মোহনবাগান-৩(ফৈয়াজ, নিখিল, লরেন্স-আত্মঘাতী)           লাজং-১(কোফি)

ওয়েবডেস্ক: সুপার কাপ টুর্নামেন্টটা এমন সময় হচ্ছে, যেটা দলবদলের ভরা মরশুম। ফলে ভুবনেশ্বর কার্যত পরিণত হয়েছে ফুটবলারদের বাজারে। অবস্থা বুঝে ফুটবলাররাও স্পটারদের সামনে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মরিয়া। এদিন যেমন। আই লিগে যেতদিন খেলেছেন, ভালোই খেলেছেন কিন্তু এদিন বাগানের দুই বিদেশি আক্রম ও ওয়াটসন যেমন খেললেন, তার বোধহয় কোনো তুলনা নেই। বস্তুত ওয়াটসন যেমন খেলিয়েছেন, গোটা দলটাই তেমন খেলেছেন। মাঝমাঠে নেতৃত্ব ছিল তাঁরই। বাগানের চমৎকার আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে নিজেকে উজাড় করে খেললেন আক্রম মোঘ্রাবি। তিনি খেললেই বোঝা যায় বড়ো ফুটবলার। সঙ্গে এটাও বোঝা যায়, তাঁর বয়স হয়েছে। যে জন্য সুভাষ চাইলেও তাঁকে নিতে রাজি হচ্ছেন না ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। মজার ব্যাপার, এই দুই ফুটবলারকেই আগামী মরশুমে রাখবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে মোহনবাগান। তাতে কি! ভারতীয় ফুটবলের বাজার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী মরশুমে ফের ভারতে আসার সম্ভাবনা নষ্ট করবেন কেন ওরা?

এদিনের হিরো অফ দ্য ম্যাচ শেখ ফৈয়াজ। তাঁর কিছু প্রমাণ করার ছিল না। পরের মরশুমে এটিকে-র সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েই গেছেন। কিন্তু তাই বলে পেশাদারিত্ব থেকে সরেননি। এদিন বারো মিনিটে অসাধারণ একটা গোল করে তিনিই দলকে এগিয়ে দেন। ২৪ মিনিটে দূর পাল্লার জোরালো শটে সেই ব্যবধান বাড়ান বাগানের এই মরশুমের অন্যতম আবিষ্কার নিখিল কদম। সত্যি বলতে, খেলার শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল সবুজমেরুনের দখলে। দ্বিতীয় গোলটি খাওয়ার পর কিছুটা ম্যাচে ফেরে পাহাড়িরা। ২৮ মিনিটে পেনাল্টাও পায়।কিন্তু আটকে দেন শিলটন। ৯২ মিনিটে কোফির পা থেকে আরও একটি নিশ্চিত গোল বাঁচান তিনি। যতদিন যাচ্ছে, শিলটন যেন আরও নির্ভরযোগ্য হয়ে যাচ্ছেন।

২৮ মিনিটে পেনাল্টি মিস করলেও ২৯ মিনিটে লাজং-এর হয়ে ব্যবধান কমান কোফি। তারপর থেকে লাজং বেশ কিছু আক্রমণ করলেও মোহনবাগান তাঁদের থেকে ধারে ও ভারে অনেকটাই এগিয়েছিল। কিন্তু গোটা মরশুমে বাগানের যে দুর্বলতা ছিল, সেটা বজায় রইল এ ম্যাচেও। তাঁর নাম কিংশুক দেবনাথ। বারবার স্টপার ও শিলটনের মাঝে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল। সেখান থেকে তৈরি হচ্ছিল গোলের সুযোগ। রক্ষণের অবস্থা এমন থাকলে কিন্তু বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হলে অনেক গোল খাওয়ার সম্ভাবনা।

৫৯ মিনিটে সেনারে দুরন্ত হেডার দিয়ে গোল করেন আক্রম। কিন্তু বল লাজং-এর লরেন্সের মাথায় লেগে গোলে ঢোকায়, সেটি আত্মঘাতী হিসেবেই স্কোরবোর্ডে জায়গা করে নিল।

সেমিফাইনালের আগে রক্ষণ নিয়ে চিন্তা রয়ে গেল শঙ্করলালের।

তবে বঙ্গ ফুটবলের পক্ষে ভালো খবর হল, সুপার কাপের সেমিফাইনালে থাকল বাংলার দুই প্রধান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here