কলকাতা: এক সময় বিদেশি ফুটবলার খেলিয়ে কলকাতা ময়দানে নতুন দিন এনেছিল ইস্টবেঙ্গল। এবার তৈরি করল এক নতুন ইতিহাস। স্পনসর নয়, বিনিয়োগকারী নিয়ে ক্লাবে। দশ বছরের চুক্তিতে। ক্লাবের সত্তর শতাংশ মালিকানা চলে গেল কোয়েস কর্প নামে ওই সংস্থার হাতে। নাম হয়ে গেল ‘কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাব’। ক্লাবের ফুটবল সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় ক্ষমতা চলে গেল ওই সংস্থার হাতে। ক্লাবের স্পনসর, কো-স্পনসর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারাই। তবে ক্লাব ও ওই সংস্থার চার জন করে সদস্য নিয়ে একটি বোর্ড গঠনের কথাও জানা গিয়েছে। কিন্তু এই চুক্তি ঠিক কত দিনের জন্য কার্যকর থাকবেস সে বিষয়ে খোলসা করে কিছু জানানো হয়নি।

এদিন পার্ক হোটেলে এক জমজমাট সাংবাদিক বৈঠকের আগে ইস্টবেঙ্গল ও কোয়েস কর্পের মধ্যে চুক্তি সই হয়। উপস্থিত ছিলেন আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়, এআইএফএফ সচিব কুশল দাশ প্রমুখ। ক্লাবের নামজাদা বিদেশি আনার ব্যাপারও ইঙ্গিত মিলেছে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে। শুধু দল গঠন নয়, ক্লাবের সামগ্রিক ফুটবল পরিকাঠামো বৃদ্ধির কাজও করবে ওই বহুজাতিক সংস্থা।

কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের প্রেস বিবৃতি

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলবে কিনা, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তবে ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেছেন, তাঁরা এ বছর থেকেই আইএসএল খেলার চেষ্টা করবেন। এ বিষয়ে শুক্রবারই বৈঠক হবে এআইএফএফ-এর সঙ্গে। তবে তা নির্ভর করছে আইএসএল-এর পরিচালক সংস্থা আইএমজিআর-এর ওপর।

কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের লোগো

প্রশ্ন হল, কারা এই কোয়েস কর্প? ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগ করার পিছনে তাঁদের স্বার্থ কী?

কোয়েস কর্প একটি বিজনেস সার্ভিস প্রোভাইডার সংস্থা। যে কোনো বৃহৎ ও নতুন সংস্থার সংস্থার মূল কাজের ক্ষেত্র বাদ দিয়ে অন্য যাবতীয় পরিকাঠামো, কর্মী বাহিনীর যোগান তাঁরা দিয়ে থাকে। তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও তাঁরা কাজ করে। এটি বিখ্যাত ভ্রমণ সংস্থা থমাস কুকের অধীনস্থ সংস্থা। ভারতের বেঙ্গালুরুতে এদের হেড অফিস, এছাড়া দেশে তাঁদের আরও ৬৪টি দফতর আছে। এরা কাজ করে দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকা, মধ্য প্রাচ্য ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়। এদের কর্মী সংখ্যা আড়াই লক্ষেরও বেশি।

কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের জার্সি

সংস্থা ঘোষণা করেছে, নিজেদের ব্র্যান্ডকে জনপ্রিয় করার জন্যই তাঁরা ইস্টবেঙ্গলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু কোয়েসের কাজের ক্ষেত্র বা পণ্যের সঙ্গে কলকাতা ও ভারতের ফুটবল-জনতার যে বিপুল ফারাক, তাতে প্রশ্ন জাগে, ইস্টবেঙ্গলের যুক্ত হওয়ার ফলে যে পরিচিতি তাঁদের তৈরি হবে, সেটা তাঁদের ব্যবসায় কতটা কাজে লাগবে?  সে প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে ৫ জুলাই, ২০১৮ তারিখটি যে কলকাতা ময়দানে নতুন দিনের সূচনা দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here