মিনের্ভা পঞ্জাব- ২(চেনচো-২)    মোহনবাগান-১(কিংসলে)

কলকাতা: আগের দিন আইজলের সেমসাইড গোল যে বিষয়টা খানিকটা হলেও ঢাকতে পেরেছিল, সেটা এদিন আর ঢাকা গেল না। সনিহীন মোহনবাগানকে কেন সঞ্জয় সেন লং বলে খেলাতেন, মিনের্ভা ম্যাচে কাঁচের মতো স্বচ্ছ হয়ে গেল। দৃষ্টিনন্দন পাসিং ফুটবল খেলে শক্তিশালী রক্ষণ ভাঙতে গেলে যে দক্ষতার ফরওয়ার্ড লাইন লাগে, সেটা বাগানের নেই। ফলে এদিন ৬৩ শতাংশ বল পজেসন রেখেও সামান্য কয়েকবার মিনের্ভা রক্ষণ ভাঙতে পারল সবুজমেরুন। তাও যেটুকু ভাঙা গেল, সেগুলো থেকে গোল করতে পারলেন না ক্রোমা-ডিকা। ক্রোমা তাও মাঝমাঠ থেকে দৌড়াদৌড়ির চেষ্টা করেন, ডিকা তো আবার পজিটিভ স্ট্রাইকার। গোল মিস ছাড়া কিছুই তার করার থাকে না মাঠে।

এদিন বাড়তি হল, ক্রোমা পেনাল্টি মিস করলেন। ১২টা কর্নার পেয়েও কোনো সুযোগ তৈরি করা গেল না। শঙ্করলাল পাসিং ফুটবলের মোহে এমনই আচ্ছন্ন ছিলেন যে সেটপিস মুভমেন্ট সম্ভবত অনুশীলনই করাচ্ছেন না। বা বাগানে সনি ছাড়া কর্নার নেওয়ার কোনো লোক নেই। ডিফেন্স সংগঠনেও যথেষ্ট জোর যে দেওয়া হয়নি, এদিনের খেলা থেকে তাও পরিষ্কার।

উল্টে অমল দত্তের মতো ডায়মন্ড ছকে খেলতে গিয়ে এদিন মোহনবাগান চার-পাঁচ গোলও খেয়ে যেতে পারত। খায়নি যে, সেটা মিনের্ভার ব্যর্থতা। সনিহীন মোহনবাগানের আক্রমণ সামলাতে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবলে জোর দিয়েছিলেন মিনের্ভার কোচ খগেন সিং। তার ডিফেন্স দারুণ সফল। আর সামনে রয়েছেন ‘রোনাল্ডো’চেনচো। এদিনের দুটি গোলই তাঁর। যোগ্য সঙ্গত করলেন উইলিয়ামস। প্রথমার্ধের দুটি গোল আর শোধ করতে পারল না বাগান। ইনজুরি টাইমে দূরপাল্লার দুরন্ত শটে একটি গোলের ব্যবধান কমালেন কিংসলে।

এসব সত্ত্বেও খেলাটা ড্র হয়ে যেতে পারত, আক্রমণের ঝড় তুলতে তুলতে একেবারে শেষ মুহূর্তে ফাঁকা গোল পেয়ে গেছিল বাগান। ওয়াটসন বলটা উড়িয়ে দিলেন। প্রথম গোলটা অবশ্য সবুজমেরুন খেল গোলকিপারের ব্যর্থতায়। অনেকদিন পর মাঠে নেমে খেই পাচ্ছিলেন না।

বাগানে পরপর ম্যাচগুলোয় নজর কাড়ছেন নিখিল কদম। কিন্তু তিনি তো সনি নর্দে নন। শঙ্করলালের এই খেলাটাই চমকে দিতে পারে, যদি সনি মাঠে থাকেন আর ডিকার জায়গায় একটা ঠিকঠাক স্ট্রাইকার থাকেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here