ওয়েবডেস্ক: সেই যবে তাঁর অস্ট্রোপচার হয়েছে, তার পর থেকেই নিজের ফেসবুক পেজে একটানা জিম আর ট্রেনিং সেশনের ভিডিও পোস্ট করে চলেছেন সনি নর্দে। খুব স্বাভাবিক। পেশাদার ফুটবলার তিনি। নিজের সুস্থতার সার্টিফিকেট তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হয়। কিন্তু গত মরশুমে তাঁর চোট লুকিয়ে মোহনবাগানে আসা নিয়ে বর্তমান শাসক গোষ্ঠী এতটাই ক্ষুব্ধ যে তাঁরা কিছুতেই সনিকে ক্লাবে ফেরাবেন না। এমনকি সনি ইস্যুতে অঞ্জন মিত্রর সঙ্গে দেবাশিস দত্তর খারাপ সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে পৌঁছয়।

কিন্তু এখন কী অবস্থা? সনি কিন্তু এখন অনেকটাই ফিট। আই লিগ শুরু হওয়ার আগে সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিট হয়েও যাবেন। পরিস্থিতি যা, তাতে চলতি মরশুমে কলকাতায় খেলতে দেখার সম্ভাবনা ষোল আনা। কারণ সনি কলকাতার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ভারতে খেললে তিনি কলকাতায় খেলারই পক্ষপাতী। আর সেই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বাগানের দুই পদত্যাগী কর্তা সৃঞ্জয় বসু এবং দেবাশিস দত্ত। কারণ কলকাতায় সনি কোথায় খেলবেন, সেটা কার্যত তাঁদেরই নিয়ন্ত্রণে।

শনিবার মোহনবাগানের বার্ষিক সাধারণ সভা। এই সভার পরই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে ক্লাবে নির্বাচন হচ্ছে কিনা বা কবে হচ্ছে। যদি কোনো সমীকরণে ক্লাবে সৃঞ্জয়-দেবাশিসরা আবার ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন, তাহলে ক্লাব প্রশাসনে ফিরে সমর্থকদের মন জয় করতে সনিতে তাঁরা মোহনবাগানে নিয়ে আসবেন। বর্তমান শাসক গোষ্ঠী থাকলে সেটা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে কিন্তু সনিকে তাঁরা এটিকে-র হাতে তুলে দেবেন। কারণ সনি আইএসএল খেলতে চান বলে খবর। সেখানে টাকাও বেশি। তারওপর এটিকে-র সঞ্জয় সেনের সঙ্গে সনির ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভাল। তাই সনি নর্দের এটিকের হয়ে খেলার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

তবে অন্য একটা সম্ভাবনাও আছে। আর সেদিকেই তাকিয়ে বসে আছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। যদি সবুজমেরুনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অঞ্জন এবং টুটু গোষ্ঠীক সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে, তাহলে সনির ওপর নিজের প্রভাব খাটিয়ে হাইতিয়ান ম্যাজিশিয়ানকে লালহলুদের হাতে তুলে দেওয়ার ষোলআনা চেষ্টা করবেন টুম্পাই-দেবাশিসরা। সেক্ষেত্রে বর্তমান কর্তাদের চাপে ফেলাই হবে তাঁদের লক্ষ্য। তাঁদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো। তাই আশায় বুক বাঁধছেন নীতু সরকাররা।

তবে এত কিছুতে বিরক্ত হয়ে সনি কলকাতায় না খেলার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখনও কম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here