norde-mb

কলকাতা: মোহনবাগান জনতার কাছে খুব দুঃখের খবর হলেও এটাই বাস্তব। কিন্তু কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের কিছুটা পেছনে ফিরতে হবে। আমাদের সবারই মনে আছে, আই লিগ শেষ হওয়ার পরেই পদত্যাগ করেছিলেন বাগানের দুই শীর্ষকর্তা সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত। কারণ হিসেবে নানা কিছু বলা হলেও, ওই ঘটনার প্রধান কারণ ছিলেন সনি। ক্লাব সচিব অঞ্জন মিত্র অভিযোগ করেছিলেন, সনি যে চোট লুকিয়ে এসেছেন, সে ব্যাপারে যথাযথ খবর নেননি ডিডি-টুম্পাই। ফলে সনির সার্ভিস তো ক্লাব পায়ইনি। উলটে ৩ কোটি টাকা ক্লাবের তহবিল থেকে বেরিয়ে গেছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে স্পনসরদের থেকেও সাহায্য মেলে না। ফলে আর্থিক দায় ক্লাবকেই নিতে হয়। এ প্রসঙ্গে সনির রিক্রুটারদের প্রতি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও করেছিলেন অঞ্জনবাবু।
সনি যে এবার চোট লুকিয়ে খেলতে এসেছিলেন, সেই সন্দেহ অনেকেরই হয়েছিল। বারাসত স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচে চোট পেয়ে সনি যে ভাবে পরবর্তী ম্যাচে দাঁড়িয়ে গেলেন, তাতেই সবার সন্দেহ গাঢ় হয়। বস্তুত, সনির মতো মূল্যবান ফুটবলারকে মাথায় রেখে দল সাজায় যে কোনো ক্লাব। বার্সেলোনায় যেমন মেসি। তেমন কোনো খেলোয়াড় যদি মরশুমের শুরুতেই চোটের জন্য দলের বাইরে চলে যায়, তবে গোটা মরশুম জুড়েই মূল্য চোকাতে হয় ক্লাবকে। এবার মোহনবাগানেরও তাই হয়েছে। শুধু অঞ্জনবাবু নন, সনির ওপর ক্ষুব্ধ মোহনবাগানের ক্লাবকর্তাদের একটা বড়ো অংশ। অস্ত্রোপচারের পর সনি সুস্থ হতেই পারেন। কিন্তু সে ব্যাপারে নিখুঁত তথ্য জোগাড় করাটা কলকাতায় বসে বেশে কঠিন। তাই বিপুল অর্থ খরচ করে সনিকে নতুন করে নিয়ে বিপদ বাড়াতে চাইছেন না কেউই।
এই অবস্থায় সনিকে বাদ দিয়েই দল সাজাচ্ছে বাগান। শুধু বিদেশি নয়, স্বদেশি ফুটবলারদের ওপরও ভরসা রাখা হচ্ছে। লাজং-এর স্যামুয়েলের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা প্রায় পাকা হয়ে গেছে। তবে নামটা যেহেতু সনি নর্দে। যার সঙ্গে অসংখ্য বাগান সমর্থকের আবেগ জড়িত। তাই শেষ কথা বলা মুশকিল। তবে শেষ মুহূর্তে চমকপ্রদ কিছু না ঘটলে সনি যে এবার আসছেন না, সে কথা বলাই যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here