অঞ্জন মিত্র, সৌজন্য:টাইমস অফ ইন্ডিয়া

কলকাতা: তাঁর কাজে অনেকে বাধার সৃষ্টি করছে, এমন কথা ঠারেঠোরে কিছুদিন ধরেই বলছিলেন, এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল মোহনবাগান সচিব অঞ্জন মিত্রর। বুধবার স্পষ্ট ভাষায় ক্লাবের বর্তমান অচলাবস্থার জন্য তিনি দায়ী করলেন ‘মোহনবাগান ফুটবল ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থার তিন বোর্ড সদস্যকে। অঞ্জনবাবু ছাড়া ওই সংস্থার অন্য তিনজন বোর্ড অফ ডিরেক্টর হলেন স্বপনসাধন(টুটু) বসু, সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত।

এদিন বিকেলে ক্লাবে বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ ফুটবলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন অঞ্জনবাবু। আধ ঘণ্টার সেই বৈঠকে অঞ্জনবাবু ফুটবলারদের থেকে আরও সাতদিন সময় চেয়ে নেন। ফুটবলাররা বৈঠকের পর অনুশীলনের করে ফিরে যান। তারপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাগান সচিব।

হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারপতিদের না জানিয়ে অঞ্জনবাবু খেলোয়ারদের বেতনের জন্য বড়ো চেক সংস্থার অ্যাকাউন্টে ফেলতে চাওয়াতেই বিচারপতিরা তা আটকে দিয়েছেন, এই অভিযোগের জবাবে অঞ্জনবাবু বলেন বিষয়টি ‘আংশিক সত্যি’। কারণ হাইকোর্ট বড়ো অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার কথা বললেন, ‘বড়ো অঙ্ক’টা ঠিক কত সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়নি। অভিযোগের উত্তর দিতে গিয়েই আগল খুলে যায় অঞ্জন মিত্রর। তিনি বলেন, তাঁকে সুষ্ঠু ভাবে ক্লাব চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই স্পনসরের কথাও জানতে চান সাংবাদিকরা। উত্তরে অঞ্জন বলেন, স্পনসর আনার দায় তাঁর একার নয়। সংস্থার অন্য তিন বোর্ড সদস্যেরও। ওই তিন সদস্য নিয়মিত চেকে সই করছেন, অন্যান্য যাবতীয় ক্ষমতা ভোগ করছেন, কিন্ত যারা স্পনসর হতে চাইছেন, তাঁদের ভাংচি দিচ্ছেন। অঞ্জনবাবু বলেন, একটি স্পনসরের ক্ষেত্রে শতকরা ষাট ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পরে, তার খবর পেয়ে স্পনসরদের দূরে ঠেলে দেন ওই বোর্ড সদস্যরা।

পাশাপাশি অঞ্জনবাবুর বক্তব্য, কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার যাবতীয় তথ্য নিজের ল্যাপটপে নিয়ে ক্লাবে আসছেন না। সেটা তিনি করছেন ওই তিন বোর্ড সদস্যের নির্দেশেই। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি ওই জেনারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে থানায় যাবেন কিনা? উত্তরে অঞ্জন বলেন, তিনি জনতার দরবারে যাবেন।

সচিবের বিস্ফোরক অভিযোগের উত্তরে অন্যতম বোর্ড সদস্য সৃঞ্জয় বসুর দাবি, সচিব ফুটবল সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। তাই স্পনসর না আসার দায় অন্য বোর্ড সদস্যদের ওপর চাপানোর অধিকার নেই তাঁর। পাশাপাশি সৃঞ্জয়বাবুর বক্তব্য, ক্লাব চালাতে না পারার দায় নিয়ে সচিব পদ ছেড়ে দিন, তাহলে বোঝা যাবে অন্যরা ক্লাব চালাতে পারেন কিনা।

অনেকেই মনে করছেন, সচিবের বিরোধী গোষ্ঠীর ওই তিন বোর্ড সদস্য নানা ভাবে ফুটবলারদের বেতন আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে ডার্বির আগে ফুটবলারদের বেতন দিয়ে টুটু বসু নতুন করে সদস্য-সমর্থকদের মনে নায়কের আসন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। তবে অঞ্জন আত্মবিশ্বাসী বিচারপতিদের বুঝিয়ে ফুটবলারদের বেতনের টাকা তিনি আদায় করে নিতে পারবেন। সেটা না হলে, সাংবাদিক সম্মেলন করে আরও নানা কথা ফাঁস করবেন। কিন্তু পরের মাসে? অঞ্জন বলছেন, ‘সেটা পরে ভাববো’।

অন্যদিকে ক্লাবের অন্দরমহলের খবর, মোহনবাগানের বর্তমান আর্থিক সমস্যা নিয়ে সচিব উদ্বিগ্ন হলেও নির্বাচনে নিজের এবং নিজের গোষ্ঠীর সাফল্য নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন