কলকাতা: নতুন কোনো সমস্যা তৈরি না হলে এই সপ্তাহের শেষেই নতুন মরশুমের স্পনসর ঘোষণা করে দিতে পারে মোহনবাগান। কিন্তু যে ক্লাবে অর্থ সচিব পদত্যাগপত্র দিয়ে বসে রয়েছেন, সেখানে স্পনসর কীভাবে আসবে? তাই এতদিন চলছিল ডিডি-টুম্পাই গোষ্ঠীর সঙ্গে অঞ্জন মিত্রর আলোচনা। কিন্তু দেবাশিস দত্তকে কিছুতেই ক্লাবের কোনো দায়িত্বে রাখার পক্ষপাতী নন সচিব অঞ্জন মিত্র। টুটু বসু শেষ চেষ্টা করলেও, লাভ হল না। বুধবার ক্লাবের কর্মসমিতির বৈঠকে দেবাশিস দত্তর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হল। ক্লাবের নতুন অর্থসচিব হলেন কাশীনাথ দাস।

আরও পড়ুন: সন্দেহজনক দাম বেড়েছে পাঁচ ফুটবলারের, ‘চক্রান্ত’ ঠেকাতেই রিভিউর সিদ্ধান্ত অঞ্জন মিত্রর

সচিব অঞ্জন মিত্র জানিয়েছেন, দেবাশিস দত্ত ১২ মার্চ পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন কিন্তু ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি পরপর চারটি কর্মসমিতির বৈঠকে না আসায় নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু তার উত্তর মেলেনি। এইজন্যই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হল। কিন্তু সৃঞ্জয় বসুর পদত্যাগপত্র এখনও গৃহীত হয়নি। কারণ হিসেবে অঞ্জন মিত্র জানিয়েছেন, সৃঞ্জয় ক্লাবের অন্যতম স্পনসর এবং তিনি কিছুদিন সময় চেয়েছেন।

তবে শুধু টেকনিক্যাল বিষয় নয়। সমস্যা আরও গভীরে। এর আগে অঞ্জন মিত্র স্পনসর নিয়ে এলেও সেটা নাকচ করে দিয়েছিলেন দেবাশিস দত্ত। পালটা দেবাশিসের আনা ফ্রান্সের স্পনসরকে নাকচ করে দেন অঞ্জন। এআরও শোনা যাচ্ছে, ‘স্পনসর রেড রোডে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে’। কিন্তু দেবাশিস থাকলে, আবারও স্পনসর চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। সেই বাধা দূর করতেই সরিয়ে দেওয়া হল দেবাশিস দত্তকে।

তবে শুধু দেবাশিস নয়। সমস্যা আরও আছে। মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের সঙ্গে স্পনসরের সইসাবুদ চূড়ান্ত হয়ে গেলেও ‘মোহনবাগান ফুটবল ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডে’-এর সঙ্গে স্পনসরের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনি সমস্যা আছে। তবে অঞ্জনগোষ্ঠীর কর্তাদের দাবি, সেই সব সমস্যা মিটে যাবে। এ ব্যাপারে আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার অঞ্জনবাবুর বাড়িয়ে বৈঠক করবেন তাঁরা।

অন্যদিকে পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর, তাঁর বিরুদ্ধে নোটিশের উত্তর না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেবাশিস। তাঁর কথায়, “আমি কিছু ভালো পদক্ষেপ করছিলাম, সেটা আটকাতেই আমায় সরানো হল”।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here