mohun bagan and east bengal

সমীর গোস্বামী: ছোটবেলায় পড়াশোনায় ছিলেন যথেষ্ট মেধাবী। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সেই ছাত্র যখন মাঠে নামল তখন তার ক্রীড়া নৈপুণ্যও ঝরে পড়তে দেখা গেল। ফুটবল এবং ক্রিকেট-দুই খেলাতেই সে সমান পারদর্শী।

সেই দৃশ্য এড়াল না আশ্রমের মহারাজের চোখেও। স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলেটির পড়াশোনাতেও যেমন নজর রাখতেন তেমনই সমানে উৎসাহ দিতেন তার খেলাতেও। এর ফলে যা হওয়ার তাই হল। পড়াশোনায় সে যতটা ভালো হল ততটাই দক্ষ হয়ে উঠল খেলাধুলোতেও।

নিয়মানুবর্তিতা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সুবাদে পড়াশোনা শেষ করে ক্রীড়াঙ্গনে প্রবেশ করলেন যুবক প্রদীপ দত্ত। ফলে এক দিকে যেমন গড়ের মাঠের দুই প্রধান মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলে দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেললেন অন্য দিকে সুনামের সঙ্গে চাকরি করলেন ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ম্যানেজারের পদে। উল্লেখ্য দুই প্রধানের হয়ে খেলার পাশাপাশি বাংলার হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রদীপ।

প্রদীপের শৈশবের ক্রিকেট অনুরাগ কিন্তু যৌবনেও ম্লান হয়ে যায়নি। তিনি নিয়মিত ক্লাব ক্রিকেট খেলতেন। সেঞ্চুরিও করেছেন। যে কারণে গড়ের মাঠে অননুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পেরেছেন। ফুটবলার কাম ক্রিকেটার প্রদীপ দত্ত প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। তিনি বলতেন, পড়াশোনায় মন দিলে খেলার মাঠেও দক্ষতা প্রকাশ অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

বিনয়ী ও নম্র প্রদীপ এখন ব্যাঙ্কের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু দুখের বিষয়, গড়ের মাঠ ওঁকে কাজে লাগাতে পারল না। কোচ বা কর্মকর্তার ভূমিকায় এমন যোগ্য মানুষকে কাজে লাগালে আদতে উপকৃত হতে পারত বাংলার ক্রীড়া জগৎ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন