মোহনবাগান-১(ডিকা-পেনাল্টি)   লাজং-১(স্যামুয়েল-পেনাল্টি)

কলকাতা: বাংলার ফুটবল ঐতিহ্যর মান রাখতে পারলেন না বাংলার ছেলেরা। বহুদিন পর আই লিগের ম্যাচের কলকাতার দুই প্রধানের এক প্রধান ছয় জন স্থানীয় ছেলেকে প্রথম একাদশে রেখেছিল। কিন্তু তাঁরা কাজের কাজটা করে মাঠ ছাড়তে পারলেন না। আগের ম্যাচে পাঁচ গোল খাওয়া লাডং-এর কাছে আটকে গেল সঞ্জয় সেনের দল।

কোচের অবশ্য কিছু করার ছিল না। ইয়ুটা, ক্রোমা, অরিজিত, সনি- প্রথম একাদশের চার ফুটবলার আগের ম্যাচে চোট পেয়েছেন। সনি-ক্রোমাকে হয়তো অল্প সময়ের জন্য নামানো যেত। কিন্তু ঝুঁকি নেননি তিনি। কারণ দীর্ঘ লিগে চোট থাকবেই। সনি-ক্রোমার চোট বেড়ে গেলে ভবিষ্যতে বড়ো সমস্যায় পড়ে যেতে পারে দল। তার ওপর ঘরের মাঠে লাজং-এর বিরুদ্ধে খেলা। একেই একাডেমির ছেলেদের নিয়ে তৈরি দল। তার ওপর আগের ম্যাচে পাঁচ গোল খেয়ে দলটার মনোবলও তলানিতে। এরকম দলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করতে না পারলে আর কবে পারবেন রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলাররা। তাঁদের সাহায্য করার জন্য কিছুটা পেছন থেকে খেলছিলেন ডিকা। বলও বাড়াচ্ছিলেন দীপেন্দু, নরহরিদের। কিন্তু তিনি তো আর গেমমেকার নন। আর দীপেন্দুরাও ডিকা বা ক্রোমা নন। তাই ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ডিকা যে গোলটি করলেন, সেটাই শেষ পর্যন্ত মোহনবাগানের একমাত্র গোল হয়ে থেকে গেল। তবে গোলটি করে অভিনব উদ্‌যাপন করলেন ডিকা। লাজং তাঁর গত মরশুমের দল। গত মরশুমে লাজং-এর হয়ে খেলা আরেক বিদেশি ইয়ুটাও এবার বাগানে। চোট পেয়ে আপাতত মাঠের বাইরে তিনি। ডিকা এদিন গোল করে সাইড লাইনের ধারে গিয়ে কিনোয়াকির জার্সি হাতে নিয়ে গোলটা তাঁকে উৎসর্গ করলেন। মোহনবাগান আক্রমণ ভাগে এদিন আবারও চমৎকার খেললেন শেখ ফৈয়াজ। ম্যাচের সেরাও তিনি। দলের হয়ে পেনাল্টিটাও তাঁরই আদায় করা।

এবার আসা যাক কিংশুক দেবনাথের কথায়। গত মরশুমে মোহনবাগান ডিফেন্সে আনাস থাকায়, কিংশুকের দুর্বলতাগুলো বোঝা যায়নি। এবার গোটা মরশুম জুড়েই নিজের দুর্বলতার প্রমাণ দিচ্ছেন তিনি।  কলকাতা লিগের বড়ো ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন। ডিফেন্সে দায়িত্ব নিতে না পারায় আই লিগের প্রথম ম্যাচে মিনার্ভার বিরুদ্ধে গোল খেয়েছিল মোহনবাগান। এদিন তিনি ছিলেন অধিনায়ক। ম্যাচের ৭৬ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি বক্সে অহেতুক ফাউল করে লাজং-কে পেনাল্টি উপহার দিলেন তিনি। প্রায় জেতা ম্যাচটা হাতছাড়া হল বাগানের। এদিন আরও এক সমস্যায় পড়ল সবুজমেরুন। দু’বার হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড দেখলেন রক্ষণের প্রধান স্তম্ভ কিংসলে। পরের ম্যাচে সনি-ক্রোমা ফিরলেও কিংসলের পরিবর্ত খোঁজা নিয়ে চিন্তা তৈরি হল সঞ্জয় সেনের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here