কলকাতা: সোমবার বাইপাসের ধারের হোটেলে মোহনবাগানের কর্মসমিতির সভায় নতুন সহ সভাপতি হয়েছেন আইনজীবী উমাশঙ্কর রায়। পদে এসেই ক্লাবকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি। বৈঠকের পর ক্লাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে যে হাতে লেখা বিবৃতি পাঠানো হয়েছে, তাতে লেখা আছে, উমাশঙ্করবাবু ‘নর্থইস্ট শাটলস’ সংস্থার এমডি ও চেয়ারম্যান। তারপর থেকেই জোর গুজব, ওই সংস্থা মোহনবাগানের নতুন কোস্পনসর হয়েছে। জানিয়ে রাখা দরকার, ওই সংস্থা উত্তরপূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে চার্টার্ড বিমানের ব্যবসা করে।

গুজবের সত্যতা যাচাই করতে মোহনবাগানের শাসক শিবিরে খোঁজ নেয় খবর অনলাইন। কেউ স্পষ্ট ভাবে মুখ না খুললেও, যেটা জানা যাচ্ছে, গুজব সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। উমাশঙ্করবাবু যে চেক দিয়েছেন, তা কাটা হয়েছে মোহনবাগান অ্যাথেলেটিক ক্লাবের নামে। কারণ ক্লাবে কোনো স্পনসর বা কোস্পনসর এলে, তাদের সঙ্গে মোহনবাগানের ফু‌টবল সংস্থার আইনত চুক্তি হওয়া দরকার। কিন্তু সেই সংস্থার বোর্ডে রয়েছেন টুটু বসু, সৃঞ্জয় বসু, দেবাশিস দত্তরা। ওই শিবিরের সঙ্গে সচিব অঞ্জন মিত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ফলে এই মুহূর্তে সইসাবুদ হওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থায় ওই তিন কোটি টাকা আপাতত অনুদান হিসেবে দেখিয়ে পরবর্তীতে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতে পারে। তবে সেটা হওয়ার আগে কোম্পানিকে প্রাইভেট থেকে পাবলিক লিমিটেড করে নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে(যা করার সিদ্ধান্ত বার্ষিক সাধারণ সভায় হয়ে রয়েছে)। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে এখনও কিছুদিন সময় লাগবে। অথবা দুই শিবিরের মধ্যে বোঝাপড়া হতে হবে(যা হওয়ার সম্ভাবনা এখনও দূরঅস্ত)।

পাশাপাশি শাসক শিবিরের দাবি, সম্ভবত ২৯ জুলাই মোহনবাগান দিবসে ঘোষণা হয়ে যাবে নতুন স্পনসরের নাম। কলকাতা লিগ চলতে চলতেই চুক্তি হয়ে যাবে নতুন বিদেশিদের সঙ্গে। ইস্টবেঙ্গলের মতো মোহনবাগানেও আসতে পারে বিশ্বকাপার। বিদেশি ফুটবলার সংক্রান্ত বিষয়গুলি পুরোটাই দেখছেন সচিব অঞ্জন মিত্রর জামাই ও প্রাক্তন ফুটবলার কল্যাণ চৌবে। তাঁরা বলছেন, ইস্টবেঙ্গলের থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে থাকবে না বাগান। রয়েছে আইএসএল খেলার সম্ভাবনাও। আর সেখানেই রয়ে গেছে কিছু উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন।

প্রথমত, আই লিগ খেলার জন্য যে বাজেট প্রয়োজন, তা মোহনবাগান প্রায় জোগাড় করে ফেলেছে। নতুন স্পনসর এলে, তা আসবে আইএসএল খেলার লক্ষ্যেই। আইএসএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোহনবাগানের কথাবার্তা কতদূর হয়েছে, তা নিয়ে এখন মুখ খুলছেন না কোনো কর্তাই। দ্বিতীয়ত, মেইন স্পনসর এলেও থেকে যাবে মোহনবাগানের ফুটবল সংস্থার সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি। সেই স্পনসরও কি আপাতত অনুদান হিসেবে টাকা দিতে রাজি হবে?

এইসব প্রশ্নের উত্তর না মিললেও বাগানের শাসক শিবিরের শীর্ষকর্তাদের মেজাজ কিন্তু ফুরফুরে। তাঁরা বলছেন, চিন্তার কিছু নেই, এখন শুধু চমকের পর চমক। সত্যিই কি তাই? উত্তর মিলবে দিন কয়েকের মধ্যেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here