিয়ান লিগে। কিন্তু ইতালিতে পৌঁছেই বড়োসড়ো বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন তিনি।

রোনাল্ডোর জুভেন্তাস আগমনে বেজায় ক্ষুব্ধ ফিয়াট সংস্থার কর্মীরা। তাঁরাই এ বার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। অনেকেই ভাবতে পারেন রোনাল্ডোর সঙ্গে ফিয়াট সংস্থার কর্মীদের সম্পর্ক কী?

জানা গিয়েছে, রোনাল্ডোকে আনতে জুভেন্তাস খরচ করছে ১০০ মিলিয়ন ইউরো। বার্ষিক চুক্তিতে ৩০ মিলিয়ন পাবেন রোনাল্ডো। করের হিসেব করলে রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে জুভেন্তাসের আর্থিক খরচ হবে ৩৪০ মিলিয়ন ইউরো। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই অর্থের অর্ধেক অর্থই বহন করবে ফিয়াট। এখানেই আপত্তি ফিয়াট সংস্থার কর্মরত শ্রমিকদের।

আসলে জুভেন্তাস ও ফিয়াটের মালিকানা স্বত্ত্বের বেশির ভাগটাই আগনেল্লি পরিবারের। জুভেন্তাসে ৬৩.৭৭ শেয়ার রয়েছে তাদের। রেয়াল থেকে জুভেন্তাসে রোনাল্ডোকে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন আন্দ্রেয়া আগনেল্লি। কিন্তু কর্মীদের দাবি, রোনাল্ডোকে আনতে বিশাল অর্থ খরচ করলেও ফিয়াটে কর্মরত শ্রমিকদের মাইনে বাড়াননি গত দশ বছর ধরে।

agnelli family
আগনেল্লি পরিবার

ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, রোনাল্ডোর পিছনে বিশাল অর্থব্যয় না করলে ফিয়াটের দুই লক্ষ কর্মীর প্রত্যেকের ২০০ ইউরো করে বেতন বাড়ানো সম্ভব। মুদ্রাস্ফীতিতে সমস্ত কর্মীর আয় কমেছে ১০.৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠান সেই অর্থ পূরণ করার ক্ষেত্রে সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। তবে কর্মীদের অভিযোগ বেতন না বাড়ালেও স্পনসরশিপ বাবদ কোটি কোটি ইউরো খরচা করে গিয়েছে সংস্থা।

এই প্রসঙ্গে সংস্থার কর্মীদের তরফ থেকে একটি বিবৃতি পেশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “এটা মেনে নেওয়া যায় না। একদিকে যখন সংস্থা তার কর্মীদের আরও আত্মত্যাগ করা্র কথা বলছে, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় করে একটা ফুটবলার কেনা হচ্ছে। আমাদের বলা হয়েছে সংস্থা এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, আমরা যেন সব কিছু মানিয়ে চলি। অন্য দিকে তারাই এত টাকা খরচ করছে। অথচ কর্মী এবং তাদের পরিবারের হাতের টাকা মাসের মাঝেই ফুরিয়ে যাচ্ছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা সবাই একই মালিকপক্ষের কর্মচারী। কিন্তু এ রকম অসম আচরণ আমরা কোনো ভাবেই মেনে নেব না।” বিশাল অঙ্কের অর্থ দিয়ে রোনাল্ডোকে দলবদল করানোর পরে সংস্থা কি আর বেতন বাড়াবে কর্মীদের? এই আশঙ্কায় ভুগছেন কর্মীরা। তাই ধর্মঘটের পথই বেছে নিচ্ছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here