মোহনবাগান – ২ (হেনরি ২)                        কলকাতা কাস্টমস – ০ 

ওয়েবডেস্ক:”সাত বছর(আসলে আট বছর) পরপর মেয়ে হওয়ার পর ছেলে হলে যেমন লাগে, তেমন লাগছে”। ম্যাচের বিরতিতে মোহনবাগানের আট বছর পর লিগ জয় নিয়ে বলছিলেন ক্লাবের পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট টুটু বসু। এই ২০১৮ সালে দাঁড়িয়ে কতটা সামন্ততান্ত্রিক-পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব থাকলে কন্যা সন্তানকে ব্যর্থতা আর পুত্র সন্তানকে সাফল্যের সঙ্গে সমীকৃত করে দেখা সম্ভব, সেটা নিশ্চয় উদ্‌যাপনের শেষে মোহনবাগানের পুরুষ ও মহিলা সমর্থকরা ভাববেন। তবে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের বিখ্যাত কর্তার মুখে এমন কথা, ক্লাবের ভাবমূর্তিতে কালি দেওয়ার পক্ষে যে যথেষ্ট, তা বলাই বাহুল্য।

আসা যাক খেলার কথায়। মোট ৩০ বার কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই এই খেতাব। উগান্ডার হেনরির জোড়া গোল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরপর দুই ম্যাচ হেরে গিয়েছিল। ফলে লিগ জয় ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর সেই ছবির সাক্ষী থাকতে মোহন সমর্থকরা যে কাতারে কাতারে উপস্থিত থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই যার প্রতিফলন দেখা গেল। কলকাতা ময়দানের ৭০-৮০ দশকে যা দেখা যেত। ফের সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। সমর্থকদের বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস। খেলার পরেও দীর্ঘক্ষণ মাঠে থাকলেন অগণিত সমর্থক। তৈরি হল অকাল দীপাবলী।

গত ম্যাচের জয়ের ধারাকে এই ম্যাচেও বজায় রেখে শুরু থেকেই আক্রমণ মোহনবাগানের। যার ফল ম্যাচের চার মিনিটের মধ্যে হেনরির প্রথম গোল। গোলার মতো শটে বিপক্ষ জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি। হেনরির সতীর্থ অর্থাৎ লিগের এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা ডিকার অবশ্য দিনটা খারাপই গেল। সারা ম্যাচ চেষ্টা চালালেন তবে নিজের গোলখাতা খুলতে পারেননি তিনি। অবশ্য নিজেদের সাধ্যমতো লড়াই করে গেল অফিস দলটিও। পনেরো মিনিটে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন তাদের বিদেশি স্ট্রাইকার স্ট্যানলি। তবে তা থেকে বিপদ হতে দেননি মোহন-কিপার শঙ্কর রায়।

এদিন সারা ম্যাচে বেশ কয়েকবার নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখলেন এই তরুণ বঙ্গতনয়। বিরতিতে যাওয়ার মিনিট দুয়েক আগে নিখুঁত সুযোগে ব্যবধান বাড়ান সেই হেনরি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধ বোঝাপড়াই ছিল মোহনবাগানের মূল লক্ষ্য। সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। এই অর্ধে কিছুটা খোলস ছেড়ে ব্যবধান কমানোর লক্ষে আক্রমণে উঠলেও গোল করতে পারেনি কাস্টমস।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন