সানি চক্রবর্তী: দরকার ছিল ১ পয়েন্টের। ঠিক সেটাই জোগাড় করে নিল বার্সেলোনা। তুরিনে জুভেন্তাসের বিরুদ্ধে সাবধানী ফুটবল খেলে ০-০ ফলে ম্যাচ ড্র রাখল তারা। যার জেরে ৫ ম্যাচের পরে ১১ পয়েন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্নেস্তো ভেলভর্দের দল। এদিন দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুটা পরে পরিবর্ত হয়ে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। এলএমটেন নামার পরে কিছুটা খেলার দখল বার্সার পক্ষে বাড়লেও গোলের রাস্তা খোলেনি। ফ্রি-কিকে রাকিটিচের শট পোস্টে লাগা ছাড়া বুঁফোকে সেভাবে বিব্রতই হতে হয়নি। বরং বেশ কয়েকবার ভালো সেভ করতে হয়েছে আন্দ্রে টের স্টেগেনকে। বিশেষ করে পাওলো দিবালার একেবারে শেষলগ্নে বাঁক খাওয়ানো শট দারুণ সেভ না করলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। গ্রুপের শেষপর্বের ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে জুভেন্তাস। তাই তারাও শেষ ল্যাপে নকআউট স্তরে পৌঁছোনো পাকা করে ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হাইপ্রোফাইল বার্সেলোনা-জুভেন্তাস ম্যাচ ম্যাড়মেড়ে হলেও সুইজারল্যান্ডে এদিন অঘটন ঘটেছে। এমনিতেই বাসেল ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর কাছে শক্ত ঘাঁটি। এদিন সেই এফসি বাসেলের কাছে ধাক্কা খেয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। খেলার ৮৯ মিনিটে গোলহজম করে ০-১ ফলে হেরেছে হোসে মোরিনহোর প্রশিক্ষণাধীন দল। বাসেলের রাইট ব্যাক মিচেল ল্যাং গোলটি করেছেন। পোর্তুগিজ কোচের দলে একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জেরে ম্যান ইউয়ের খেলোয়াড়দের বোঝাপড়ায় অভাবটা চোখে পড়েছে। হারের জেরে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটডেকে অপেক্ষা করতে হবে শেষ ষোলোয় স্থান করার ক্ষেত্রে। ইংল্যান্ডের অপর দল চেলসি অবশ্য দুরন্ত খেলে ৪-০ ফলে কারাবাগকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টারে পৌঁছে গিয়েছে। দারুণভাবে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত রেখে জোড়া গোল করেছেন উইলিয়ান। চেলসির গ্রুপ থেকে অপর দল হিসেবে শেষ ষোলোয় যাওয়ার লড়াই চলছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও এএস রোমার মধ্যে। এদিন রোমাকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের দৌড়ে ফিরে এলেও কার্যত বিদায়ের খাঁড়া ঝুলছে গ্রিজম্যানদের ঘাড়ে। কারণ শেষম্যাচে তাদের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে গিয়ে চেলসিকে না হারালে পরের পর্বে যাওয়া কোনো সুযোগ নেই। অপরদিকে, গ্রুপের শেষ ম্যাচে কারাবাগের বিরুদ্ধে খেলবে রোমা। পয়েন্টে আপাতত এগিয়ে থাকা ইতালির দলটি সরাসরি জিতলেই তাই সমীকরণ থেকে ছিটকে যাবে অ্যাটলেটি।

এদিকে, প্যারিস সাঁ জাঁ-র দুরন্ত জয়যাত্রা অব্যাহত। এদিন তারা সেলটিককে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ৭-১ গোলে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বে সবথেকে বড়ো ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি ৫ ম্যাচে ২৪ গোল করে গ্রুপপর্বে সর্বোচ্চ গোল করার নজির ইতিমধ্যে গড়ে ফেলেছে তারা। উল্লেখ্য, এখনও পিএসজি-র একটা ম্যাচ বাকি। এদিন খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই গোল খেয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু তারপরেই সামলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে দেওয়া শুরু। নেইমার, কাভানি দুটো করে আর এমবাপে, ভেরেত্তি ও ড্যানি আলভেস একটি করে গোল করেছেন। পাশাপাশি অ্যান্ডারলেখটকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউটে স্থান পাকা করে ফেলেছে বেয়ার্ন মিউনিখ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here