সানি চক্রবর্তী: শূন্য থেকে সিংহাসন।

বড়ো ম্যাচের মঞ্চ জন্ম দিয়েছে অনেক নতুন তারকার। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান সমর্থকদের মনে চিরস্থায়ী অবস্থানের পাশাপাশি তুলে এনেছে প্রচারের আলোয়। রবিবারের যুবভারতীর ডার্বিও জন্ম দিল এল নতুন নায়কের। মোহনবাগানের সম্মানের লড়াই জয়ে সনি, ক্রোমা, ডিকা, ইউটাদের ছাপিয়েই সেরা হলেন কিংসলে ওবুমনেমে এজে। নাইজেরিয়ার এই ডিফেন্ডারের করা মহামূল্যবান গোলেই ডার্বি জিত মোহনবাগান। তবে সাড়ে চোষট্টি হাজার সমর্থকের সামনে যিনি ডার্বির নায়ক হয়েছেন, কদিন আগে পর্যন্ত তার জীবনটা ছিল একরাশ সংগ্রামে ভরা। জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে বছর দুয়েক আগেও কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন মাঠে খেপ খেলে বেড়াতে হত কিংসলেকে।

কম কথার এই ডিফেন্ডার ডার্বি দুপুরে হওয়ায় সকালে চার্চে যেতে পারেননি। তাই ম্যাচের পরে গিয়েছিলেন চার্চে প্রার্থনা সারতে। সেলিব্রেশন, প্রচারের আলোয় গা না ভাসিয়ে নিজের ফোকাস ধরে রাখাটাই যে তার নজরে। বরং আই লিগে তার করা প্রথম গোল মাকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বাগান সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোটাই এদিন তাঁকে অনেক স্বস্তি দিয়েছে। ম্যাচের পরে কোচ সঞ্জয় সেনের পাশে বসেই কিংসলে বলছিলেন, ‘টানেল থেকে বেরোনোর সময়েই বিপুল সংখ্যক সমর্থকদের দেখে মনে মনে সংকল্প করি, আজকে ওদের জন্যই জিততে হবে। ওদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি, দলের জন্য গোল করেছি, এই ভালোলাগাটা প্রকাশের সত্যিই ভাষা নেই।’

ঠিক বছর দুয়েক আগে জীবনের কঠিনতম অধ্যায়ের মধ্যে দিতে কাটাতে হয়েছিল তাকে। ২০১৫ সালে পুলিশ এসি-র হয়ে কলকাতা লিগে খেলার পরে কিংসলে বাবাকে হারান। সেইসময়ে কয়েকমাসের জন্য বাধ্য হয়েই দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। ভারতে ফিরে এসে দ্বিতীয় ডিভিশনের আই লিগের জন্য কোনো দল পাননি। তাই শুরু করেন খেপ খেলতে। কিংসলে জানান, ‘বিশাল ঝুঁকি নিয়ে ওই সময়টা টানা খেপের মাঠে খেলে গিয়েছি। যে কোনো সময়ে বড়ো চোট পেলে কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে জানতাম, কিন্তু খরচাপাতি চালাতে বাধ্য হয়েছিলাম খেলতে।’ কলকাতার ময়দানের সঙ্গে কিংসলের পরিচয় অনেক আগে থেকে হলেও তাকে পরিচিতি দিয়েছে গতবারের আই লিগ। খালিদ জামিলের প্রশিক্ষণাধীন আইজল এফসিকে চ্যাম্পিয়ন করার ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। মোহনবাগানের আনাস এডাথোডিকার পরেই লিগের দ্বিতীয়সেরা ডিফেন্ডারের তকমাও পেয়েছিলেন।

২০১৩ সালে ফুটবলকে সঙ্গী করে চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন কিংসলে। কালীঘাট এমএস, ইউনাইটেড স্পোর্টস, পিয়ারলেস ঘুরে তিনি স্থান পান আইজলে। তারপরে এই মরশুমে মোহনবাগান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here