মোহনবাগান- ২(নিখিল কদম, কামো-পেনাল্টি)  পিয়ারলেস-১(ডোডোজ)

কলকাতা:  খেলা যারা দেখেছেন, তাঁরা সকলেই জানেন, সোমবার তেমন ভালো খেলেনি মোহনবাগান। তাঁরা আরও বলবেন, এদিন যে দলটা নামিয়েছিলেন কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী, তাতে বেশ কিছু ঝুঁকি ছিল। প্রায় নতুন একটা ডিফেন্স লাইন আপ। যাতে কিংসলে ছাড়া কেউই দলের নিয়মিত ফুটবলার নন। কিন্তু মনে রাখতে হবে,কার্ডের জন্য খেলতে পারেননি কিংশুক। আজ আর একটা কার্ড দেখলে ডার্বিতে পাওয়া যেত না রিকিকে, তাই নামানোটাই বরং ঝুঁকি হতে পারত। আর অরিজিত বাগুইয়ের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে, অতএব পরিবর্তদের ম্যাচের মধ্যে রাখাটা জরুরি ছিল।। চোটের জন্য মাঝমাঠে প্রথম থেকে নামেননি আজহারউদ্দিন ও শিলটন ডি সিলভা। আজহার অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে নামলেন এবং তিনি নামার পরেই, তাঁর আক্রমণের পা ছুঁয়েই বাগান পেনাল্টি পেল। কিন্তু তারপর থেকে, চোটের জন্যই হয়তো তেমন গা লাগালেন না আজহার। শিলটনকে পরেও নামানো হয়নি।

কামো-ক্রোমা খেলেছেন। কিন্তু তাঁদের দু’জনেরও একটা করে কার্ড দেখা ছিল। সেই ভয়েই হয়তো গোটা ম্যাচটায় গা লাগালেন না কামো। যদিও পেনাল্টিতে জয়সূচক গোলটা তাঁরই।

এসবের মধ্যেই উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ক্রোমা। খোলা মনে প্রতিদিনের মতোই মাঠজুড়ে ফুটবল খেললেন তিনি। সত্যি বলতে কি মোহনবাগান তাঁর জন্যই প্রথম থেকে আক্রমণের ঝড় তুলেছিল। কামো কিছুটা নিষ্প্রভ থাকায় আর পিয়ারলেস ডিফেন্সের দৌলতে গোল আসেনি। শেষ অবধি পিয়ারলেসের স্টপার টোরে ম্যাচের সেরা হলেন। তবু এসবের মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক মানের গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন নিখিল কদম। কিন্তু কিছুটা ডিফেন্সের দুর্বলতায় আর শিলটনের ভুলে সেই গোল শোধ করে দেন ডোডোজ।

দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান যে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করল, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে, ওই গোলটা না পেলে আশা করা যায়, বাকি ম্যাচটা আরও তেড়েফুঁড়ে খেলত সবুজমেরুন।

আরও পড়ুন: মোহনবাগান মাঠে খালিদের নতুন ‘গুপ্তচর’, ডার্বির আবহে সবুজমেরুন

পুরো ম্যাচে পিয়ারলেস তেমন আক্রমণ করতে না পারলেও, যে কটা আক্রমণ হয়েছে, তার একটি থেকে গোল হয়েছে, অন্যগুলিতেও গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডার্বিতে কিংশুক, রিকি ফিরলে ডিফেন্স নিশ্চয় কিছুটা উন্নত হবে। কিন্তু মাঝামাঝে নেতৃত্ব দেওয়ার লোক কলকাতা লিগে পেল না বাগান। সেই কাজ আজহার বা শিলটনের নয়। কিছুটা চিন্তা রয়ে গেল শিলটন পালকে নিয়েও।

রেনবো ম্যাচে দল নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে ডুবেছিলেন শঙ্করলাল, আজ যদি আবার ডুবতেন(যদিও তাঁর কাছে অন্যকিছুর খুব একটা সুযোগ ছিল না), তাহলে সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়তেন নিশ্চিত ভাবেই। আপাতত তিনি স্বস্তিতে। পছন্দের একাদশকেই নামাতে পারবেন ডার্বিতে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here