সানি চক্রবর্তী: স্বাধীনতার দাবিতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে স্পেনের কাতালুনিয়া প্রদেশ এখন রীতিমতো অশান্ত। কাতালুনিয়া প্রদেশে মাঠের বাইরে এদিন কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা না হলেও ফুটবল মাঠে ঘটে যাওয়া অঘটনের জেরে বড়োসড়ো অ্যাডভান্টেজ পেয়ে গেল সেই প্রদেশের সেরা ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। কাতালুনিয়া প্রদেশের অপর ক্লাব জিরোনা এদিন তাদের ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ ফলে হারিয়ে দিয়ে লা লিগার শুরুর ল্যাপেই বেশ কিছুটা এগিয়ে দিল বার্সাকে। লিগে নতুন উঠে আসা কোনো দলের কাছে গত ২৭ বছরে এই প্রথম হারল গ্যালাকটিকোস শিবির। নিষ্প্রভ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা এদিনের হারের জেরে ১০ ম্যাচ খেলে রয়ে গেলেন ২০ পয়েন্টেই। বার্সেলোনার সঙ্গে গতবারের লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্টের পার্থক্যটা এখনই ৮। সমসংখ্যক ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সা। ২৪ পয়েন্ট পেয়ে ভ্যালেন্সিয়া আপাতত দ্বিতীয় ও রিয়াল গ্রুপটেবিলের তৃতীয় স্থানে। লা লিগার লম্বা দৌড় (৩৮ ম্যাচ) এখনও দীর্ঘপথ বাকি, তবে প্রথম রাউন্ডের শেষে বার্সা যে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। রিয়ালের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর সামনে অনেক সুযোগ থাকলেও, লা লিগার গত কয়েকবছরের পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে শুরুতে লিগে লিড নেওয়া দলই বরাবর এগিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এল ক্লাসিকোর ফলাফল লিগের ভাগ্য নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয়ে ওঠে না। আর লা লিগার ইতিহাস বলছে, আগে কখনও ৮ পয়েন্টের ব্যবধান বুজিয়ে লিগ জিততে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ।

হারলেও আত্মবিশ্বাসী জিনেদিন জিদান জানিয়ে রাখছেন, ‘আমাদেরও ভালো দিন আসবে, সঙ্গে লিগের অন্য দলগুলোও পয়েন্ট খোওয়াবে। ভালোমতোই জানি, সমীকরণটা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি আমরা। তাই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মোটেই চিন্তিত নই। আজ ছেলেরা মোটেই খারাপ খেলেনি, বরং দুর্ভাগ্যবশত তিন পয়েন্ট খুইয়েছি আমরা। ওদের জন্য আমারই খারাপ লাগছে। আপাতত বিশ্রামের পরে সামনের ম্যাচগুলোর দিকে তাকাতে চাই।’ এদিন খেলা শুরুর ১২ মিনিটের মধ্যেই যদিও ইসকোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। রোনাল্ডোর প্রাথমিক প্রয়াস আটকে গেলে রিবাউন্ডে পাওয়া বল থেকে গোল করেছিলেন ইসকো। কিন্তু গোটা ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসার তাগিদ নিয়ে খেলা জিরোনা দ্বিতীয়ার্ধে মিনিট চারেকের ব্যবধানে দুটো গোল করে চমকে দেয় রিয়ালকে। জানিয়ে রাখা ভালো, প্রথমার্ধেই দু-বার জিরোনার প্রয়াস পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়ে ফিরেছিল। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের জেরে রাফায়েল বারানের প্রথমার্ধের শেষে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়াটা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ন মিনিটের মধ্যে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে নড়বড়ে নাচোর পাশ দিয়ে বল নিয়ে ঢুকো জিরোনাকে সমতা এনে দেন ক্রিশ্চিয়ান স্টুয়ানি। মিনিট চারেকের মধ্যে পোর্তুর গোলে আনন্দে ভেসে যান জিরোনার সাড়ে ১৩ হাজার সমর্থক। যদিও গোলটি ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। বল ধরার আগে পোর্তু অফসাইড পজিশনে ছিলেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here