খবর অনলাইন ডেস্ক: আতান্তরে পড়েছেন ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) কিছু বিদেশি ফুটবলার এবং এক জন কোচিং স্টাফ। ৩১ মে-র পরে কলকাতায় থাকার জন্য তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হতে পারে। ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর কোয়েস গ্রুপ (Quess Group) এঁদের থাকার জন্য যে সব ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, চুক্তি অনুযায়ী তা ৩১ মে-র মধ্যে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।  

করোনাভাইরাসের (coronavirus) জেরে দেশজোড়া লকডাউনের (lockdown) পরিপ্রেক্ষিতে এঁরা এখানে আটকা পড়েছেন। এখন কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে ইস্টবেঙ্গলের বেশির ভাগ দেশি ও বিদেশি প্লেয়ার এবং কোচিং স্টাফেরা নিজেদের বাড়িতে চলে গেলেও ওই কোচিং স্টাফ-সহ কিছু বিদেশি প্লেয়ার এখানে থেকে গিয়েছিলেন।

Loading videos...

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তা সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে বলেন, “ফ্ল্যাটের চুক্তি ৩১ মে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি যা চলছে, তাতে তার পরে এঁরা কোথায় যাবেন? ওঁদের নিজেদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সময়টা তো স্বাভাবিক সময় নয়। বিমানবন্দর কাছেই। কিন্তু পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে বোঝা যাচ্ছে না।”

ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আরও এক সূত্র বলেন, আই লিগ হেভিওয়েট ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে বেঙ্গালুরুর কোয়েস গ্রুপের গাঁটছড়া ছিন্ন হওয়ার কথা ৩১ মে। এই পরিস্থিতিতে ওই খেলোয়াড়রা ৩১ মে-র পরে ওই ফ্ল্যাটগুলোতে থাকতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

কোয়েস গ্রুপ ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তাদের চুক্তির ‘ফোর্স মাজেউরে’ (Force Majeure) ধারা (প্রতিটি চুক্তির একটি অভিন্ন ধারা হল ফোর্স মাজেউরে যার বলে চুক্তিবদ্ধ যে কোনো পক্ষ নিজেদের আয়ত্তের বাইরে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা বা সৃষ্ট কোনো পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে) প্রয়োগ করে ২৫ এপ্রিল। সেই মোতাবেক ১ মে থেকে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে তারা।

ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে বলা সংক্রান্ত ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার জন্য কোয়েস গ্রুপের কোনো শীর্ষ আধিকারিককে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

এর আগে ইস্টবেঙ্গলের যে সব প্লেয়ারের একাধিক বছরের চুক্তি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে শেষ হয়েছে তাঁরা ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (FPAI) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এখন লগ্নিকারীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ভাবছেন।

কোভিড ১৯ (covid 19) অতিমারির কারণে কিছু ম্যাচ বাকি থাকতেই এ বছরের আই লিগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। চারটি ম্যাচ খেলা বাকি থাকতেই মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: আইএএনএস      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.