মোহনবাগান-২(ডিকা-২)            ইস্টবেঙ্গল-০

কলকাতা: হ্যাটট্রিক করতে পারতেন আক্রম। হ্যাটট্রিক করতে পারতেন নিখিল কদম। ডিকাও কি পারতেন? মনে পড়ছে না। কিন্তু এদিন তিনি ছাড়া ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে তিনি ছাড়া মোহনবাগানের আর কেউ গোল করেননি। তাঁর দুটি গোলের মধ্যে একটি আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বমানের। খেলা শুরুর ১ মিনিটের মধ্যে করা প্রথম গোলটিও দুরন্ত। কিন্তু সেই গোলে নিখিল কদমের সেন্টার আর আক্রমের হেডে দেওয়া পাসটির গুরুত্ব প্রায় গোলের মতোই।

ম্যাচ প্রিভিউ ছিল, ইস্টবেঙ্গল ফুটছে। ম্যাচ প্রিভিউ ছিল, মোহনবাগান শিবির সনি বিয়োগে হতাশাচ্ছন্ন। কিন্তু এদিনের ৯০ মিনিট মোহনবাগান যে ফুটবলটা খেলল, সেটা এ মরশুমে তাদের সেরা ফুটবল। সনিকে ছাড়াই। এর কৃতিত্ব অবশ্যই দিতে হবে কোচ শঙ্করলালকে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বাগান জেতার পাশাপাশি হেরেছেও। কিন্তু তিনি যে নতুন পাসিং ফুটবলের নিদর্শন রাখছেন, তা নিশ্চয়ই অনেকের নজর কাড়ছে। এদিন দু মিনিটের মধ্যে আমনা চোট পেয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় শঙ্করলালের দলের সুবিধা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মনে রাখা দরকার, শঙ্করলাল পেয়ে গেছেন ওয়াটসন ও আক্রমকে।

দুরন্ত ফুটবলার এই আক্রম। এদিন গোল হয়তো পাননি। কিন্তু সেটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তিনি পায়ে বল পেলেই মনে হচ্ছিল লালহলুদের রক্ষণ বলে কিছু নেই। আমনা চলে যাওয়ায় মাঝামাঠ তো ‘নেই’ হয়ে গেছিলই। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে প্রথমার্ধেই অর্ণবকে তুলে নিতে বাধ্য হলেন খালিদ। আক্রম এদিন কতবার যে মাঝমাঠে লালহলুদ খেলোয়াড়দের পা থেকে বল কেড়ে নিলেন তার হিসেব রাখা কঠিন।

এবং ওয়াটসন। মাথাটা বরফের চেয়েও ঠান্ডা। মাঝমাঠে প্রায় দাঁড়িয়ে, খুব কম দৌড়ে গোটা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করলেন। চমৎকার খেললেন রেইনার, রিকি, ফৈয়াজ। আর নিজে একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও ইস্টবেঙ্গলকে কাঁদিয়ে ছাড়লেন নিখিল কদম। খেলার শেষর দিকে একবার ইস্টবেঙ্গল বক্সের মধ্যে বাগানের চার ফুটবলার যে ভাবে টানা ওয়ান টাচ খেললেন, তা থেকেই বোঝা যায়, আজকের খেলার গোটা ছবিটা।

ইস্টবেঙ্গল স্ট্রাইকারদের যথারীতি খুঁজে পাওয়া গেল না তেমন ভাবে। প্লাজা আবার ব্যর্থ। ডুডু এখনও ম্যাচ ফিট নন। একটা সহজ হেডের সুযোগ পেলেও জালে জড়াতচে পারলেন না।

এদিনের ম্যাচের পর যা দাঁড়াল, তাতে চমকপ্রদ কিছু না হলে, এবার আই লিগ কলকাতায় আসছে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here