procession in jalpaiguri
স্বপ্নার স্কুলের মিছিল। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শুধু একটা ‘স্বপ্না’ই নয়, আরও অনেক ‘স্বপ্না’ আছে। সুযোগ পেলে, সহযোগিতা পেলে, সরকার সাহায্য করলে তারাও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে – এ কথাই শুক্রবার জলপাইগুড়ি শহরে জানান দিয়ে গেল স্বপ্নার স্কুল। জানান দিয়ে গেল শহরে মিছিল করে।

কালিয়াগঞ্জ উত্তমেশ্বর হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী স্বপ্না বর্মণ। এশিয়াডে হেপ্টাথেলনে সোনা এনে বাংলা তথা ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার জন্য গর্বিত তার স্কুল। তাদের সেই গর্ব জেলাসদরের বাসিন্দাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শহর জুড়ে তারা মিছিল করল। তারা মানে স্কুলের সবাই – ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকশিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারীরা। হাতে ছিল স্বপ্নাকে অভিনন্দন জানানোর পোস্টার, সঙ্গে ছিল ব্যান্ডপার্টির দু’টি দল।

আরও পড়ুন স্বপ্নার স্বপ্নপূরণের দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

স্বপ্নার স্কুল জলপাইগুড়ি শহর থেকে সাত কিলোমিটার। স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৫৪০। ১৫টি ট্রাক তিনটি করে ট্রিপ দিয়ে সকলকে জড়ো করে মিলন সংঘের মাঠে। সেখান থেকেই শুরু হয় মিছিল। ঘড়িতে তখন বেলা ২টো। তার পর শিল্পসমিতিপাড়া, উকিলপাড়া, কদমতলা, ডিবিসি রোড হয়ে থানা মোড় দিয়ে ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের পাশ দিয়ে মার্চেন্ট রোড ধরে মিছিল এগিয়ে যায় বেগুনটারির দিকে। তার পর বেগুনটারি থেকে ডান দিকে ঘুরে ফের শিল্পসমিতিপাড়া হয়ে মিছিল এসে শেষ হয় মিলন সংঘের মাঠে।

মিছিল শেষ হওয়ার পর সব ছাত্রছাত্রীকে ঠান্ডা পানীয় দেওয়া হয়। তার পর ট্রাকে করে আবার কালিয়াগঞ্জের স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুল সূত্রে জানা যায়, স্কুলের সব ছাত্রছাত্রীকে এ দিন ভাত ও ডিমের ঝোল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মণের জন্য বিশেষ ‘উপহার’ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান, স্বপ্নার মতো আরও অনেক অ্যাথলিট তাঁদের স্কুলে আছে। তারা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ে। এদের তুলে আনার জন্য চাই সরকারি উদ্যোগ। এদের অনেকেই এ দিন জলপাইগুড়ি শহরে মিছিলে শামিল হয়েছিল। মিছিলে ছিল সৈয়দ আলম, ডাব্লি বেগম, দিবাকর রায় এবং আরও অনেকে। এদের প্রত্যেকেরই আদর্শ এখন স্বপ্না। প্রত্যেকেই চায় দেশের জন্য পদক আনতে। চোখে এদের অনেক স্বপ্ন। এদের সকলেরই সাংসারিক অবস্থা বেশ খারাপ। এক দিনমজুরের ছেলে সৈয়দ আলম দ্বাদশের ছাত্র। ৮০০ মিটার, ১৫০০ মিটার এবং ৫০০০ মিটার দৌড়ে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল স্পোর্টসে চ্যাম্পিয়ন। তারই সহপাঠী ডাব্লি জেলা স্কুল স্পোর্টসে শটপাট, ডিসকাস এবং জ্যাভেলিন ছোড়ায় চ্যাম্পিয়ন। তার বাবার লটারির টিকিটের ছোট্ট দোকান পাতকাটার মোড়লপাড়ায়। আরেক সহপাঠী দিবাকর স্কুল স্পোর্টসে জেলায় হাইজাম্পে প্রথম, ট্রিপল জাম্প এবং ১০০ মিটার দৌড়ে তৃতীয় হয়েছে। ক্লাব স্পোর্টসে হাইজাম্পে দ্বিতীয় হয়েছে। তার বাবা ক্ষুদ্রচাষি। এ ছাড়াও এ দিন মিছিলে আসতে পারেনি মুন্নি বেগম, আরমান মালিক ও রিমা রায়। মুন্নি অ্যাথলিট, এখন আছে কলকাতায়, সাই-এ। আরমান ফুটবলার আর রিমা অ্যাথলিট, দু’ জনেই রয়েছে জলপাইগুড়ির সাই-এ।

স্বপ্নাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক জীবেন্দ্রনাথ সরকার জানালেন, স্কুলে প্রচুর সম্ভাবনাময় অ্যাথলিট আছে। সকলেই নিম্নবিত্ত পরিবারের। সরকার এদের দিকে নজর দিলে স্বপ্নার মতো তারাও উঠে আসবে।

কালিয়াগঞ্জের স্কুলটির স্বপ্নার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে খরচ হল ৪০ আজার টাকা। স্কুলের উন্নয়ন তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা এবং কোঅপারেটিভ ফান্ড থেকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা স্কুলের শিক্ষকশিক্ষিকারা বহন করেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন