East Bengal Football Club

সমীর গোস্বামী: “ছোটো বেলায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্র্যাকটিশ ম্যাচ মিস করতাম না। প্রতিদিন নিয়ম করে ওই ম্যাচ দেখতাম। শধু দেখতাম বললে ভুল হবে, দাঁড়িয়ে থাকতাম চাতক পাখির মতোই। একেবারে গোল পোস্টের পিছনে ওঁৎ পেতে থাকতাম কখন একটা বল গোলরক্ষকের হাত ফসকে আমার কাছে আসবে। আর আমি নেব একটা দুর্দান্ত শট। এ ভাবেই কেটে যাচ্ছিল। এক দিন একটা বল হাওয়া থেকে মাটি ছুঁয়ে ফেলার আগেই নিয়ে ফেললাম একটা শট। যা দেখে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এক ফুটবলার তো অবাক। তিনি আমাকে ডাকলেন। বললেন, ‘তোর পা দেখি।’

বেশ কিছু পর্যবেক্ষণের পর তিনি সরাসরি আমাকে বললেন, ‘ফুটবল খেলবি?’

আমি তো এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। না বলতে পারিনি। সত্যি কথা বলতে কী, তার পর থেকে আমার জীবনে শুধুই ফুটবল।”

এক সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার স্বামী নায়ার। কলকাতা লিগে ১৯৬৪-এ তিনি ৩৬টি গোলের যে রেকর্ড গড়েছিলেন তা আজও অক্ষত রয়ে গিয়েছে। অতীতে সাহু মেওয়ালাল এবং আকবর দু’বার সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান পেয়েছেন, কিন্তু নায়ারকে টপকাতে পারেননি। মেওয়ালাল তো ৩৫ গোল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার বেশি এগোতে পারেননি।

কিন্তু এমন একজন ফুটবলারের শেষ জীবনটা মোটেই ভালো ভাবে কাটেনি। তাঁর নিজের ক্লাব বা আইএফএ সে ভাবে কোনো দিন খোঁজখবরও রাখেনি। তেমন অনেক কাহিনিই শুনেছিলাম তাঁর নিজের মুখ থেকেই। পার্ক সার্কাসের কাছে ডিহি শ্রীরামপুর রোডে থাকতেন নায়ার।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন