কলকাতা: ডার্বির টিকিট বিক্রি নিয়ে আইএফএ-র নজিরবিহীন অপদার্থতার মাশুল গুনছেন বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বর্তমানে আসন সংখ্যা ৬৬ হাজার। আইএফএ ম্যাচের মাত্র সাত দিন আগে অনলাইনে ২১ হাজার টিকিট বিক্রির জন্য ছাড়ে। দুই ক্লাবের সদস্যদের জন্য দেওয়া হয় ৭ হাজার করে টিকিট। এছাড়া অফলাইনে বিক্রির জন্য দেওয়া হয় দুই ক্লাবকে ৫হাজার করে টিকিট। অর্থাৎ সব মিলিয়ে সদস্য-সমর্থকদের জন্য ৪৫ হাজার টিকিট ছাড়া হয়।

কিন্তু সমর্থকদের অভিযোগ, অফলাইনে যারা টিকিট কিনতে চান, তাদের জন্য টিকিট অপ্রতুল। ১০০, ২০০ টাকার টিকিট পাওয়া গেলেও ৫০০ টাকার টিকিট এখনও কেউ চোখেই দেখেননি। অন্যদিকে অনলাইনে যারা টিকিট কেটেছেন, তাঁদের খুব অল্প সংখ্যাকই টিকিট পেয়েছেন। দুই ক্লাবেই পড়ছে বিশাল লাইন। শুক্রবার সকালে মোহনবাগান ক্লাবে নির্দিষ্ট স্লিপ নিয়ে টিকিট তুলতে এসে পুলিশের লাঠির বাড়িও খান সমর্থকরা।  কিন্তু ক্লাবগুলিতে টিকিটের যোগান নেই।

এদিন এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইএফএ সচিব উৎপল গাঙ্গুলি স্বীকার করে নেন, টিকিটের যে এত চাহিদা হবে তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে যে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যাবে, তা তাঁদের ধারণার বাইরে ছিল। অর্থাৎ প্রকারান্তরে মেনে নিলেন, নামে ৪৫ হাজার টিকিট ছাড়লেও অত টিকিট তাঁরা ছাপাননি। পরিস্থিতি বুঝে ছাপাতেন। যে কলকাতা মাঠে ডার্বি দেখতে কয়েক বছর আগেও ১ লক্ষের কাছাকাছি লোক হত, সেখানে ৪৫ হাজার টিকিটও বিক্রি হবে না বলে ভেবেছিল বাংলার ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। ভাবা যায়!

অন্যদিকে ৬৬ হাজার আসনের মধ্যে ২১ হাজার টিকিট ফুটবলপ্রেমীদের কেনার জন্য ছাড়া না হলেও ময়দানে কিন্তু দেদার ব্ল্যাক হচ্ছে টিকিট। ২০০টাকার টিকিট হাজার টাকায় বিক্রি করতে চাইছেন ব্ল্যাকাররা। উৎপলবাবুকে প্রশ্ন করলে হয়তো তিনি বলবেন, একুশ হাজার টিকিট স্পনসর এবং অন্যান্যদের দিতে হয়েছে। সেই টিকিট নিয়ে কে কী করছে, তা তার জানার কথা নয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন