tutu-srinjoy-anajan

কলকাতা: সারা বাংলা যখন বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মেতে উঠছে তখন কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবে গোষ্ঠী-রাজনীতি চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেল। দুদিন আগেই অঞ্জন মিত্র চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন, টুটু বসু ক্লাবের সভাপতি কিনা, তা ঠিক করবে কর্মসমিতি। কিন্তু এদিন মোহনবাগান ফুটবল ইন্ডিয়া লিমিটেড ক্লাবের বোর্ড মিটিং-এর পর যে পরিস্থিতি দাঁড়াল, তাতে ২৩ জুন বার্ষিক সাধারণ সভার আগে ক্লাবের কর্মসমিতির সভা ডাকবেন না সচিব অঞ্জন মিত্র। ফলে এজিএম-এর দিন সভা পরিচালনার দায়িত্ব টুটু পাবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।

অঞ্জন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, টুটু সভা পরিচালনা করলে কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড করার প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিতে পারেন। দেবাশিস দত্তকে ক্লাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারেন। তাই তাঁকে আইনি পথে আটকানোর চেষ্টা করছেন অঞ্জন মিত্র।

এদিনের সভায় দুই পক্ষের তীব্র বাদানুবাদ হয়। অঞ্জন মিত্র বোর্ডে তিন সদস্যকে ঢোকাতে চাইলে টুটুও পালটা পাঁচ সদস্যকে ঢোকাতে চান। তখন অঞ্জন বলেন ২৩ তারি্খ ওই প্রস্তাব পাস করাতে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করা সংক্রান্ত আলোচনা এদিন এগোতে দেননি টুটুবাবু। অন্যদিকে আইনি কারণে এখনই সংস্থার বোর্ড থেকে দেবাশিস দত্তকে সরানো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে ২৩ জুনের বার্ষিক সাধারণ সভা উত্তপ্ত হতে চলেছে মোহনবাগানে।

তবে সূত্রের খবর, অঞ্জনবাবুর জামাই ও প্রাক্তন ফুটবলার কল্যাণ চৌবে প্রায় পনের কোটি টাকার যে স্পনসর এনেছেন, তাকে ধরে রাখতে আগ্রহী টুটু-টুম্পাইরাও। কিন্তু বাধা দিচ্ছেন দেবাশিস। এ বিষয়ে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে বলে আশা দুই শিবিরেই। নতুন মরশুমে এমপি বিড়লার পশাপাশি নীলকমলও স্পনসর থাকছে মোহনবাগানে। তাদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি হবে।

আসল ঘটনা হল, দেবাশিস দত্ত মাঝে না থাকলে এতদিনে দুই টুটু-অঞ্জনের মিলমিশ হয়েই যেত। কিন্তু নানা কারণে দেবাশিসকে বাদ দিয়ে চলা মুশকিল বসু পরিবারের। আর অঞ্জন কোনোমতেই দেবাশিসকে মেনে নিতে রাজি নন। সব মিলিয়ে কোন ফর্মুলায় বরফ গলবে, তা এখনও অস্পষ্ট।

এদিনের বোর্ড মিটিং-এ ২৫জন ফুটবলারের পাশাপাশি মেহতাব হোসেনের নথিভুক্তিতে সিলমোহর পড়ল। ফলে তাঁকে অগ্রম দিতে আর বাধা রইল না ক্লাবের। এতদিন সেটা আটকে দিয়েছিলেন সৃঞ্জয় বসু।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here