মহা অঘটন! সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ইউরো থেকে বিদায় নিল ফ্রান্স

0

সুইজারল্যান্ড– (সেফেরোভিচ-২, মারিও) ফ্রান্স– (বেঞ্জিমা-২, পোগবা)
পেনাল্টি শুট আউটে ৫-৪ গোলে ম্যাচ জেতে সুইজারল্যান্ড।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রোনাল্ডো আগেই বিদায় নিয়েছেন। এ বার বিদায় নিলেন কিলিয়ান এমবাপে, পল পোগবারাও। চলতি ইউরোর সেরা অঘটনটি ঘটিয়ে দিল সুইৎজারল্যান্ড। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে পেনাল্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল তারা।

সোমবার রাতের ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এক গোলে পিছিয়ে থেকে এক সময়ে এগিয়েও গিয়েছিল ৩-১ গোলে। সবাই ধরেই নিয়েছিলেন ফ্রান্স হাসতে হাসতে চলে যাবে ইউরো কাপের (Euro 2020) শেষ আটে। তখনই ম্যাচে প্রত্যাবর্তন সুইজারল্যান্ডের। অবিশ্বাস্য ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।

দুটো গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনেন সেফেরোভিচ এবং মারিও। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ছিল ৩-৩। ১২০ মিনিটের শেষেও স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে। এক্সট্রা টাইমে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্রান্স। কিন্তু এমবাপে-জিরুরা গোল করতে পারেননি।

এর পর পেনাল্টি শুট আউটে ঘটে যায় মহা অঘটন। ৫-৪ গোলে ম্যাচ জেতে সুইজারল্যান্ড। এ বারের ইউরো কাপে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দৌড় থেমে গেল। শেষ আটে স্পেনের সামনে সুইসরা।

প্রথমে দাপট ছিল সুইৎজারল্যান্ডেরই

সুইজারল্যান্ডের (Switzerland) বিরুদ্ধে শুরুটা ভালো করেনি ফ্রান্স। সুইসদেরই দাপট ছিল গোড়ায়। ১৫ মিনিটে জুবেরের সেন্টার থেকে হেডে গোল করেন সেফেরোভিচ। কার্যত বিনা বাধায় গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি। পিছিয়ে পড়লেও জেগে ওঠেনি ফ্রান্স। বরং বলা ভাল সুইসরা গোলের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল।

৫৭ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিলেন গ্রিজম্যান-এমবাপেরা। তার পরেই ছোট্ট একটা ফরাসি ঝড় উঠল। দু’ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ফেলেন করিম বেঞ্জিমা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে গোলের মধ্যে ছিলেন না তিনি। পর্তুগালের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন। এ দিন আবার গোল পেলেন। 

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। বে়ঞ্জামিন পাভার্ডের অবৈধ ট্যাকল থেকে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে রিকার্ডো রডরিগেজ গোল করতে পারেননি। তাঁর দুর্বল পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লরিস।

এর পরেই ফ্রান্সের আগ্রাসন। পাসের বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে এমবাপের কাছ থেকে বল পান বেঞ্জিমা। প্রথমটায় ঠিক মতো বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি। সুইস গোলকিপার গোলমুখ ছোট করে বেরিয়ে এসেছিলেন। বেঞ্জিমা এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে বাঁ পা দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে সুইজারল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন। তার ঠিক দু’ মিনিট পরেই ফের গোল বেঞ্জিমার। গ্রিজম্যান সুইসদের ডিফেন্সে কাঁপুনি ধরিয়ে ফাঁকায় দাঁড়ানো বেঞ্জিমার উদ্দেশে সেন্টার করেন। হেড করে গোল করতে ভুল করেননি বেঞ্জিমা।

৭৫ মিনিটে পল পোগবার দুরন্ত গোল। ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে ইয়ান সমারকে পরাস্ত করেন তিনি। ম্যাচ তখন ফ্রান্সের দখলে। সেই ম্যাচে যে অবিশ্বাস্য ভাবে ফিরে আসবে সুইজারল্যান্ড, তা কেউই বুঝতে পারেননি।

৮১ মিনিট থেকে ম্যাচে ফেরে সুইৎজারল্যান্ড

৮১ মিনিটে সেফেরোভিচ ফের হেডে ব্যবধান কমান। এ ক্ষেত্রেও তাঁকে সেভাবে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। ৯০ মিনিটে মারিও সমতা ফেরান সুইসদের হয়ে। কিছুক্ষণ আগে তাঁর গোলই অফসাইডের অজুহাতে বাতিল করা হয়। সেই মারিও অক্সিজেন ছড়িয়ে দিয়ে যান সুইজরাল্যান্ডের শিবিরে।

৩-৩ অবস্থায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়। ওই আধঘণ্টার খেলাতেই কোনো দল কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় পেনাল্টি শুট আউটের মাধ্যমে। এখানেই গণ্ডগোলটি করে ফেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। শুটআউটে একমাত্র তিনিই গোল করতে ব্যর্থ হন, যেটাই দিদিয়ার দেশচ্যাম্পের দলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়ে চলে যায়।

আরও পড়তে পারেন এল সরকারি ঘোষণা, ভারতে হচ্ছে না টি২০ বিশ্বকাপ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন