carloskickfinal

ওয়েবডেস্ক: বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফ্রি-কিক স্পেশালিষ্ট রবার্তো কার্লোস। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁর সেই ৩৫ মিটার দূর থেকে “ব্যানানা ফ্রি-কিক” গোল আজও একবার দেখলে মন ভরে না।

আজকের দিনে ৩ জুন ১৯৯৭ সালে এই অবিশ্বাস্য গোলটি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ওই ম্যাচে  ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। শটটি নেওয়ার আগে কেউ বুঝতে পারেননি কী হতে চলেছে। কারণ বলটি যেখানে বসানো হয়েছিল সেখান থেকে সোজাসুজি গোলে মারা সম্ভব ছিল না। কিন্তু কার্লোস সেই সব না ভেবেই বলটিকে বাঁ পায়ে ঘুরিয়ে মারেন। যা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন ফ্রান্স গোলকিপার ফাবিয়ান বারথেজও। দেখে মনে হয়েছিল বলটি কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে যাবে, কিন্তু সবাইকে অবাক করে বলটি বিপরীত দিকে ঘুরে পোস্টের গা ঘেসে গোলে ঢুকে যায়।

ফিজিক্সের ভাষায় এর কারণ, বলটির স্পিন থেকে রোটেশনের কারণে বলের দু’দিকে লো প্রেসার এবং হাই প্রেসার তৈরি হয়। যার ফলে বলটি মারার পর সোজাসুজি না বেরিয়ে গোলে ঢুকে যায়। যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ” ম্যাগ্নাস এফেক্ট” বলা হয়।

দু’দশক পরেও, কার্লোস বলেন, “সত্যি বলতে, আমি এখনও জানি না কী করে ওটা করলাম। সুন্দর গোল ছিল। কঠিন পরিশ্রমের ফল পেয়েছিলাম গোলটা হওয়ার পর। যেটা আমার কাছে খুব স্পেশাল”।

এই রকম গোলের পর অনেকের কাছে ‘হার’ মানতে হয়েছিল ফিজিক্সকে। বিশ্বের তাবড় তাবড় পদার্থ বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই নিয়ে হইচই পড়ে যায়। চার ফরাসি বিজ্ঞানী গুইলাম ডুপেক্স, অ্যানি লিগফ, ডেভিড কুয়ার এবং ক্রিস্তফ ক্ল্যানেতের মতে, সঠিক গণনা, এবং দূরত্ব ও শক্তি যদি আবার পুনরায় করা হয়, তা হলে যে কোনো খেলোয়াড় এই গোলটি করতে পারবেন।

তবে ব্রাজিলের সাও রবার্টো কার্লোস ফিজিক্স ইন্সটিটিউটের প্রোফেসর লুইস ফার্নান্দো ফন্তানারির মতে, দূরত্ব, পায়ে-বলে সময়, খুবই বিরল ছিল। ফলে অবশ্যই এটি মিরাকেল গোল। ফন্তানারি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না ভবিষ্যতে এইরকম গোল আর হবে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here