realchampions-ucl

রেয়াল মাদ্রিদ – ৩         লিভারপুল – ১

ওয়েবডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক রেয়াল মাদ্রিদের। শনিবার কিয়েভে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাঁরা হারাল লিভারপুলকে। ফলে মোট তেরোবার এই খেতাবের মালিক হল রোনাল্ডোর দল। এই হেভিওয়েট ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই অবশ্য উত্তেজনার পারদ বেড়ে গিয়েছিল বহুগুণ। যার কারণ দু’দলের দুই সেরা মুখ মহাম্মাদ সালাহ এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তবে এঁদের দু’জনকে ছাপিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে নিজের নাম স্মরণীয় করে রাখেলন গ্যারেথ বেল।

এ দিন প্রথম থেকেই মাঝমাঠ দখলকে কেন্দ্র করে আক্রমণ প্রতি-আক্রমণে শুরু হয়ে খেলা। লিভাপুলের মানে এবং রেয়ালের মার্সেলো সুযোগ পেলেও দু’জনেই তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হন। হাফ চান্সে সুযোগ পেয়েছিলেন লিভারপুল এবং এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সালাহ। তবে রেয়াল ডিফেন্সের সামনে আটকে যান তিনি। প্রতি-আক্রমণে রোনাল্ডোর শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফের সুযোগ পায় লিভারপুল, আর্নল্ডের গোলার মোট শট কিন্তু পরাস্ত করতে পারেনি রেয়াল গোলকিপার নাভাসকে। তবে যখন ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছিল লিভারপুল, ঠিক তখনই বড়ো ধাক্কা খায় তারা। রেয়াল অধিনায়ক র‍্যামসের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে কাঁধে গুরুতর চোট পান সালাহ। ফলে আধ ঘন্টার মধ্যেই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। দলের সেরা খেলোয়াড় বসে গেলে যে কোনো দলই মানসিক ভাবে পিছিয়ে পরে, হলও তাই। ফলে এই সময় প্রবল ভাবে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় রেয়াল। তবে এরই মাঝে ফের চোট। এবার অবশ্য রেয়ালের কারভাজাল। সম্ভবত হ্যামস্ত্রিংয়ে কারণে বসে যান তিনি।  প্রথমার্ধের শেষদিকে ক্রমাগত আক্রমণের ফল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল রেয়াল। রোনাল্ডো হেডার বাঁচান লিভারপুল গোলকিপার ক্যারিয়াস। সেই বল থেকে গোল করেন বেঞ্জেমা, কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। গোলশূন্য ভাবেই বিরতিতে যায় দু’দল।

প্রথমার্ধে ঠিক যেখানে শেষ করেছিল রেয়াল, দ্বিতীয়ার্ধেও সেখান থেকেই শুরু করে তারা। কিন্তু এবারও কাছে গিয়ে গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থ হন বেঞ্জেমারা। ইস্কোর শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। অবশ্য বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয়নি রেয়ালকে। মিনিট চারেকের মধ্যে বেঞ্জেমার গোলেই এগিয়ে যায় তাঁরা। তবে কিছুটা ভাগ্যেরও হাত রয়েছে এর মধ্যে। নিজের দলের খেলোয়াড়দের বল দিতে গিয়ে কিছুটা অমনোযোগী হয়ে বেঞ্জেমার পায়ে বল জমা দেন ক্যারিয়াস। ফলে হাতে আসা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন বেঞ্জেমা। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সমতা ফেরায় লিভারপুল। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে প্রতিআক্রমণে, মিলনারের নেওয়া কর্নার থেকে লিভারপুলের হয়ে সমতা আনেন মানে। এই সময় ম্যাচে প্রবল ভাবে ফেরার চেষ্টা করে লিভারপুল।

কিন্তু ফুটবলের এক চালেই যে ম্যাচ যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে, তার প্রমাণ কিন্তু এদিন হাড়েহাড়ে টের পেলেন লিভারপুল সমর্থকরা। ষাট মিনিটের মাথায় ইস্কোর জায়গায় বেলকে নামান রেয়াল কোচ জিদান। ব্যাস, আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। মাঠে নামতে না নামতেই অবিশ্বাস্য ব্যাকভলিতে রেয়ালকে দ্বিতীয়বারের জন্য এগিয়ে দেন সেই বেল। শেষদিকে লিভারপুল কিছুটা চেষ্টা চালালেও গোলমুখ খুলতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় আট মিনিট আগে ফের বিশ্বমানের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলে লিভারপুল কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন বেলই।

bicycle-ucl

তবে এ দিনের ম্যাচটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলবার চেষ্টা করবেন লিভারপুল গোলকিপার ক্যারিয়াস। নিজের আত্মবিশ্বাসের অভাবেই তৃতীয় গোলটি হজম করেন তিনি। ম্যাচ শেষে রেয়াল কোচ জিনেদিন জিদান জানান, “জয়ের হ্যাটট্রিক করে ভাল লাগছে। লিভারপুল খুব ভাল লড়াই দিয়েছে। তবে আমরাই ইউরোপ সেরা”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here