কলকাতা: শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবে এখন রোজই নিত্যনতুন খবর। আর ফুটবলের খবরকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ক্লাবের গোষ্ঠী রাজনীতির খবর। তবে সে খবর দেওয়ার আগে মাঠের খবর জেনে নেওয়া যাক।

গত মরশুমের বকেয়া টাকা মিটিয়ে নতুন মরশুমের অধিনায়ক ঘোষণা করে দেওয়া হল গোলরক্ষক শিলটন পালকে। পাশাপাশি এদিন কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তীর বকেয়া মিটিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল নতুন মরশুমের নিয়োগপত্র। জানিয়ে দেওয়া হল প্রি সিজন অনুশীলন শুরু হবে ১১জুন থেকে। তবে ক্লাবের মাঠ এখনও তৈরি না হওয়ায় প্রথম কয়েকদিন অনুশীলন হবে হাওড়া স্টেডিয়ামে। তবে ১১ তারিখ থেকে অনুশীলন শুরু হলেও ডিকা যেহেতু সদ্য দেশে ফিরেছেন, তাই তিনি অনুশীলনে যোগ দেবেন ২ জুলাই।

আরও পড়ুন: নতুন মরশুমে এখনও পর্যন্ত ২৯ ফুটবলারকে সই করিয়েছে মোহনবাগান, দেখে নিন

তবে এ সবের বাইরে এদিন মোহনবাগান তাঁবু সরগরম ছিল ক্লাবের নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে। সম্প্রতি বন্ধন ব্যাঙ্কে ক্লাবের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার কথা এদিনই প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, ক্লাবের পদত্যাগী সহ সচিব সৃঞ্জয় বসু এই অ্যাকাউন্টের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্লাবকে চিঠি দিয়েছেন। ক্লাবের এতগুলি অ্যাকাউন্ট থাকতে কেন নতুন অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হল, তাও জানতে চেয়েছেন। সহ সচিব, অর্থ সচিবকে বাদ দিয়ে সচিব নিজের ইচ্ছায় অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন না বলে তাঁর দাবি।

সূত্রের খবর, নতুন অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে বন্ধন ব্যাঙ্কের রাজপুর-সোনারপুর শাখায়। অ্যাকাউন্টে চেকে সই করার অধিকার রয়েছে সচিব অঞ্জন মিত্র, অর্থ সচিব কাশীনাথ দে এবং কর্মসমিতির সদস্য মদন দত্তর। অর্থাৎ ক্লাব চালানোর নিত্যদিনের খরচ জোগাতে এখন থেকে যা টাকা তুলতে হবে তাতে দেবাশিস দত্তর পাশাপাশি পদত্যাগী সহ সচিব সৃঞ্জয় বসুরও কোনো প্রয়োজন থাকছে না। অর্থাৎ তাঁকে ক্লাবের রোজকার কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।

বিরোধীদের দাবি, এদিন মোহনবাগানের অ্যাকাউন্ট ছিল এসবিআই-এর মেইন শাখায়। অথচ নতুন অ্যকাউন্টটি খোলা হয়েছে শহর থেকে দূরে রাজপুর-সোনারপুরে। এর কারণ, বর্তমানে ক্লাবে প্রচুন নতুন সদস্য নেওয়া হচ্ছে পুরনো তারিখ দিয়ে। যারা আসলে ‘ভূতুড়ে সদস্য’। আসন্ন নির্বাচনের দিকে নজর রেখেই এদের সদস্য করা হচ্ছে। তাঁদের সদস্যপদের টাকা জোগাবেন অন্য কেউ। সেই টাকাই জমা পড়বে বন্ধন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে। এই দুর্নীতি লুকোতেই অতদূরের শাখায় অ্যাকাউন্ট খুলেছে শাসক গোষ্ঠী।

তবে সচিব অঞ্জন মিত্র এদিন স্পষ্ট জানান, যা হয়েছে তা আইন মেনেই হয়েছে। উলটে তাঁর দাবি, যারা ক্লাবের এইসব অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ্য আনছেন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানবিরোধী কাজ করছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here