মোহনবাগান ১(কিংসলে)  ইস্টবেঙ্গল-০

কলকাতা: সমস্যা বাড়ল ইস্টবেঙ্গল কোচ খালিদ জামিলের। দলে অর্ণব-রফিকের মতো বঙ্গসন্তানদের না রাখা নিয়ে এমনিতেই কর্তাদের সঙ্গে বিরোধ চলছে তাঁর। বারবার কথা উঠছে, দলের ব্যাপারে তিনি কর্তা থেকে প্রাক্তন ফুটবলার, কারও কথা শুনছেন না। গোলকিপার ব্যারেটোকেও আই লিগের প্রথম ম্যাচে বসিয়ে দিয়েছিলেন। ডার্বিতে হয়তো কর্তাদের মন রক্ষার জন্যই নামিয়েছিলেন তাঁকে। নামিয়েছিলেন গুরবিন্দরকেও। কিন্তু দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরির খেসারত তাঁকে দিতে হল। বেশিরভাগ সময়টা নিষ্প্রভ থেকে আই লিগের প্রথম ডার্বিতে হারল ইস্টবেঙ্গল।

এমন নয় যে মোহনবাগান দারুণ খেলেছে। কিন্তু এদিনের খেলা থেকে ইঙ্গিত, আর দু-তিনটে ম্যাচ গেলে দুরন্ত হয়ে উঠতে পারে বাগানের আক্রমণ ভাগ। এদিন সনির তৈরি করে দেওয়া যে সমস্ত সুযোগ ক্রোমা, ডিকারা নষ্ট করেছেন, তার অনেকটাই বোঝাপড়ার অভাবের জন্য। দু-একটা ম্যাচ পর থেকে এইসব সুযোগ নষ্ট আর হবে না বলেই মনে হয়। এসবের মধ্যেই সনির একটা চমৎকার কর্নার থেকে হেডে গোল করে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন স্টপার কিংসলে। এদিন ম্যাচের শুরু থেকে ডিফেন্সে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেনই। গোল পেয়ে যাওয়ার পর একাই যেন তিনজনের খেলা খেললেন প্রাক্তন আইজল স্টপার।

নজর কাড়লেন আরেকজনও। এদিন মোহনবাগানের হয় অভিষেক হল ইয়ুটা কিনোয়াকির। নজরের আড়ালে যে খেলাটা তিনি ৯০ মিনিট খেলে গেলেন, সেখানেই অনেকটা এগিয়ে গেছিল মোহনবাগান। একার দায়িত্বে তিনি বোতলবন্দি করে রাখলেন আল আমনাকে। গোলে নির্ভরতা দিলেন শিলটন।

পুরোনো দলের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব লড়লেন কাতসুমি। কিন্তু আমনা আটকে যাওয়ায় খুব একটা কিছু করতে পারেননি তিনি। তবে এদিন ইস্টবেঙ্গলের আরেক ফুটবলারের কথা বলতেই হবে। স্টপার এদুয়ার্দো। চুটিয়ে খেললেন এদু।

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল চাপ বাড়িয়েছিল। চার্লসকে নামিয়ে আক্রমণ ভাগকে শক্তিশালী করেছিলেন খালিদ। কিন্তু পালটা ডিফেন্সে লোক বাড়িয়ে সেই চাল সফল হতে দিলেন না সঞ্জয় সেন। বস্তুত, এদিনের ম্যাচে স্ট্র্যাটেজিতে খালিদকে তিন গোল দিলেন সঞ্জয়। দু’দলের প্রথম ম্যাচ দেখে সকলেই মনে করেছিলেন এদিন ইস্টবেঙ্গল ফেভারিট। কিন্তু ডার্বির পোড়খাওয়া কোচ সঞ্জয় জানেন, বড়ো ম্যাচের কাহিনি আলাদা। কিনোয়াকিকে সঞ্জয় সেভাবে ব্যবহার করলেন, তার জবাব ছিল না খালিদের কাছে।

কতকাতা লিগে মোহনবাগান, মহমেডানের সঙ্গে ড্র করেছিলেন। এবার হার। ডার্বি জিততে না পারলে ইস্টবেঙ্গল জনতা কিছুতেই মানতে পারবে না খালিদকে। তা তিনি যতই কলকাতা লিগ জিতুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here