কলকাতা: হপ্তাখানেক আগেই সচিবের স্পনসর আসার ঘোষণায় খুশিতে উদ্বেল হয়েছিল মোহন-জনতা। পরের দিনই অবশ্য মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব ইন্ডিয়ার তিন বোর্ড সদস্য টুটু-সৃঞ্জয়-দেবাশিস বিরোধিতা করেন সেই স্পনসরের। পদত্যাগী সভাপতি টুটু বসু বলেন, ডেলয়েট সংস্থাকে দিয়ে প্রস্তাবিত স্পনসর স্ট্রিমকাস্ট সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পরই স্পনসর বিষয়ে নিজেদের মত জানাবেন তাঁরা। কিন্তু সেই খোঁজখবর নেওয়ার প্রক্রিয়া কোন অবস্থায় তা জানা গেল না। সচিব অঞ্জন মিত্র জানিয়ে দিলেন, “স্ট্রিমকাস্ট ডেড চ্যাপ্টার”।

এদিন লিগ জয় উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করা হয় মোহনবাগান ক্লাবে। হাজির ছিলেন শাসক গোষ্ঠীর সব কর্তা, সব ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফ। সচিব, ফুটবল সচিব, কোচ পতাকা উত্তোলন করেন। কিছুটা পেছনে পড়ে যান অধিনায়ক শিলটন পাল। হয় কেক কাটা, মিষ্টি খাওয়া। জানিয়ে দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফুটবলাররা বেতন পাবেন।

হইচই করে উৎসব পালনের শেষে সচিব জানান, স্ট্রিমকাস্টের স্পনসর হয়ে আসার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। ক্লাবে স্পনসর কারা হবে, তা নির্বাচনের পর ক্ষমতায় যারা আসবেন, তাঁরাই ঠিক করবেন। অঞ্জন মিত্রর বক্তব্য, নিয়ম মতো ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, সচিব, সহ সচিব ও অর্থ সচিবেরই সংস্থার ডিরেক্টর পদে থাকার কথা। এদিন তিনি বলেন, নির্বাচনের পর নতুন যে কমিটি আসবে, তাঁরা যেমন ভালো বুঝবে, সেভাবে বোর্ডের চরিত্র বদল করবে।

যদিও টুটু-সৃঞ্জয়-দেবাশিস ক্লাবের দায়িত্ব থেকে আগেই পদত্যাগ করেছেন। টুটু-সৃঞ্জয়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা না হলেও দেবাশিস দত্তর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেন অঞ্জন মিত্র তিনজনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে, তাঁদের বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স থেকে সরিয়ে দিলেন না, সে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেননি।

ঘটনা যাই হোক, আট বছর পর লিগ জয়ের পরদিনই নতুন করে খারাপ খবর শুনতে হল মোহনবাগানের সদস্য-সমর্থকদের। বিষয়টা টুটুবাবুদের কথায় আগেই বোঝা গেলেও স্পষ্ট হল এদিনই।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন