ডুরান্ডের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ মোহনবাগানের

0

গোকুলাম কেরালা এফসি-২ ( মার্কাস)

মোহনবাগান-১ (সালভাদর)

ওয়েবডেস্ক: শনিবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে যেন হেলায় হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা আদায় করে নিল গোকুলাম কেরালা এফসি। হাই-ভোল্টেজ এই ফাইনাল ম্যাচে প্রথম থেকেই চাপ বজায় রেখে ২-১ গোলের ব্যবধানে ট্রফি ঘরে তুলল তারা। অন্য দিকে স্বপ্নভঙ্গ হল মোহনবাগানের।

এ দিনের ফাইনাল ম্যাচ একাধিক কারণে মোহনবাগানের কাছে ছিল স্বপ্নপূরণের। এক দিকে টানা ১৯ বছর পরে ডুরান্ড ঘরে তোলার স্বপ্ন, অন্য দিকে ১৭ বার ডুরান্ডে সেরার শিরোপা অর্জনের সম্ভাবনা। কিন্তু শেষমেষ দুই স্প্যানিশ কোচের যুদ্ধে জিতে গেল গোকুলাম। গোকুলাম কোচ স্যান্টিয়াগো বারেলার কাছে হার স্বীকার করে নিতে হল মোহনবাগান কোচ হল কিবু ভিকুনাকে।

এ দিন ম্যাচের প্রথম থেকেই চাপ বজায় রেখেছিল গোকুলাম। শুরুতেই ঝড়ের গতিতে পায়ে বল নিয়ে বিরোধী বক্সে হানা দেয় গোকুলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও হাতের নাগাল থেকে ব্যর্থ হন সেবাস্তিয়ান। তবে এর পর কয়েক মিনিটের জন্য ম্যাচে ফিরে আসে মোহনবাগান। কিন্তু স্যান্টিয়াগোর রণকৌশলের কাছে বারবার আটকে যান সালভাদর, সুহেররা।

এ ভাবেই নিজের ঘর গুছিয়ে মাঝেমধ্যেই বাগান-বক্সে চাপ ধরে রাখে গোকুলাম। মার্কাস ও হেনরি সমানে হানা দিতে থাকেন বাগান-বক্সে। তবে খাতা খুলতে পারেননি তাঁরা। কিন্তু প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটের মাথায় ফাউল করে বসেন বাগানের নির্ভরযোগ্য দেবজিত মজুমদার। বক্সে ঢুকে পড়েন কিসেকা। তাঁকে ‘অবৈধ’ ভাবে নিজেদের বক্সে ফেলে দেন দেবজিৎ। ব্যস, তার পরই ঘটে যায় দিনের প্রারম্ভিক অঘটন। রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। সঙ্গে পেনাল্টিতে গোল করে মার্কাস এগিয়ে দেন গোকুলামকে।

তারই রেশ যেন রয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধেও। বিরতির পর মাঠে নেমে মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোল করে গোকুলামকে ট্রফির কাছে পৌঁছে দেন মার্কাস। এ মরশুমে মার্কাসের এই একাদশতম গোলই যেন ম্যাচের ফলাফল লিখে দেয়।

বাগান ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় ৬৪ মিনিটে। বেইতিয়ার ফ্রিকিক থেকে হেডারে গোলে বল ঠেলে দেন সালভাদর। সেই বল গিয়ে পড়ে গোকুলাম গোলকিপার উবেইদের হাতেই। কিন্তু উবেইদ বল গ্রিপ করতে ব্যর্থ হলে ফল দাঁড়ায় ২-১। কিন্তু তার পর আর বাগানের ভাগ্য ভিন্ন পথে বাঁক নিতে দেখা গেল না। এমনকী ম্যাচের শেষপ্রান্তে এসে ১০ জনের দলে পরিণত হয় গোকুলাম। জোড়া হলুদ দেখায় মাঠ ছাড়তে হয় গোলকুলামের জেস্টিন জর্জকে। কিন্তু সেই ছোট্ট সুযোগকেও কোনো রকম ভাবে কাজে লাগাতে পারেননি দেবজিত-সাহিলরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here