কলকাতা: কলকাতা লিগ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার দিনে ক্লাবে লগ্নি নিয়ে নতুন আঁধারে মোহনবাগান। মোহন-সচিব অঞ্জন মিত্রর স্ট্রিমকাস্ট সংস্থাকে ক্লাবের লগ্নিকারী হিসেবে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়ার জন্য এদিন মোহনবাগান ফুটবল ইন্ডিয়া লিমিটেড সংস্থার পাঁচ ডিরেক্টরের বৈঠক ছিল ক্লাবে। কিন্তু সেখানে ঐকমত্য হল না। ক্লাবের বিরোধী গোষ্ঠী ও সংস্থার তিন ডিরেক্টর অর্থাৎ টুটু বসু, সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত ওই স্পনসরের বিরোধিতা করেন।

বৈঠকের পর বেরিয়ে টুটু বসু বলেন, স্ট্রিমকাস্ট সংস্থা সম্পর্কে ভালো ভাবে জানার জন্য ডেলয়েটে নামে একটি নিরপেক্ষ সংস্থাকে তাঁরা দায়িত্ব দিচ্ছেন। সেই সংস্থার রিপোর্ট পাওয়ার পরই তাঁরা মউ-তে স্বাক্ষর করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে অঞ্জনবাবু বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর মউ স্বাক্ষর না হলে ওই সংস্থা বাগানের লগ্নিকারী হতে চাইবে না। কিন্তু ডে লয়েডের রিপোর্ট কবে আসবে তিনি জানেন না। তাই তাঁর আর কিছু করার নেই। তিনি লগ্নিকারী এনেছিলেন, কিন্তু সেটা কাজে লাগল না ডিরেক্টরদের ভিন্নমতের জন্য।

এদিন বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের বৈঠক চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। কী হল সেই বৈঠকে?

এখনও পুরো চিত্র পরিষ্কার না হলেও ক্লাব সূত্রে দু’রকম খবর উঠে আসছে। একাংশ বলছে, ক্লাবের ৭৪ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে টুটুবাবুদের। কারণ এরপর ক্লাব পাবলিক লিমিটেড হয়ে গেলে, সদস্যদের জন্যও শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে তাঁদের গোষ্ঠীর হাতে শেয়ার ব্যাপক কমে যাবে(টুটু-সৃঞ্জয়-দেবাশিস)। সেদিক থেকে অঞ্জনবাবুর সমস্যা কম। কারণ বোর্ডে তাঁর গোষ্ঠীর পক্ষে তিনিই একমাত্র শেয়ার হোল্ডার। তাঁর মেয়ে সোহিনী বোর্ডে থাকলেও তাঁর কোনো শেয়ার নেই।

অন্য সূত্র বলছে, গোটা আলোচনার তার বাঁধা ছিল নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচন এড়িয়ে দুই পক্ষের যৌথ প্যানেল বাছাই নিয়েই হয় মতবিরোধ। দেবাশিস দত্ত সহ টুটু-গোষ্ঠীর একাধিক ব্যক্তিকে প্যানেলে নেওয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে অঞ্জন মিত্রর। তা নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছনো যায়নি।

কিন্তু ঘটনা যাই হোক, স্ট্রিমকাস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন বৈঠকের পর টুটুবাবু তুলেছেন, সেটা আদতে কোনো ইস্যুই নয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁরা মনে করছেন, কোনোভাবেই অঞ্জনবাবুর আনা স্পনসরে সিলমোহর দিলে ক্লাবের গোষ্ঠী রাজনীতিতে পরাজয় মেনে নিতে হত টুটু-সৃঞ্জয়দের। সেটা তাঁদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। উল্টোদিকে ক্লাবের আর্থিক সংকটে টুটুবাবু ফুটবলারদের বেতন দিয়ে নতুন করে নায়ক হওয়ার সুযোগ পাবেন।

অঞ্জনগোষ্ঠীর অবশ্য দাবি, তাঁরা লগ্নিকারী আনার পরেও টুটুবাবুরা তা আটকে দেওয়ায়, নির্বাচনে সুবিধা মিলবে তাঁদেরই।

তবে এখানেই শেষ নয়। এরপরও মোহনবাগানের বরফ গলতে পারে। যদি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়। কিন্তু সেটা আদৌ হবে কিনা তা সময়ই বলবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন