কলকাতা: বাগান সমর্থকদের অপেক্ষার অবসান হল। শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবে লগ্নিকারী নিয়ে এলেন সচিব অঞ্জন মিত্র। মহারাষ্ট্রের স্ট্রিমকাস্ট নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা মোহনবাগানের ৭৪ শতাংশ অংশীদার হতে চলেছে। মুম্বই ছাড়াও সংস্থার অফিস রয়েছে আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে। সংস্থার অন্যতম মালিক বলিউডের কাপুর পরিবারের এক সদস্য। রণবীর-করিনার ভাই। স্ট্রিমকাস্টের ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মও রয়েছে।

আসুন এক নজরে দেখে নিই চুক্তির খুঁটিনাটি

  • স্ট্রিমকাস্টের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি হচ্ছে মোহনবাগানের।
  • প্রতিবছর স্ট্রিমকাস্ট দেবে ২০ কোটি টাকা। স্পনসর থেকে আসবে আরও ১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ বছরে মোট ৩৫০ কোটি টাকা।
  • মোহনবাগান ক্লাবের নাম পরিবর্তন হচ্ছে না। অর্থাৎ ক্লাবের নামে স্ট্রিমকাস্টের নাম যুক্ত হবে না।
  • ক্লাবের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হচ্ছেন করিনা কাপুর ও বিদ্যা বালন।
  • এই মরশুমে স্ট্রিমকাস্ট দেবে ২০ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৮ কোটি টাকা খরচ হবে নভেম্বরে পরের মরশুমের আইএসএল-এর বিড তোলার জন্য। বাকি ১২ কোটি টাকা এই মরশুমে আই লিগ খেলার জন্য।

কিন্তু এ সবের পরেই রয়েছে আসল কথা। এদিন অঞ্জন মিত্র বলেছেন, ক্লাব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির অধিকাংশ স্ট্রিমকাস্টকে দেওয়া হয়ে গেছে। কিছু নথি রয়েছে অন্যান্য বোর্ড সদস্যের কাছে(টুটু, সৃঞ্জয় ও দেবাশিস)। তাঁরা সেগুলি দিয়ে দিলেই ৯ সেপ্টেম্বর স্ট্রিমকাস্টের সঙ্গে মোহনবাগানের মৌ সই হয়ে যাবে। আর মৌ সই হয়ে গেলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে স্ট্রিমকাস্ট লগ্নিকারী হিসেবে কাজ করতে শুরু করে দেবে।

এখানেই প্রশ্ন। এর আগে অঞ্জনবাবু বলেছিলেন, অন্যান্য বোর্ড সদস্য অর্থাৎ ক্লাবের বিরোধী গোষ্ঠী তাঁকে স্পনসর আনতে দিচ্ছে না। এবার কি তাঁরা নথি দিয়ে সাহায্য করবেন?  কারণ এই লগ্নিকারী এসে গেলে নির্বাচনের ময়দানে বিশাল অ্যাডভান্টেজ পেয়ে যাবে অঞ্জন গোষ্ঠী। গোটা বিষয়টা ক্লাবের সদস্য-সমর্থকদের কাছে স্বচ্ছ ভাবে উপস্থাপন করার জন্য এদিনের সাংবাদিক বৈঠক মাইকে শোনানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। কী করবে বিরোধী গোষ্ঠী? অঞ্জনের বক্তব্য, “আমি ওদের সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি, ক্লাবের স্বার্থে ওরা একমত হবে”।

অতএব বল এখন টুটু-সৃঞ্জয়দের কোর্টে। দেখা যাক অঞ্জন মিত্রর মাস্টার স্ট্রোকের কী জবাব দেন তাঁরা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন