দু’ দশকের ইতিহাসের ধারা অব্যাহত, জার্মানির কাছে আবার হারল পর্তুগাল

0
জার্মানির জয়।
জয়ের পরে জার্মানি। ছবি UEFA EURO 2020 টুইটার থেকে নেওয়া।

জার্মানি ৪ (ডিয়াস আত্মঘাতী, গুয়েরেইরো আত্মঘাতী, হাভার্ৎস, গোসেনস)

পর্তুগাল ২ (রোনাল্ডো, জোটা)  

Loading videos...

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ম্যাচে জার্মানিকে শেষ বার হারিয়েছিল পর্তুগাল ২১ বছর আগে। সেটা ছিল ইউরো অভিযান। তার পর থেকে যত বারই দু’ দলের সাক্ষাৎ হয়েছে, তত বারই জার্মানি জিতেছে। এ বারও তার অন্যথা হল না। আন্তর্জাতিক ম্যাচে পর্তুগালের বিরুদ্ধে টানা ছ’ বার জিতল জার্মানি।    

অথচ এ বারে ভাবা হয়েছিল পাশার দান ওলটাতে পারে। কারণ পর্তুগাল গত বারের ইউরো চ্যাম্পিয়ন, আর জার্মানি গত বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেওয়া দল। আর এ বারের ইউরোয় বেশির ভাগ তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে গড়া জার্মানি প্রথম ম্যাচে ২০১৮-এর বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সের কাছে হেরেও গিয়েছে। কিন্তু ফল হল উলটো। এবং যোগ্য দল হিসাবেই জার্মানি জিতল।

এ রকম উত্তেজনাপূর্ণ এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল ম্যাচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ক’টা দেখা গিয়েছে, তা বোধহয় হাত গুনে বলা যায়। আর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে এ রকম ম্যাচ খুব কমই দেখা গিয়েছে।    

শনিবার ইউরোর গ্রুপ এফ-এর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানি ৪-২ গোলে হারাল পর্তুগালকে। মিউনিখের আলিয়ানৎস আরেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এই পরাজয়ের দায় কিছুটা পর্তুগালেরও। কারণ জার্মানির ৪টি গোলের মধ্যে ২টি গোল পর্তুগালের আত্মঘাতী।

বিরতিতে জার্মানি এগিয়ে ২-১ গোলে

ম্যাচে প্রথম গোল এল কিন্তু সেই সিআরসেভেনের পা থেকে। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে ক্রিস্টিয়ানোর রোনাল্ডোর গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। এটা নিয়ে এই টুর্নামেন্টে রোনাল্ডোর ৩ গোল হল। প্রতি-আক্রমণে উঠে পর্তুগালের ডিয়োগো জোটা বল নিয়ে চলে আসেন জার্মানির বক্সে এবং স্কোয়ার পাস করেন রোনাল্ডোকে। গোল করতে ভুলচুক করেননি রোনাল্ডো। এটাই ছিল এ দিনের খেলায় পর্তুগালের প্রথম আক্রমণ এবং তাতেই সাফল্য। মাঝে ২৮ মিনিটে গোল করার একটি সুযোগ নষ্ট করেন জোটা। তাঁর শট জার্মানির ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

গোলের পরে রোনাল্ডো। ছবি UEFA EURO 2020 টুইটার থেকে নেওয়া।

কিন্তু এর পরই বিপর্যয় নেমে আসে পর্তুগালের। ৩৫ মিনিটে জার্মানির গোসেনস বাঁ দিক থেকে পর্তুগালের ছ’ গজের বক্সে বল ফেলেন। হাভার্ৎস বল ধরে প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে শট নেন। গোল বাঁচানোর জন্য পা বাড়িয়ে দিয়ে পর্তুগালের ডিয়াস নিজেদের গোলেই বল ঢুকিয়ে দেন। ডিয়াস এটা না করলে গোলটা হয়তো হাভার্ৎসের নামেই হত।   

৪ মিনিট পরেই আবার আত্মঘাতী গোল পর্তুগালের। মুলারের শট বক্সের মধ্যে ধরে হাভার্ৎস পাঠান কিমিশের কাছে। কিমিশের উড়ন্ত শট বাঁচাতে গিয়ে নিজেদের গোলে বল ঢোকান গুয়েরেইরো।

ফ্রান্সের কাছে প্রথম ম্যাচ হেরে খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো এ দিন খেলা শুরু করে জার্মানি। তার পুরস্কারও পায়। বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩ গোল

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আক্রমণে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে জার্মানি। ৪৮ মিনিটে জার্মানির ন্যাব্রির শট দুর্দান্ত ভাবে বাঁচান পর্তুগালের গোলকিপার প্যাট্রিসিও। কিন্তু ৩ মিনিট পরেই গোল পেয়ে যায় জার্মানি। ম্যাচের ৫১ মিনিটে জার্মানির দুর্দান্ত টিম এফর্ট এবং পর্তুগালের রক্ষণভাগের নিদারুণ ব্যর্থতা। মুলারের ডায়গোনাল বল বাঁ দিকে ধরেন গোসেনস। গোসেনসের শক্তিশালী নিচু ক্রস পৌঁছে যায় পর্তুগালের বক্সে। সেখান থেকে সহজেই পর্তুগালের জালে বল জড়ান হাভার্ৎস।

৯ মিনিট পরেই আবার গোল পেয়ে যায় জার্মানি, এ বার গোলদাতা গোসেনস নিজেই। কিমিশের শটে মাথা ছুঁইয়ে দুর্দান্ত গোল করেন।  

৬৭ মিনিটে জার্মানির জয়ের ব্যবধান কমায় পর্তুগাল। ডিয়োগো জোটা গোল করেন। এই গোলের পিছনেও কিন্তু অবদান সিআরসেভেনেরই।

গ্রুপ এফ-এর অবস্থা

এ বারের ইউরোয় গ্রুপ এফ-কে বলা হচ্ছে ‘গ্রুপ অব ডেথ’। এই গ্রুপের ৪টি দলেরই ২টি করে খেলা হয়ে গেল। কিন্তু এখনও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না কোন দু’টো দল নকআউটে যাবে। শনিবারের প্রথম খেলায় হাঙ্গেরির সঙ্গে ড্র করে ফ্রান্স নিজেদের একটু ঝামেলায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু পর্তুগালের বিরুদ্ধে জার্মানি জিতে যাওয়ায় ফ্রান্স কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় চলে গেল।

এই গ্রুপে ২টি করে ম্যাচ খেলে ফ্রান্সের পয়েন্ট ৪, পর্তুগাল ও জার্মানি ৩ পয়েন্ট করে এবং হাঙ্গেরির ১পয়েন্ট। খেলা বাকি ফ্রান্স বনাম পর্তুগাল এবং জার্মানি বনাম হাঙ্গেরির। সকলের সামনেই নকআউটে যাওয়ার রাস্তা খোলা।

আরও পড়ুন: বিরাট-রাহানে লড়লেও সাদাম্পটনে ফের ভিলেন আবহাওয়া     

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.