মোহনবাগান-২(সাইগানি-নিজ গোল, ডিকা)  আইজল এফসি-০

কলকাতা: নানাকরম শিরোনাম হতে পারত এই প্রতিবেদনের। হতে পারত, ‘কোচ বদলেই জয়ের রাজপথে মোহনবাগান’। হতে পারত, ‘সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনী করেও স্বস্তির জয় সবুজমেরুনের’। লেখা যেত, ‘অভিষেকেই মাঝমাঠে নির্ভরতা দিলেন ওয়াটসন’ কিংবা ‘শুরুটা জয় দিয়েই হল শঙ্করলালের’।

কিন্তু দেওয়া গেল না। কারণ, মাঠের প্রতিটি ইঞ্চি ব্যবহার করে যেভাবে এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা হয়, সেই খেলাটা এবারের আই লিগে কোনো দল খেলছে না। ঠিকঠাক ফুটবলার ছাড়া সবটা খেলা যায় না ঠিকই, কিন্তু চেষ্টাটা করাই যায়। সেটাই এদিন করল সবুজমেরুন। আর সেটা সম্ভব হল মাঝমাঠে ক্যামেরন ওয়াটসন এসে যাওয়ায়। তাঁর এবং রেইনারের জুটি এদিন বাগানের মাঝমাঠের রং বদলে দিল। যথেষ্ট ভালো দল আইজল ডিফেন্স করতে করতে আক্রমণে ওঠাই ভুলে গেল। ক্যামেরনের ম্যাচ রিডিং চমৎকার। নীরবে কাজের কাজটা করতে থাকেন একটানা। এদিন ছিল প্রথম ম্যাচ। যতদিন যাবে, ততই তিনি ধারালো হবেন, আশা করাই যায়। তার সঙ্গে রেইনারের ছটফটানির মিশেলে আই লিগে বাকি ম্যাচগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘুম ছোটাবে বলেই ধারণা। ওয়াটসন নির্ভারতা না দিলে টানা ৯০ নব্বই মিনিট সনিকে ছাড়া এত ঝোড়ো ফুটবল খেলা যায় না। এই দলটায় সনি যুক্ত হলে, ফের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠারই কথা।

সত্যি বলতে কি বাগানের টানা আক্রমণের চাপ সামলাতে সামলাতেই চাপে পড়ে সেমসাইডটা করে ফেললেন আইজলের ডিফেন্ডার সাইগানি। তারও মিনিট ২০ পর, ম্যাচের ৭৫ মিনিটে অবশেষে একটা ফিল্ড করলেন ডিকা। এভাবেই হয়তো দেখা যাবে, শেষে এবারও তিনি আই লিগের সর্বোচ্চ স্কোরার হয়ে গেছেন।

ব্যাপারটা অদ্ভুত! কারণ এদিন তিন থেকে চারবার আইজলের ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারেননি ক্রোমা-ডিকা। পুরো মাঠ জুড়ে চমৎকার ফুটবলের প্রদর্শনী করেও বক্সের ভিড়ে আটকে গেছে সবুজমেরুন ব্রিগেড। স্ট্রাইকাররা এভাবে গোল মিস করলে কোনো কোচেরই কিছু করার থাকে না। শেষ পর্যন্ত যে স্বস্তির জয় এসেছে তাতে শঙ্করলাল স্বস্তিতে নিশ্চয়অ। কিন্তু তাতে এই সত্যটা পালটে যায় না যে, মাত্র তিন দিন স্বাধীন ভাবে অনুশীলন করিয়েই দলটার চেহারা অনেকটাই পালটে দিতে পারেছেন তিনি। পুরো দলটার খেলায় যে পরিবর্তন, তাতে কোচের নির্দিষ্ট চিন্তাভাবনার ছাপ স্পষ্ট।

শঙ্করলালের ফুটবল জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কোচিং জীবন কিন্তু অনেকদূর যাবে। অন্তত আই লিগে তাঁর প্রথম ম্যাচ সে কথাই বলছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here